কলাম

উন্মুক্ত মতামত

খেলার মাঠ ফিরিয়ে দিন

ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কুলে একটি খেলার মাঠ নেই। এমনটা হরহামেশা দেখা যায়। টিফিনের ফাঁকে, ছুটির পরে ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা করে না। মাঠ নেই, দৌড়াদৌড়ি করবে কোথায়? কাসে বসে কেউ ঝিমায়, কেউবা ভিডিও গেম খেলে; যা শরীরের জন্য ভালো নয়। রাজধানীর অসংখ্য স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয় না। স্কুলে খেলার মাঠ থাকবে নাÑ এটা আগে ভাবাও যেত না। স্কুলের বাইরেও কি খেলার মাঠ আছে? বিকেলবেলা ছেলেমেয়েরা ঘরেই থাকে। দুই সিটি করপোরেশেনে ২৫টি খেলার মাঠ রয়েছে। এটা কাগজে-কলমের হিসাব। বাস্তবে অর্ধেকও নেই। যা আছে তার কোনোটার বেশিরভাগ, কোনোটার কিছু অংশ প্রভাবশালীদের দখলে। দোকান করে ভাড়া দেয়া হচ্ছে মাঠের অংশ। খেলার মাঠগুলোতে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়। মেলা, ওরস, মিলাদ, কনসার্ট, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের কাজে ব্যবহার করা হয়। কেটেকুটে মাঠকে করা হয় তবিত। দেখার কেউ নেই।
মাঠ রক্ষায় ২০০৪ সালে হাইকোর্টে রিট হয়। রিট করে পরিবেশ আইনজীবী সমিতি। হাইকোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে মাঠগুলো দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশও কার্যকর হয়নি। ২০১৭-তে এসে মাঠের সংখ্যা যেমন কমেছে ঠিক তেমনি বেড়েছে মাঠ দখলের সংখ্যা। তাই সংশ্লিষ্টদের নিকট আকুল আবেদন, খেলার মাঠগুলো দখলমুক্ত করে আমাদের ফিরিয়ে দিন। খেলাধুলা ছাড়া পূর্ণাঙ্গ মানসিক বিকাশ ও শারীরিক সুস্থতা সম্ভব নয়।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
বাড়ি ৩২, সড়ক ২৯/ডি, মিরপুর-১২, ঢাকা

হজ ভিসা মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করুন

পৃথিবীর কোনো দেশে হাজিদের এত বিড়ম্বনায় পড়তে হয় কি না জানি না, যা বাংলাদেশে দেখা যায়। এটার অবসান হওয়া দরকার। কিন্তু কিভাবে? প্রথমে হাজিদের ভিসা জটিলতা বিষয়ক সমস্যার সমাধান করতে হবে। টাকা-পয়সা দিয়েও ভিসা পাওয়া যায় না। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এ জন্য হজ ভিসা মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করা উচিত। ভিসা পাওয়ার পর ফাইট পাওয়া যায় না এজেন্সিগুলোর নানা টালবাহানার কারণে। তাই সরকারকে এজেন্সিগুলোর ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। এজেন্সিগুলোর জামানতের টাকা যথেষ্ট পরিমাণে বাড়াতে হবে যেন প্রয়োজনে ওই টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া হাজিদেরকে সহায়তা করা যায়। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো প্রতিবছরই পবিত্র হজ পালনকেন্দ্রিক নানান জটিলতা হয়ে আসছে। তাই আমরা মনে করি, হজ ব্যবস্থাপনার অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কার্যকর স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে হজযাত্রীদের পুরো ব্যবস্থাপনা সরকারি পর্যায়ে সম্পাদন করা উচিত।
মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির
দণি মধ্যম হালিশহর, চট্টগ্রাম

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতার রেশ টানতে কিছু সুপারিশ

দেশে মূল্যবোধের অবয় ও সামাজিক অস্থিরতার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পত্রিকার পাতা খুললেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা হরহামেশাই চোখে পড়ে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আবার বিপরীতভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, এই মানুষের দ্বারাই আবার সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ ও অনিয়ম।
দেশে শিশু ধর্ষণ ও অপহরণের ঘটনা এখন যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী থাকা সত্ত্বেও কেন এত নারী ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটছে? অপহরণ করে বিরাট অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে, ত্রেবিশেষে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ভাবতে অবাক লাগে, মানুষ কত পাশবিক ও নৃশংস হলে চার-পাঁচ বছরের শিশুও ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই মাসেই শুধু ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১২৩ জন নারী ও শিশু। আর গত ৭ মাসে মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫২৬টি। আমরা নির্যাতনের নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করতে ওস্তাদ! এখন চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, নিজের ঘরে গৃহবধূও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, প্রায়ই রাস্তাঘাটে নারী শিার্থীরা শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছে। এখন পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। দিনের পর দিন কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। স্কুলের কিশোরীরা হরহামেশাই ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে পথে-প্রান্তে। মাদক বিশেষ করে ইয়াবা তরুণ সমাজের একটি অংশকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো স্থানে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। গত ৪ আগস্ট ঢাকার বনশ্রীতে এক গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সেখানে নাজেহাল কা- ঘটেছে।
কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটছে। মূলত এসব ঘটনা সমাজে মূল্যবোধের অবয় ও সামাজিক অস্থিরতারই চিত্র তুলে ধরে।
আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের জায়গাগুলো দিন দিন ভেঙে পড়ছে। পারিবারিক মূল্যবোধের শিায় যথেষ্ট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এখনকার তরুণ সমাজ কিংবা বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে। তবে পরিহাস করে বলতে হয়, বেশিরভাগ তরুণ এখন বুক বা বই একটা পড়ছে আর সেটা হচ্ছে ফেসবুক! প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব যে কত ভয়ানক হতে পারে তা এখন পরিলতি হচ্ছে। আমরা এখন আর মাঠে খেলতে যাই না, পার্কে বিনোদনের জন্য যাই না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাই না কিংবা বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সরাসরি দেখা করি না। এখন সব ফেসবুকেই সেরে ফেলছি!
আমার মতে, মূল্যবোধের অবয় ও সামাজিক অস্থিরতার মতো ঘটনার রেশ টানতে হলে কিছু সুপারিশ বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। যেমন ১. শিশু ও নারীদের ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ এবং সবার মাঝে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানো এবং বেকারত্ব দূর করতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা আরো বেগবান করতে হবে। ৪. বই পড়ার অভ্যাস, সাংস্কৃতিক কর্মকা-, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ৫. নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলাসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাধন সরকার, শিার্থী
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়