প্রতিবেদন

বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় পালিত হলো জাতীয় শোক দিবস : শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যথাযথ মর্যাদা, বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় দেশজুড়ে পালিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। শোকাবহ ১৫ আগস্টে শোকাচ্ছন্ন নীরবতায় থমকে গিয়েছিল গোটা দেশ। যেন শোকস্তব্ধ দেশের সব প্রান্তর। ৪২ বছর হয়ে গেল, এখনও মৃত্যুঞ্জয়ী মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে এতটুকু ভোলেনি কৃতজ্ঞ বাঙালি। নতুন শপথে বলীয়ান বাঙালি জাতি ৪২ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। এবার শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের স্রোত অতীতের সকল রেকর্ড ম্লান করে দেয়। জাতীয় শোক দিবসে সর্বত্রই উচ্চারিত হয়েছে প্রধানত ৩টি দাবি। তা হলোÑ শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়ন, পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে পৃথক কমিশন গঠন।
এই দৃঢ় প্রত্যয় আর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি রাজধানী ঢাকা এবং বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল টুঙ্গিপাড়াসহ সারাদেশে বেদনাবিধুর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতীয় শোক দিবস পালনকালে সবাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার পাশাপাশি তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা স্মৃতিভারাক্রান্ত হয়ে বিনম্র চিত্তে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। নানা আনুষ্ঠানিকতায় দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে জাতির পিতার ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। প্রাণের অর্ঘ্যে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও ুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নত দেশ গড়ার দৃঢ় শপথ গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলো ছড়িয়ে
পড়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু ব্যক্তি নামে সীমাবদ্ধ নন, তিনি একটি আদর্শ। তাঁর আদর্শের আলো ছড়িয়ে পড়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী। তাই ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শকে যে হত্যা করা সম্ভব নয়, তা পঁচাত্তরের ঘাতকচক্র ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের জানিয়ে দিল জাতি। আদর্শিক বঙ্গবন্ধু যে চিরঞ্জীব তা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়াÑ দেশের পথে-প্রান্তরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের অস্বাভাবিক ঢল আবারও প্রমাণ করেছে। ৪২ বছর হয়ে গেল এখনও কৃতজ্ঞ বাঙালি এতটুকুও ভোলেনি সেই বজ্রকণ্ঠের মহামানবকে। যিনি শুনিয়েছিলেন সেই অমর বাণীÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদতবার্ষিকীতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার শোকার্ত মানুষের ঢল। শহরজুড়ে দেয়ালে-দেয়ালে শোকের পোস্টার। সর্বত্র শোকের তোরণ, কালো পতাকা, বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের সেই ভাষণ ও স্মৃতি জাগানিয়া গানে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পরিবেশটাই পাল্টে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণের পাশাপাশি দেশের সর্বত্র শোকার্ত লাখো মানুষের কণ্ঠে ছিল একই স্লোগানÑ ‘কে বলেছে মুজিব নাই, মুজিব আছে সারা বাংলায়, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফাঁসি চাই ইত্যাদি।
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বেদনার্ত অশ্রু
সাধারণ গৃহিণী, ছিন্নমূল মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির, সব বয়সের লাখ লাখ মানুষ ব্যথাতুর হৃদয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতাকে। বিশেষ করে বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সব হারানোর বেদনার্ত অশ্রু সবাইকে আবেগতাড়িত করে। দুই বোন বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে ঘাতকের বুলেটে যে স্থানে বঙ্গবন্ধুর মতো মহাপুরুষের নিথর প্রাণ পড়ে ছিল সেখানে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ও নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ভয়াল ওই রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রতিবারের মতো এবারও জাতির পিতার শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়েছে। সকালে দেশ ও জাতির প থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শোকের কর্মসূচির সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশই যেন শোকের লাখ লাখ কালো ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ঢেকে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন এবং টুঙ্গিপাড়ার মাজারস্থল হয়ে উঠেছিল শোকার্ত লাখো মানুষের মিলন-মোহনা। দিনভর কৃতজ্ঞ বাঙালির শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে উঠেছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর জাতির পিতার প্রতিকৃতি, টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর মাজার এবং বনানীর ১৫ আগস্টের শহীদদের সমাধিস্থল।
শোকাচ্ছন্ন নীরবতায় যেন থমকে গিয়েছিল গোটা দেশ। শোকস্তব্ধ হয়ে উঠেছিল দেশের সব প্রান্তর। ৪২ বছর হয়ে গেল, এখনও মৃত্যুঞ্জয়ী মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে এতটুকু ভোলেনি কৃতজ্ঞ বাঙালি। বরং নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে বাঙালি জাতি ৪২ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করেছে। কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনও বা মুষলধারে বৃষ্টি এমন বৈরী আবহাওয়া, অন্য দিকে আত্মঘাতী বোমা হামলার আতঙ্কÑ কোনো কিছুই শোকার্ত মানুষের ঢল থামাতে পারেনি।
৩২ নম্বরের মতো রাজধানীর বনানীতেও ছিল একই চিত্র। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনানীতে শায়িত শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার পর পৌনে ৮টায় এলাকা ত্যাগ করেন। বনানী কবরস্থানেও শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ঢল ছিল। রাজনৈতিক দল ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা, দপ্তর, বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দুপুরের পর রাজধানীর সকল ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লায় মিলাদ মাহফিলের পর এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির ভেতরে যান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ পড়েছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি। পরে ওই ভবনের একটি কে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় আধা ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বনানী কবরস্থানে যান শেখ হাসিনা। সেখানে মা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৫ আগস্ট শহীদদের প্রতিটি কবরে গোলাপের পাপড়ি ছিটান শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারা। পরে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মোনাজাতে দেশ-জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এ দুটি স্থানেও তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুর প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে বাদ আসর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সব হারানোর বেদনার্ত অশ্রু সবাইকে আবেগতাড়িত করে।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দণি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় প্রেসকাব, বিএফইউজে, ডিইউজেসহ অজস্র সংগঠন দিনভর জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
জাতীয় শোক দিবস উপলে শেরেবাংলা নগরের প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়টির সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া। এ সময় জাতির পিতার ওপর নির্মিত ৩৪ মিনিটের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা শেষে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এ (বিইউপি) দিনব্যাপী কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এমপি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী।
এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতাভোগী হুইল চেয়ারধারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও ট্রাস্টের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জাতির পিতার জীবনী নিয়ে সংপ্তি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রামী ঐক্য পরিষদ জাতীয় শোক দিবস উপলে শোক মিছিল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। কমিটির সভাপতি এস এম গোলাম মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান মাসুদ এতে নেতৃত্ব দেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলে বঙ্গভবনে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত মিলাদে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অংশ নেন। মিলাদ শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে নৃশংসভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মিলাদে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরাসহ বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। বঙ্গভবন মসজিদের পেশ ইমাম সাইফুল কবীর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর আগে দরবার হলে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তৈরি প্রামাণ্য চিত্র ‘সোনালি দিনগুলি’ প্রদর্শিত হয়।
শেষ কথা
সভ্যতার ইতিহাস, মানুষের ইতিহাস সামনের দিকে চলে। পশ্চাতে ফেলে আসে মিথ্যার ইতিহাস। ইতিহাসের অগ্রযাত্রাকে পাকিস্তানি শাসকচক্র ও তাদের বাংলাদেশের উত্তরসূরিরা ভিন্নপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে এবং করছে। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী যেমন আস্তাকুঁড়ে নিপ্তি হয়েছে, তেমনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানকে যারা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে তাদের নিয়তি আইয়ুব, ইয়াহিয়া খানের মতোই হবে। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির প্রতীক। বাঙালি জাতির ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের আদর্শ এক ও অভিন্ন। এই ইতিহাস ও আদর্শ হাজার হাজার বছর টিকে থাকবে বিশ্ব ইতিহাসের অংশ হিসেবে। শত ষড়যন্ত্র করেও একে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না।