প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার সাথে থাই সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস জেনারেল সুরাপং সুয়ানা এডিথের সাক্ষাৎ : বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য ও পর্যটন বিকাশে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর সাথে থাই সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস জেনারেল সুরাপং সুয়ানা এডিথ সাক্ষাৎ করতে গেলে দু’দেশের পারস্পরিক কল্যাণে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা ও পর্যটন বিকাশে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা। ৭ আগস্ট জেনারেল সুরাপং সুয়ানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে রাজকীয় থাই সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস দু’দেশের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য আরও বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশের পর্যটন শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’দেশ পর্যটন বিকাশে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে। তিনি থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। জেনারেল সুরাপং সুয়ানা এডিথ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি রায় বাংলাদেশি শান্তিরীদের অবদানেরও প্রশংসা করেন। থাই প্রতিরা বাহিনী প্রধান বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের প্রশংসা করে বলেন, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলের মানুষকে রায় বঙ্গবন্ধুই প্রথম এ ধরনের বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে থাই
প্রতিরা বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ
থাই সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস জেনারেল সুরাপং সুয়ানা এডিথ-এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ৬ আগস্ট ঢাকায় আসেন। এ সময় বিমানবন্দরে জেনারেল সুরাপংকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব অর্ডিন্যান্স মেজর জেনারেল মো. আব্দুস সালাম খান। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করেন।
রাজকীয় থাই প্রতিরা বাহিনী প্রধান ৭ আগস্ট ঢাকা সেনানিবাসের সেনা সদরদপ্তরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক-এর সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করেন। সাাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দু’দেশের সেনাবাহিনীর বিদ্যমান সুসম্পর্ক, প্রশিণ ও পেশাগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে রয়েল থাই প্রতিরা বাহিনী প্রধান বনানীর নৌসদর দপ্তরে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করেন। এ সময় নৌসদরের পিএসওগণ, থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডিফেন্স অ্যাটাশে, প্রতিনিধি দলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌসদরের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাাৎকালে জেনারেল সুয়াপং সুয়ানা নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তারা পেশাগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এর আগে, জেনারেল সুরাপং সুয়ানা এডিথ নৌসদরে এসে পৌঁছালে সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মকবুল হোসেন তাকে স্বাগত জানান।
থাই প্রতিরা বাহিনী প্রধান জেনারেল সুরাপং সুয়ানা এডিথের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি পরে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল আবু এসরার এর সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করেন। সাাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও দ্বিপীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এর আগে থাই প্রতিরা বাহিনী প্রধান ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর, সেনাকুঞ্জে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকসদল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
থাই সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস জেনারেল সুরাপং সুয়ানা এডিথের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিভিন্ন সামরিক-অসামরিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে ৮ আগস্ট ঢাকা ত্যাগ করে।