কলাম

উন্মুক্ত মতামত

শিশুদের সাঁতার শেখান

নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, যা মোট শিশু মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ। আর প্রতিদিন গড়ে ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি আধা ঘণ্টায় মারা যায় একটি শিশু! সেভিং লাইভস ফ্রম ড্রনিং প্রজেক্ট (সলিড) ইন বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
আমি হাওর এলাকার দশম শ্রেণির একটি ছেলেকে জিজ্ঞেস করে জানলাম যে, সে সাঁতার জানে না। আমি খুবই অবাক হয়েছি! হাওরাঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ার কারণে তারই সাঁতার জানা বেশি দরকার ছিল। আর শহরের ছেলে-মেয়েদের তো সাঁতার জানার হার খুবই কম। শহরের শিশুরা ঈদের ছুটিতে গ্রামে যায়। তখনও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কাজেই এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত। শিশুদের সাঁতার শেখানোর ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। আগামীতে আমরা এমন দৃশ্য দেখতে চাই নাÑ একজনের চোখের সামনে আরেকজন ডুবে যাচ্ছে; কিন্তু সে শুধু সাঁতার না জানার কারণে চিৎকার ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না!
তৌহিদুল ইসলাম
শিার্থী, এলএলবি প্রথম বর্ষ
ন্যাশনাল ল’ কলেজ, মগবাজার, ঢাকা

নার্সিং পেশায় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আবেদন

সকল বিভাগের সকল স্তরের চাকরিজীবীরা গেজেট অনুপাতে সিলেকশন গ্রেডসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নার্সিং পেশায় কর্মরত কোনো কর্মকর্তা আজ পর্যন্ত সেসব সুবিধা ভোগ করতে পারেননি। ২০১৫ সালে প্রণীত পে-স্কেল গেজেটে ৪ নম্বর কলামের দ্বিতীয় স্তবকে সুস্পষ্টভাবে বলা আছেÑ ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বরের পূর্বে যারা টাইমস্কেল প্রাপ্ত হয়েছেন তারা সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পাবেন। অথচ নার্সিং পেশার েেত্র বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে কালপেণ করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতায় আসার পর বারবার ঘোষণা দিয়েছেন, সকলের পদোন্নতির সুযোগ উন্মুক্ত করতে। কিন্তু যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এবং পদ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ পদে পদায়ন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত অথবা নিজ বেতনে। যার কারণ খুঁজলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সঠিক জবাব দিতে পারবে না। পরিশেষে উল্লেখিত দুটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. আশিকুর রহমান
সিনিয়র স্টাফ নার্স
দামুরহুদা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স , চুয়াডাঙ্গা

শিকদের জন্য চাই পৃথক বেতন স্কেল

৮ম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু বেসরকারি শিক-কর্মচারীদের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বিশেষ করে টাইম স্কেল তুলে দেয়ার কারণে সারা জীবন একই পদে তাদের থাকতে হবে। এই মানুষ গড়ার কারিগররা আজ রাষ্ট্রে সবচেয়ে অবহেলিত ও বেতনবৈষম্যের শিকার। এমপিওভুক্ত শিকরা বৈশাখী ভাতা ও ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত। অথচ ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিানীতিতে সকল স্তরের শিকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে বাড়ি ভাড়া মাত্র ১ হাজার টাকা, যা দিয়ে বাড়ি ভাড়া তো দূরে থাক বর্তমানে একটি কুঁড়েঘরও ভাড়া পাওয়া যায় না। চিকিৎসা ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা। উৎসব ভাতা কর্মচারীরা পান বেসিকের ৫০ শতাংশ আর শিকরা মাত্র ২৫ শতাংশ।
মানসম্মত শিা নিশ্চিত করতে হলে শিকদের ভালো বেতন দেয়ার বিকল্প নেই। সুতরাং সকল স্তরের শিকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ পৃথক বেতন স্কেল চালু করে একইসঙ্গে টাইম স্কেল পুনর্বহালের জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানাচ্ছি।
মো. মোশতাক মেহেদী
সহকারী শিক, বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুমারখালী, কুষ্টিয়া

কুমিল্লা বোর্ড কর্তৃপরে কাছে নিবেদন

এ বছর কুমিল্লা বোর্ডের এসএসসি পরীার পর এইচএসসি পরীায়ও ফল বিপর্যয়ে অভিভাবক ও পরীার্থীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে কুমিল্লা বোর্ডের পরীার্থীদের অন্যান্য বোর্ডের পরীার্থীদের কাছে দুর্বল হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। কঠোরভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে অবমূল্যায়ন হয়েছে কি না এবং পরীার্থীদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে কি না তা ভেবে দেখা দরকার। যারা কাক্সিত ফল লাভ করতে পারেনি তাদের অনেকে খাতা পুনর্নিরীণের জন্য বোর্ড কর্তৃপরে কাছে আবেদন করেছে। এতে হয়ত পরীার্থীদের আরেকটি বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে। কারণ খাতা পুনর্নিরীণে বোর্ড কর্তৃপরে উদাসীনতা এবং দায়সারাভাব ল্য করা যায়।
জানা গেছে, পুনর্নিরীায় বোর্ড কর্তৃপ যথাযথ মূল্যায়ন না করে শুধু খাতায় প্রাপ্ত নম্বর ঠিক আছে কি না তা যাচাই করে। ফলে খাতা পুনর্নিরীা করতে অনেকেই আগ্রহ দেখান না। তারা মনে করেন, খাতা পুনর্নিরীণে কোনো লাভ নেই। তারপরও কথায় আছে, ‘সংসার সাগরে সুখ-দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশাই তার একমাত্র ভেলা।’ তাই এক বুক আশা নিয়ে অনেকে খাতা পুনর্নিরীার জন্য আবেদন করেছে। এবার যেহেতু কুমিল্লা বোর্ডে চরম ফল বিপর্যয় হয়েছে এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা অন্যান্য বোর্ডের চেয়ে কম, তাই সহানুভূতি ও আন্তরিকতার সঙ্গে যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করা হোক। এতে বোর্ডের ভাবমূর্তি কমবে না, বরং আরো উজ্জ্বল হবে।
মো. আবুল কালাম আজাদ
কলেজ রোড, লক্ষ্মীপুর

বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগ পরীার ফি নেয়া বন্ধ করুন

দেশের অনেক বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগ পরীার নামে আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা ফি। ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দেশের জন্য অভিশাপ। একজন চাকরিপ্রার্থী যে কতটা দুর্দশার মধ্যে থাকে, সেটি শুধু সে-ই জানে। এ সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে অনেক বেসরকারি সংস্থা ফায়দা লুটছে। নিয়োগ দেয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অনেক টাকা। পরীার ফি নিয়েও আবেদনকারীকে বাছাইয়ের নামে বাদ দেয়া হচ্ছে। একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বারবার দিয়ে হাজারো বেকারের কাছ থেকে চাওয়া হয় আবেদনপত্র ও পরীার ফি। ফলে বারবার দিতে হয় পরীার ফি। বেসরকারি সংস্থায় চাকরির পরীার ফি বাবদ টাকা আদায় বন্ধ করা উচিত। সরকারি সংস্থায় যেখানে পরীায় ফি নেয়া হয় ১০০ টাকা, সেখানে বেসরকারি সংস্থায় নেয়া হয় ৩০০ বা ৪০০ টাকা। সরকারের কাছে আবেদন, বেসরকারি সংস্থাগুলো যেন নিয়োগ পরীার নামে ব্যবসা করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মো. আবু তাহের মিয়া, পীরগঞ্জ, রংপুর