প্রতিবেদন

রাজশাহীতে ২৭ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : উন্নয়নের বার্তা নিয়ে পদ্মা বিধৌত বিভাগীয় শহর রাজশাহী সফরে গিয়ে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে নগরীর অদূরে পবা উপজেলার হরিয়ান চিনিকল মাঠে বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার তার সব করা হবে। বৈরী আবহাওয়া উপো করে জনসভায় যোগ দেয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক, পদ্মার ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ করাসহ গত ৯ বছরে রাজশাহীর উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ থাকবেÑ তা হলো আওয়ামী লীগ আপনাদের সংগঠন। এই আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংগ্রাম করে আপনাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আপনারা দেখেছেন যখন আওয়ামী লীগ মতায় আসে, যখন নৌকা মার্কা মতায় আসে, তখন দেশের উন্নয়ন হয়। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোট মতায় এলে কী হয়? সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাইদের উত্থান ঘটে, মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়। এমনকি জনগণের টাকা, এতিমখানার টাকাও তারা চুরি করে খায়, বিদেশে তারা বিত্ত বৈভব বাড়ায়Ñ এটাই তাদের চরিত্র। জনগণের সম্পদ লুট করে নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করে।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। সেখানে শিানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের শিা সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি সেখানে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পুলিশ বাহিনীকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের রকের ভূমিকায় থাকতে হবে উল্লেখ করে পুলিশকে আরও পেশাদার ও জনবান্ধব হয়ে কাজ করার তাগিদ দেন। নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি জোর দিতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করে সেবা করার সুযোগ দেবেন। তাহলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, লুটেরা বিএনপি-জামায়াত যারা সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, তারা মতায় এলে এ দেশ জঙ্গিবাদের দেশ হবে, সন্ত্রাসের দেশ হবে।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভাস্থলে উপস্থিত হলে হাজারো মানুষের করতালি ও জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুÑ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জনসভাস্থল। প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থল থেকেই একযোগে রাজশাহীর ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। বক্তব্যে এসব উন্নয়ন প্রকল্পকে রাজশাহীর জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
পবা উপজেলার জনসভায় টানা ২৮ মিনিট ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিল্পায়নের দিকে নজর দিয়েছে। রাজশাহীতেও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় তিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিগ্রস্ত সকলকে বাড়ি করে দেয়া হবে। উত্তরে এক সময় মঙ্গা ছিল। আমরা মতায় এসে উত্তরের মানুষের মঙ্গা চিরতরে দূর করেছি। কৃষির উৎপাদন বেড়েছে। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নতুন নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের কথা তুলে ধরে ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার মতায় আসার পর দুই মেয়াদে রাজশাহীর কী কী উন্নয়ন হয়েছে, তাও উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদেরই ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী মোট ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্ক। রাজশাহী মহানগরীর নবীনগর এলাকায় ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমিতে ২৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটির নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিার মান উন্নয়নের ল্েয নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গুলগোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চার তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। একই প্রকল্পের আওতায় মোহনপুর উপজেলার পাকুড়িয়া কলেজ, বাগমারার মাড়িয়া কলেজের চতুর্থতলা একাডেমিক ভবন, চারঘাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তানোরের চান্দুড়িয়া এলাকার ডা. আবু বকর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ভবন নির্মাণ, রাজশাহী মহানগরীর সোনাইকান্দি থেকে বুলনপুর পর্যন্ত শহররা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প, গোদাগাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, রাজশাহী নগরীর তালাইমারী চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণ, নগরীর কোর্ট স্টেশন থেকে বাইপাস এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটোর বাইপাস পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ, রাজশাহী সরকারি শিশু হাসপাতাল, বারনই আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প, প্রান্তিক আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানকে দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীলকরণ প্রকল্প, পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের ৬ তলা ভবন ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের হলরুমের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।