রাজনীতি

খালেদা-তারেকের অনুপস্থিতিতে কান্ডারিহীন বিএনপি! দেশে হতাশ দলের নেতাকর্মীরা

মেহেদী হাসান : অনির্দিষ্টকালের সফরে লন্ডন গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি কবে ফিরবেন, জানেন না দলের কোনো নেতা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমনকি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠরাও আছেন অন্ধকারে। তারাও জানেন না খালেদা জিয়া কবে দেশে ফিরবেন। এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছেন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এমনকি অনেক নেতা বিএনপি ঘরানা সাংবাদিক ও বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের কাছে কোনো খবর আছে কি না জানতে চাচ্ছেন। খালেদা জিয়া লন্ডনে আছেন প্রায় দুই মাস। চোখ ও পায়ের চিকিৎসা করাতে গত ১৫ জুলাই ঢাকা ছাড়েন তিনি। এক মাসের মধ্যে ফেরার কথা ছিল। এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার চোখের অপারেশন হয়েছে। অপারেশন পরবর্তী পরিচর্যা চলছে। এখন পায়ের চিকিৎসা করাবেন। তিনি পায়ের গোড়ালির সমস্যায় ভুগছেন অনেকদিন ধরে। জানা গেছে, পায়ের চিকিৎসককে দেখানোর সময় নির্ধারণ হয়েছে। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম দিকে খালেদা জিয়া দেশে ফিরতে পারেন। আবার বিলম্বও হতে পারে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে গিয়েছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহামুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে ফেরার দিনণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরে যাওয়ার আগে বিএনপির নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি খালেদা জিয়া। বিএনপি থেকে বলা হয়েছে, তাদের গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা চেয়ারপারসন বলে কোনো ধারা নেই। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসন সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বা তার অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান। কিন্তু তিনিও লন্ডনে। এই অবস্থায় চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে কার্যত কা-ারিবিহীন হয়ে পড়েছে বিএনপি। দলটিকে নেতৃত্বহীন দেখে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মী। অনেক সমালোচক আবার বলছেন, মামলার শাস্তির ভয়ে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেশে না-ও ফিরতে পারেন। তবে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় অনেক নেতা এ ধরনের আশঙ্কাকে অসত্য বলে দাবি করেন।
জানা যায়, চোখের চিকিৎসা সফল হলেও খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা বিলম্বিত হতে পারে। কারণ পায়ের চিকিৎসা সময়সাপে ব্যাপার। চিকিৎসা শুরু হলেই সাথে সাথে তিনি আসতে পারবেন না। বিলম্বের আরেকটি কারণ হলো খালেদা জিয়া দেশে ফিরে সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। রূপরেখা ঘোষণা করে সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে সংলাপ করতে চান তিনি। সরকার নাকচ করে দিলে তখন আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। তখন আন্দোলনের জন্য জনমত গঠন করতে মাঠে নামতে হবে তাকে। এই সময়ে বৃষ্টি-বাদল এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে তা সম্ভব হবে না। নির্বাচনেরও ১ বছরের বেশি বাকি। তাই সহসা দেশে ফেরার তাড়া নেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার।
আবার অনেকেই মনে করেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে ফেরার বিলম্বের আরো একটি কারণ হতে পারে আদালতের মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলার শুনানি চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি বিদেশে থাকার কারণে মামলাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ আছে। ১ ডিসেম্বর থেকে দেশের নিম্ন আদালত ১ মাসের ছুটিতে যাবে। কাজেই ছুটির আগে মামলা ঝুলিয়ে রাখলে, খালেদা জিয়ার রায়ের সময় বাড়বে। সেক্ষেত্রে কেউ কেউ বলছেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ হয়ত খালেদা জিয়া দেশে ফিরতে পারেন। তবে অনেক সমালোচক অবশ্য বলছেন, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন না। কারণ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কিছুতেই নির্বাচনে যেতে রাজি নন। অপরদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বারবারই বলছেন, ২০১৯ সালে নির্ধারিত সময়ে শেখ হাসিনার অধীনে যে নির্বাচন হবে, তাতেই বিএনপিকে অংশ নিতে হবে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া হয়ত চাচ্ছেন আরো একটি ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনা ঘটুক। তাতে বিএনপির হাতে ক্ষমতা না আসুক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাহীন হয়েছেÑ এতে কিছুটা হলেও সান্ত¡না খুঁজে পাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
তবে দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য স্বদেশ খবরকে বলেন, খালেদা জিয়া দেশে ফেরার জন্য খুবই উদগ্রীব। ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে ত্রয়োদশ সংশোধনীর রিভিউ করবেন কি না সে বিষয়ে দেশে ফিরেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই সারাদেশে দল গোছানোর কাজ শেষ দেখতে চান। দল গোছানোর পরই সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করবেন তিনি। রূপরেখা প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের মনোভাব পর্যবেণ করবেন কিছুদিন। তারপর প্রয়োজন মতো আন্দোলনের ডাক দেবেন।
এদিকে মতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের বাইরে গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে একজনকে মনোনীত করে যান। তবে বিএনপিতে এই রীতি নেই। দলের নেতারা জানান, খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে মতায় থাকাকালে দেশের বাইরে যাওয়ার সময় মির্জা গোলাম হাফিজকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এরপর আর কখনো সাময়িক অনুপস্থিতির সময় কাউকে দায়িত্ব দেয়ার নজির নেই। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের এবারের অনুপস্থিতি মোটেও সাময়িক নয়। দুই মাসের ওপরে তিনি দেশের বাইরে। কবে ফিরবেন তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেকেই বলছেন, আদালতের ঝামেলা মেটাতে তিনি চলতি বছর দেশে না-ও ফিরতে পারেন। আবার তৃতীয় শক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে সেই আবহ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তিনি লন্ডনেই অবস্থান করতে পারেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৮ (খ) অনুচ্ছেদে দলের চেয়ারম্যানের কর্তব্য, মতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের ওপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাদের কার্যাবলির নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত কমিটিসমূহের ওপর কে কর্তৃত্ব করছে এবং তাদের কার্যাবলির নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন কে করছে তা স্পষ্ট নয়। ফলশ্রুতিতে বিএনপির নেতৃত্বে দেখা দিয়েছে এক ধরনের শূন্যতা। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ আকারে-ইঙ্গিতে বোঝাতে চাচ্ছেন, খালেদা জিয়া তাকেই অঘোষিতভাবে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। এ নিয়ে বিএনপিতে নেতায় নেতায় তুমুল দ্বন্দ্ব আছে; যা নিয়ে মারাত্মক হতাশায় আছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের উপধারা গ-তে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, মতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করবেন এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুজনই দেশে অনুপস্থিত। তাহলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের নেতৃত্বে কি শূন্যতা বিরাজ করছে?Ñ এ বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে মোটেও শূন্যতা বিরাজ করছে না। চেয়ারপারসন দেশের বাইরে আছেন ঠিকই কিন্তু দলের নেতৃত্ব তিনি লন্ডন থেকে দিচ্ছেন। এতে দলে কোনো অসুবিধা দেখা দেয়নি। কারণ তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে যখন যাকে প্রয়োজন মুহূর্তের মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা বলা যায় এবং সিদ্ধান্ত দেয়া যায়। কিন্তু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে তো সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের কথা। তিনিও তো বিদেশেÑ এমন মন্তব্যে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন যাওয়ার সময়ই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে গেছেন। সুতরাং নেতৃত্বে কোনো সমস্যা নেই। দলের কার্যক্রম চলছে। আমরা প্রতিনিয়ত আপনাদের (সাংবাদিক) সঙ্গে কথা বলছি। সুতরাং অসুবিধার কিছু নেই। এতে করে সমালোচকরা বলছেন, তাহলে বিএনপির কার্যক্রম কি প্রেসনোট নির্ভর হয়ে পড়েছে। খালেদা জিয়াও হয়ত মনে করেন, গণমাধ্যমে নিয়ম করে প্রেসনোট পাঠালেই হলো। চেয়ারপারসন ও ভাইস চেয়ারম্যান কারোরই দেশে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আর সে জন্যই তিনি দলকে নেতৃত্বশূন্য রেখে নিশ্চিন্তে লন্ডন চলে গেছেন।
খালেদা জিয়া নিশ্চিন্তে লন্ডন গেলেও দলীয় নেতাকর্মীরা আছেন চরম অনিশ্চয়তায়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভাবছেন, তারা এখন কা-ারিহীন। আবার অনেকে দেখছেন, বিএনপিতে এখন কা-ারির ছড়াছড়ি। বিএনপির তৃণমূলের নেতারা দেখছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সবাই যেন একেকজন ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান। এসব দেখে তারা যতটা না অবাক হচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি হচ্ছেন হতাশ। কারণ তারা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের মতো দলের চেয়ারপারসনের দেশত্যাগের বিষয়টিও অনির্দিষ্টকালের জন্যই মনে হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কা-ারি হিসেবে দেখছিল। কিন্তু তারেক রহমানকে নিয়ে তারা আছেন ধাঁধার মধ্যে। বিএনপির একটি অংশের কাছে তারেক রহমান জনপ্রিয় নেতা। কিন্তু দলটির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা তাকে মোটেও পছন্দ করেন না। এই নেতারা মনে করেন, তাদের সঙ্গে তারেক রহমান রাজনীতি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না। সে েেত্র হয় তাদের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে, নয়তো আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনোমতে দলে টিকে থাকতে হবে। বিএনপির এই বলয়ের নেতাদের কেউ কেউ অবসরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। বিএনপির ১৯ সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করা নিয়েও অস্বস্তি আছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় কিছু নেতাও বিভিন্ন সময়ে এমন অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারেক রহমান নিজেও এসব নেতাদের এড়িয়ে চলেন। জেলা পর্যায়ের কিছু প্রবীণ নেতাকে ইতোমধ্যে জেলা কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের কমিটির উপদেষ্টা করা হয়েছে।
তারেক রহমানকে অপছন্দ করার কারণ হিসেবে বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেছেন, তারেক রহমানের বন্ধুমহলটা ভালো নয়। কিন্তু তারেক রহমান এদের প্রতি খুবই আকৃষ্ট ও উদার। তারেক রহমানের এই বন্ধুমহল বলতে তৎকালীন হাওয়া ভবনের লোকদের বিশেষ করে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, আশিক ইসলাম ও ডিউকদের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন তারা। পাশাপাশি ছোট ছোট ইসলামি সংগঠনকে পাশে রাখার ব্যাপারটিও এই নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে। আর তারেক রহমানকে যারা পছন্দ করেন, তাদের বেশিরভাগই অপোকৃত তরুণ। আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হওয়া এবং সর্বোপরি জ্যেষ্ঠ নেতাদের হটিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকায় এ অংশটি তারেক রহমানকে পছন্দ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার এবারের লন্ডন সফরটি মোটেই ব্যক্তিগত নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সফর। এই সফরে খালেদা জিয়া বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নিষ্পত্তি দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে তিনি লন্ডনে বসে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার সব চেষ্টাই চালিয়ে যাবেন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, সহায়ক সরকারের রূপরেখা মেনে নিতে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টা চালাবেন এমনকি তৃতীয় শক্তি যাতে ক্ষমতায় আসতে পারে, সে চেষ্টাও চালাবেন। কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, খালেদা জিয়া এবার লন্ডন থেকে একা ফিরতে চাচ্ছেন না। সঙ্গে করে পুত্র ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ফিরতে চান। সে জন্য যে ধরনের পরিবেশের দরকার, সে পরিবেশ সৃষ্টিতে খালেদা জিয়া মরিয়া চেষ্টা চালাবেন।
তবে সে যা-ই হোক, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এতদিন দলের হাল ধরার জন্য সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কথা ভাবলেও দুজনের অনুপস্থিতিতে দলের হাল কে ধরবে, তা নিয়ে এখন বেশ চিন্তিত। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য যে আচরণ করছেন, তা নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে শঙ্কা দিন দিনই বাড়ছে। বিএনপিকে ভাঙার জন্য সিনিয়র কিছু নেতা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেনÑ দলে এমন কানাঘুষাও রয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে, দেশে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে। তাছাড়া দলের তৃণমূলের অনেক নেতাই মনে করেন দেশে বর্তমানে অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করলেও শীর্ষ নেতৃত্বের অভাবে এবং সিনিয়র নেতাদের হঠকারিতায় বিএনপি সমসাময়িক রাজনৈতিক দৌড়ে বেশ পিছিয়ে পড়ছে।