প্রতিবেদন

দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ : দ্য ইকোনমিস্ট

স্বদেশ খবর ডেস্ক : এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হচ্ছে। আর গত দুই বছর ধরে তা ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান এখন ২৯ শতাংশ। তাই বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক বলা চলে। এই জিডিপি প্রবৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। এসব মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট। পত্রিকাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উদযাপনের এখন একটি ভালো সময়। ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপির আকার পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। ডলারের বাজারদর বিবেচনায় ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপির আকার ১ হাজার ৫৩৮ মার্কিন ডলার, সেখানে পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৪৭০ ডলার। বিস্মিত হওয়ার বিষয় যে, বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। পাকিস্তান থেকে পৃথক সার্বভৌম দেশ হওয়ার পর অর্থনীতির বৈশ্বিক সূচক বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং গৌরবের বলেই মনে করা হচ্ছে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সময় বাংলাদেশ ছিল অনেক দরিদ্র। শিল্প-কারখানা বলতে তেমন কিছুই ছিল না। ওই সময় মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বাংলাদেশের শিল্প খাতের অবদান ছিল মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ। তখন পাকিস্তানের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ২০ শতাংশেরও বেশি। দ্য ইকোনমিস্ট ১৯৭১ সালে দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার আকাশ-পাতাল ব্যবধানের চিত্র তুলে ধরে তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একসময় কফিনের কাপড়ের অভাব থাকলেও বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে, ভারত ও পাকিস্তান মিলেও এ পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করতে পারছে না। আবার ডলারের দর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পণ্যমূল্যের কারণে বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৫৩৮ ডলার খরচ করে যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা কিনতে পারে, পাকিস্তানিরা ১ হাজার ৪৭০ ডলারে তার চেয়েও বেশি পণ্য ও সেবা কিনতে পারে। এর অর্থ দাঁড়ায় বাংলাদেশে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার খরচ পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। এটা মূল্যস্ফীতি নির্দেশ করলেও বাংলাদেশের মানুষের যে আয় বেড়েছে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতাও যে বেড়েছেÑ এই সূচক তারই ইঙ্গিত দেয়।
নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ফলেই বিশ্বের অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের এ অবস্থান অত্যন্ত সম্মানের বলে উল্লেখ করে দ্য ইকোনমিস্ট। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মূল্যস্ফীতি রোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলেও মত দেয় ব্রিটিশ এই পত্রিকাটি।
দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, এর আগে আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হবে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরেও অুণœ থাকবে। বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলেই মনে হচ্ছে। মাথাপিছু জিডিপি কিংবা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুসংবাদই বহন করছে। পাশাপাশি যে কথাটি দ্য ইকোনমিস্ট জোর দিয়ে বলেছে তা হলো, দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের তা-ব যদি কমানো যেত তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও বেশি হতো নিঃসন্দেহে। দ্য ইকোনমিস্ট তাই দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠন কমানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করেছে।