ফিচার

পার্লারের মতো হুবহু নিখুঁত গ্ল্যামারাস মেকআপ করার কিছু দারুণ কৌশল

ঈদের দিন হয়ে উঠুন আকর্ষণীয়। সৌন্দর্য শুধু অন্যকে দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সৌন্দর্য চর্চা একটি অপরিহার্য বিষয়। ঈদ উৎসবের সাথে সাজগোজ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য ঈদের দিনে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার কিছু টিপস দেয়া হলো।

চুলের যতœ : চুলই যদি নির্জীব থাকে তাহলে ঈদের সাজে কি পূর্ণতা আসে? ঝলমলে চুলের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন মাথায় তেল দিন। নারিকেল তেলের সাথে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
ঈদের ঠিক ১ দিন আগে আপনার চুলে আগে হট অয়েল ম্যাসেজ করুন, তারপর আমলা পাউডার ও ১-২টি ডিম একসাথে মিশিয়ে পেস্ট করে চুলে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। এরপর খুব ভালো করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন এবং কন্ডিশনার লাগান।
হাত ও পায়ের পরিচর্যা : প্রথমে একটি বোলে হালকা গরম পানি, শ্যাম্পু, লবণ এবং ভিনিগার মিশিয়ে তাতে হাত-পা ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ভালোমতো হাত-পা মুছে নিন। একটি বাটিতে মুলতানি মাটি, সামান্য লেবুর রস এবং পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং হাতে এবং পায়ে লাগিয়ে না শুকানো পর্যন্ত অপো করুন। শুকিয়ে গেলে খুব ভালোমতো ধুয়ে এবং মুছে ভালো কোনো বডিলোশন লাগান।
মেকআপ : ত্বক পরিচর্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের মেকআপ রয়েছে। এসব মেকআপ আশপাশের বিউটিপার্লারে অর্থের বিনিময়ে করানো যায় অথবা হাতে সময় ও ধৈর্য থাকলে এসব মেকআপ ঘরে বসেই করা যায়। নিচে স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য এ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়া হলো।
ত্বক পরিষ্কার করা : প্রথমে মেকআপের জন্য ত্বককে তৈরি করুন। ভালো মানের ফেইসওয়াশ বা কিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার মুখের ময়লা সব চলে যাবে এবং মেকাআপ ভালোভাবে আপনার ত্বকের সাথে মিশে যাবে।
ময়েশ্চারাইজিং : হালকা কোনো ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন দিয়ে কপাল, নাক, মুখ, চোখের চারপাশে ম্যাসেজ করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপো করুন যাতে লোশন বা ক্রিম ত্বকের সাথে মিশে যায়। ময়েশ্চারাইজিং মেকআপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ফাউন্ডেশন : ত্বক পরিষ্কারের পর শুরু হবে মেকআপ পর্ব। পারফেক্ট মেকআপ শুরু হয় ভালো বেস দিয়ে। বেসের প্রথম শর্ত হলো নিজের ত্বক অনুযায়ী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা। ফাউন্ডেশন নির্বাচন করতে হবে নিজের গায়ের শেড থেকে এক অথবা দুই শেড হালকা। হালকা রঙ ত্বককে উজ্জ্বল দেখাবে। শেডিং-এর জন্য গাঢ় রঙ দরকার। আপনার ত্বকের শেড অনুযায়ী অয়েল ফ্রি ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। তাহলে মেকআপ ভালোভাবে বসবে। মুখ তৈলাক্ত হলে পাউডার ফাউন্ডেশন লাগান।
কনসিলার : কনসিলার আপনার মুখের দাগ ও চোখের নিচের কালি ঢেকে দেয়। নিজের স্কিনটোনের সাথে মিলিয়ে কনসিলার কিনতে হলে আপনার ফাউন্ডেশন থেকে অর্ধেক শেড হালকা থেকে শুরু করুন। ত্বকের গ্লেমিস বা কালোদাগ দূর করতে আপনার ফাউন্ডেশনের চেয়ে এক শেড হালকা তবে ব্ল্যাক আন্ডারটোনের কনসিলার ব্যবহার করুন। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল থাকলে সবুজ বা হলুদ রঙের কনসিলার বেছে নিলে ভালো কাজ করবে। তবে আপনি যদি ব্রণের দাগ ও চোখের নিচের কালো দাগ ফাউন্ডেশন দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন তবে কনসিলার ব্যবহার না করলেও হবে।
ফেইস পাউডার : বড় মেকআপ ব্রাশ দিয়ে সম্পূর্ণ মুখে ফেইস পাউডার ব্রাশ করুন। পাউডার পাফ অথবা ফেইস পাউডারের সাথে দেয়া স্পঞ্জ দিয়ে হালকা করে বেইজের ওপর বুলিয়ে বেইজ সেট করে নিন।
চোখের মেকআপ : বেইজের পর আসে চোখ সাজানোর পালা। চোখের সাজে শুরুতে চোখের ওপরের পুরো জায়গায় আই প্রাইমার দিন। এরপর আইশ্যাডো দিতে হবে। ড্রেসের সাথে মিলিয়ে দুই বা তিন শেডের আইশ্যাডো দিতে পারেন। বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে ব্যবহার করতে পারেন বাদামি আইশ্যাডো।
ফলস ল্যাশেস : চোখ দুটোকে চটজলদি বড় আর মায়াবী করে ফেলতে কৃত্রিম পাপড়ির জুড়ি নেই। বাজারে নানা দৈর্ঘ্য ও ডিজাইনের কৃত্রিম পাপড়ি পাওয়া যায়। পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন যেকোনো প্রকারের আই ল্যাশেস।
আইলাইনার : এরপর আইলাইনার চোখের ওপরে বা নিচে দিতে হবে। লিকুইড, জেল ও পেন্সিল যেকোনো ধরনের আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আইলাইনারের বিকল্প হিসেবে কাজলও ব্যবহার করতে পারেন। আইলাইনার চিকন করে আই ল্যাশেসের ওপর দিতে হবে। যদি আপনি মোটা করে আইলাইনার দিতে চান তবে প্রথম আইলাইনার শুকানোর পর আরেকবার দিতে পারেন।
মাশকারা : আইলাইনারে পর মাশকারা দেয়ার পালা। চোখ আকর্ষণীয় করার জন্য ঘন করে মাশকারা দিতে হবে। একবার মাশকারা দিয়ে কিছুণ রেখে আবার মাশকারা দিন। মাশকারা দেয়ার সময় চোখের ওপরের পাতা ওপরের দিকে উঠিয়ে দিতে হবে। পাতাগুলো যেন একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে না যায়। আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন।
ভ্রু-র সাজ : আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন। ভ্রু-কে ন্যাচারাল লুক দিতে চাইলে ভ্রুর রঙের থেকে হালকা রঙের আইশ্যাডো বেছে নিয়ে তা হালকা করে ভ্রুয়ের ওপর বুলিয়ে নিন। এরপর সেই রঙের কাজল দিয়ে হালকা করে ভ্রু এঁকে নিন। এরপর আইব্রো ব্রাশ দিয়ে ভ্রুয়ের শেপ ঠিক করে নিন।
লিপস্টিক : লিপস্টিক দেয়ার আগে ঠোঁট ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। এরপর হালকা করে লিপ বাম বা ভ্যাসলিন লাগান। ৫০ সেকেন্ড অপো করুন। ভ্যাসলিন বা লিপ বাম শুকিয়ে গেলে লিপস্টিক দিন। দিনে ঠোঁটের সাজে ম্যাট লিপস্টিক দিলে ভালো। রাতে ভারী লিপগ্লস ব্যবহার করতে পারেন। লিপস্টিক দীর্ঘণ ঠোঁটে রাখার জন্য প্রথমে লিপস্টিক থেকে এক শেড গাঢ় লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আঁকতে হবে। এতে লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়বে না । এবার টিস্যু দিয়ে চেপে নিতে হবে। হাতের কাছে পাউডার থাকলে পাউডার দিয়ে চাপ দিয়ে আবার লিপস্টিক লাগাতে হবে।
ব্ল্যাশন : পুরো সাজ শেষে ব্ল্যাশন ব্যবহার করতে হবে। ব্ল্যাশনের রঙ হিসাবে আপনি গোলাপি বা পিচ রঙ ব্যবহার করতে পারেন। উজ্জ্বল রঙের অধিকারীরা হালকা শেডের ব্ল্যাশন আর শ্যামলা বা তার থেকে গাঢ় রঙের ত্বকের জন্য গাঢ় শেডের ব্ল্যাশন ব্যবহার করতে পারেন।