কলাম

উন্মুক্ত মতামত

সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে ভোগান্তির অবসান চাই

গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় পরিবার সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে টোকেনের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে টাকা হাতে পেয়েছি। টোকেন দেয়া হলেও এখানে সিরিয়াল রা করা হয় না। এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একটা সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে কেন সারাদিন লাগবেÑ সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন করে এর কোনো সদুত্তর পাইনি, উল্টো তাদের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছি।
বর্তমান সরকার দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে। এ ল্েয অনেক কাজও করা হয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির কর্মচারীর দায়িত্বহীনতার কারণে এর সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী এসব কর্মচারী অবিলম্বে চিহ্নিত হওয়া দরকার। কী কারণে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে গ্রাহকগণ অহেতুক বিলম্বের শিকার হচ্ছেনÑ তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊধ্বর্তন কর্তৃপ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. আলী হায়দার
পল্লবী, ঢাকা

শিার্থীদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা দূর করুন

বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭টি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীা গত ২ জানুয়ারি তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শুরু হয়েছিল। ফেব্র“য়ারি মাসে পরীা শেষে হঠাৎ করেই ঢাকার ৭টি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে ভাইভা পরীা ২৫ মার্চ তারিখে শুরু হয়ে এপ্রিলেই শেষ হয়ে যায়। সর্বশেষ অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলাফল প্রকাশিত হয় গত ১৪ মে তারিখে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে মাস্টার্স শেষ পর্বের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে। এমতাবস্থায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীার ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে এই বিপুলসংখ্যক শিার্থী বিভিন্ন চাকরির পরীার আবেদন ও অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সর্বশেষ বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক নিবন্ধন পরীায় তারা অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানের আশা এবং স্বপ্ন এখন কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাদের ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে তারা আদৌ জানে না। অথচ পরীা শেষ হয়েছে ৮ মাস হলো। এখন তাদের অভিভাবক ও দুই লাখ শিার্থী হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা আশা করছি।
মো. খাইরুল ইসলাম
জয়কৃষ্ণপুর
পাংশা, রাজবাড়ী

সোনালী ব্যাংক সমীপে আবেদন

সোনালী ব্যাংক সরকারের ট্রেজারি ব্যাংক হিসেবে কাজ করে থাকে বলে অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে এ ব্যাংকের ওপর চাপ অনেক বেশি। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক পেনশন ও ভাতাদি সাধারণত সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলিত হয়ে থাকে। বহুকাল থেকেই এ প্রথা চলে আসছে। পেনশনার বলতেই বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তির সংখ্যাই বেশি। অনেকেই বিভিন্ন রোগ যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ব্যাধিতে আক্রান্ত। কিন্তু ব্যাংকে এসব মানুষকেই লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে পেনশনের অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। তাদের জন্য এত লম্বা লাইনে দীর্ঘণ দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কষ্টদায়ক। কেউ কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, এমনকি মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করেছেন। এরূপ অনাকাক্সিত ঘটনা কারোরই কাম্য নয়।
তাই সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধÑ একাধিক কাউন্টারের মাধ্যমে দ্রুত পেনশনের অর্থ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন। কারণ কাজটি দায়িত্ববোধ ছাড়াও মানবিকও বটে।
চৌধুরী খবির আহমেদ
নবীনগর, ঢাকা

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন করুন

গত ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনে নির্দেশ দিয়েছেন। সমন্বিত পদোন্নতি ব্যবস্থা না থাকায় এবং টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড বিলুপ্তির ফলে বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে চরম ােভ, হতাশা, অসন্তোষ বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক প্রতিযোগিতামূলক অভিন্ন বিসিএস পরীা দিয়ে বিসিএস ক্যাডার হতে হয়। যারা ক্যাডারপ্রাপ্ত হন তারা প্রত্যেকেই কম-বেশি মেধাবী অফিসার। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৫৫ শতাংশ অফিসার কোটার মাধ্যমে আসেন। পরবর্তী সময়ে তারা আবার সরকারের উপসচিব পদে ৭৫ শতাংশ কোটা পান, পদ ছাড়াই। সুপারনিউমারি/ইনসিটো পদোন্নতি পান। এভাবে সরকারি চাকরিতে মেধা থেকে কোটার প্রাধান্য রয়েছে। বর্তমানে কোনো কোনো ক্যাডারের ৩০ ব্যাচ সিনিয়র স্কেল পেলেও অনেক ক্যাডারের ২০-২৯ ব্যাচ সিনিয়র স্কেল পাস করেও সিনিয়র স্কেল পাচ্ছেন না। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অনেকগুলো বিসিএস পরীা হওয়া এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়মিত সিনিয়র স্কেল পরীা নেয়ার ফলে বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে পদোন্নতির জট সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক আমলের বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮১ যুগোপযোগী করা দরকার। বিভিন্ন ক্যাডারের সাংগঠনিক কাঠামোগুলোও সামরিক আমলের এনাম কমিটির রেখে যাওয়া। প্রতিটি ক্যাডারের সাংগঠনিক কাঠামো ও ক্যাডার কম্পোজিশন ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল ও সংশ্লিষ্টদের সহানুভূতি প্রত্যাশা করছি।
ওয়াসিম আকরাম
শিবচর, মাদারীপুর

বার্মিজ পণ্য বর্জন করুন

শুধু আমার কলম কেন, পৃথিবীর কারো কলমই যেন রোহিঙ্গাদের বোবা চিৎকার আর চাপা কান্নার আর্তনাদ বুঝতে পারবে না। পত্রপত্রিকা খুলতেই চোখে পড়ে রোহিঙ্গা নির্যাতনের হাজারো কাহিনি। পড়লেই ভেতরটা কেঁপে ওঠে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে হাজারো বার্মিজ পণ্য ব্যবহার করি। যদি এভাবে আন্দোলন গড়ে তুলি যে, রোহিঙ্গাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আমরা বার্মিজ কোনো পণ্যই ব্যবহার করব নাÑ তাহলে একটু হলেও মিয়ানমারের স্বার্থে আঘাত লাগবে। আসুন আমরা রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, তাদের পে জনমত গড়ে তুলি। আর এখন থেকেই মিয়ানমারের সকল পণ্য বর্জন করি।
সিয়াম বিন আহমাদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়
কুষ্টিয়া