ফিচার

ছাত্রাবস্থায় ক্যারিয়ার সম্পর্কিত যে সিদ্ধান্তগুলো আপনাকে সাহায্য করবে

লেখাপড়া শেষে সবাই চায় একটা ভালো চাকরি, যা করতে তার নিজেরও ভালো লাগবে। কথায় আছে, সবারই এমন কাজ করা উচিত যেটা সে করতে ভালোবাসে। নিজের পছন্দের কাজটি করতে পারলে সেটাকে আর চাকরি মনে হয় না। কিন্তু এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আগে থেকে প্রস্তুত না থাকলে হুট করে চাকরি পাওয়া খুব মুশকিল। তাই ছাত্রজীবন থেকেই শুরু করতে হবে প্রস্তুতি। ছাত্রজীবনে কিছু অভ্যাস লেখাপড়ার পাশাপাশি এমনিতেই গড়ে তোলা যায়। আর সে কাজগুলো আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে। ক্যারিয়ার বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্যারিয়ার অ্যাডিক্ট ডটকম জানিয়েছে, এ ধরনের কিছু অভ্যাসের কথা। এ অভ্যাসগুলো জেনে রাখলে তা আপনার কাজে আসতে পারে।

লেখালেখি : আপনি যে চাকরিই করেন লেখালেখির অভিজ্ঞতা আপনার কাজে লাগবে। সুন্দর করে কোনো কিছু বর্ণনা করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে সেটা আপনাকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে। কারণ চাকরির জন্য আপনাকে আবেদন করতে হবে। সেটাতে নিজেকে যত এগিয়ে রাখতে পারবেন ততই মঙ্গল। আর চাকরি পেয়ে গেলেও আপনাকে প্রায়ই কাজের অগ্রগতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানাতে হবে। সে েেত্রও গুছিয়ে লেখার গুণটা কাজে লাগবে।
স্বেচ্ছাসেবী : ছাত্রজীবন থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলুন। এতে আপনার সাংগঠনিক দতা বাড়বে। সেই সাথে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের হয়ে কর্মসূচি পালনের কাজ করুন। এতে পরিকল্পনা থেকে শুরু করে কাজ গুছিয়ে আনার সবটাই নিজে থেকে শিখে যাবেন। যে চাকরিই করুন, সাংগঠনিক দতা আপনাকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে।
শরীরচর্চা : শুধু শরীর ভালো রাখার জন্যই শরীরচর্চা করতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। শরীরচর্চার অভ্যাস থাকলে ছাত্রজীবন থেকেই আপনি অনেক নিয়ন্ত্রিত জীবন কাটাতে পারবেন। সময়মত খাওয়া ও ঘুম হবে। এতে আপনি অফিসের সময় মেনে কাজ করতে পারবেন। সেই সাথে কাজের প্রতি আগ্রহ ও মনোযোগও বাড়বে।
পড়ার অভ্যাস : শুধু যে বইয়ের পড়াই কাজে দেবে এ রকম ভাবলে কর্মজীবনে গিয়ে বিপদে পড়তে হবে। কারণ সব ধরনের বিষয় নিয়েই পড়তে হবে। তাহলে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। তাই টেক্সট বইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত পত্রপত্রিকা, গল্প-কবিতা, ইতিহাস, সাধারণ জ্ঞানের বইসহ সমসাময়িক নানান বিষয় নিয়েও পড়াশুনা করতে হবে।
ভ্রমণ : যত ঘুরবেন তত আপনার চোখ খুলবে। চোখের দেখা আর বইয়ের পড়া দুটোই আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। ছাত্রজীবনে ঘোরার জন্য অনেক সময় পাবেন। কর্মজীবনে প্রবেশ করলে সেভাবে আর সময় পাবেন না। তাই ঘোরাঘুরি করুন। একটা সংপ্তি তালিকা করে ফেলুন প্রথমে। কাছাকাছি জায়গা থেকে ঘুরে আসুন। সেগুলো শেষ হয়ে গেলে পরে দূরের জায়গাগুলোর তালিকা করুন।
অভিনয় প্রতিভা : মঞ্চে অভিনয় করতে পারেন। কারণ এতে আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে। সেই সঙ্গে অনেক মানুষের সামনে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলার অভ্যাসটা হয়ে যাবে। ফলে কোনো ভাইভা বোর্ডেই আপনি কখনো নার্ভাস হবেন না। আর নতুন মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারবেন।
খেলাধুলা : খেলাধুলার অভ্যাস থাকলে আপনার মধ্যে একইসঙ্গে সাংগঠনিক দতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতা এসব গুণ চলে আসবে। কারণ খেলার মাঠে প্রতিপকে হারাতে হলে তাৎণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সবসময়। একইভাবে কর্মেেত্রও যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তত দ্রুত কাজ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
পার্টটাইম চাকরি : হাতখরচ নির্বাহের জন্য নয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পার্টটাইম চাকরি করুন। লেখাপড়া শেষে কাজে দেবে। ছাত্রজীবনে ছোট কিংবা বড় যেকোনো ধরনের কর্মেেত্র পদার্পণের পর খুব ভালো করে খেয়াল করবেন, আপনার সিনিয়র সহকর্মীরা কিভাবে অফিস সামলাচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে এ দতা শিখতে পারলে ভবিষ্যতে এ অভিজ্ঞতার মূল্য হবে অসামান্য। মনে রাখবেন, কর্ম মানেই অভিজ্ঞতা, আর অভিজ্ঞতা হলো জীবনের পরবর্তী ধাপের পুঁজি।
দায়িত্ব নেয়া : দায়িত্ব নেয়া শিখতে হবে। অফিসে সবাই দায়িত্ব নিতে পারে না। স্নাতক পড়াকালীন কোনো অফিসে এ অভিজ্ঞতাটুকু আপনাকে ভবিষ্যতে বড় পদ গ্রহণে ভীষণ সহায়তা করবে। অফিস মানেই ‘টিমওয়ার্ক’। কোনো দলের সঙ্গে কাজ করলে খুব অল্প বয়সেই পরিণত হওয়ার পথ খুলে যায়। এটি হতে পারে গ্র্যাজুয়েশনের শুরুতেই। এ সময় কোনো দলের সঙ্গে পার্টটাইম চাকরি আপনাকে নিয়ে যাবে পরিণত জীবনের প্রথম ধাপে।
শিা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনাকালীন সময়ে আপনি চাইলেই চাকরি পাবেন না। এ জন্য দরকার যথাযথ প্রস্তুতি। পড়াশুনা এবং সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, জীবনে লেখাপড়ার বিকল্প কিছু হতে পারে না। চাকরির েেত্র তো নয়ই, সেটা হোক সরকারি কিংবা বেসরকারি। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা জরুরি। বর্তমান দুনিয়াই তথ্যপ্রযুক্তির, তাই এ ব্যাপারে যত বেশি জানবেন ততই এগিয়ে যাবেন চাকরির দুয়ারের কাছাকাছি। তবে ছাত্রজীবনে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে চাকরি নামের সোনার হরিণ আপনাকে অপোয় রাখতে পারবে না খুব বেশি দিন। কৌশলগুলো নিম্নরূপ।
দতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করুন : যেকোনো কাজে সবার আগে নিজেকে বোঝা জরুরি। সেখানে চাকরি খোঁজার প্রস্তুতিতে তো ব্যাপারটি আবশ্যক। কাজ খোঁজার আগে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি কোন কোন ব্যাপারে দÑ সবার আগে সেসব জায়গা চিহ্নিত করুন। এরপর সে অনুযায়ী চাকরি খুঁজুন। যদি লেখার হাত কিংবা জানাশোনা ও ‘কমন সেন্স’ ভালো হয় তাহলে গণমাধ্যম, আবার হিসাব-নিকাশে ভালো জানাশোনা থাকলে যোগ দিতে পারেন কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। মনে রাখবেন জীবনের প্রতিটি দতাই একেকটি গুণ, যা চাকরিজীবনে কাজে লাগবেই।
চাই মানসম্মত জীবনবৃত্তান্ত : একজন চাকরিপ্রার্থীর গুণাবলির প্রতিচ্ছবি হলো তার জীবনবৃত্তান্ত। যেখানে আপনি নিজেকে তুলে ধরতে পারেন উজ্জ্বলভাবে। ছাত্রজীবনেই আপনি কী কী দতা অর্জন করেছেন, তার সুগঠিত কিন্তু পরিমিত বিবরণ নিয়োগ কর্তৃপকে আপনার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলবে। জীবনবৃত্তান্ত বাংলা কিংবা ইংরেজি, যে ভাষাতেই হোক না কেন শব্দের ব্যতিক্রমী ব্যবহার আপনাকে বাকিদের চেয়ে নিঃসন্দেহে আলাদা করে তুলবে।