দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভালো করার আশাবাদ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের

| September 25, 2017

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৯ বছর আগে ২০০৮ সালে সর্বশেষ দণি আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন দক্ষিণ আফ্রিকায়। ২৮ সেপ্টেম্বর তারা সফরের প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। দণি আফ্রিকায় কোনোবারই প্রোটিয়াদের বিপে জয় পায়নি বাংলাদেশ; বরং বাজেভাবেই হেরেছে। কিন্তু এবার বাস্তবতা ভিন্ন। গত আগস্টে বাংলাদেশের টাইগাররা ঢাকা টেস্টে বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়াকে শোচনীয়ভাবে হারিয়েছেন। টেস্টের ৪ দিনই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন সাকিব, তামিম, মুশফিক, মিরাজরা। সাকিব, মিরাজ ও তাইজুলের ছোড়া ঘূর্ণিবলে দিশেহারা দেখা গেছে ওয়ার্নার, স্মিথ ও ম্যাক্সওয়েলদের। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া তাদের বাংলাদেশ সফর শেষ করেছে সিরিজে সমতা রেখে। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেই সুখস্মৃতি সঙ্গে নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গেল বাংলাদেশ। বিমানে ওঠার আগে সব ক্রিকেটারই দৃপ্তকণ্ঠে জানিয়ে গেলেন এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভালো করবে কিছু করবে বাংলাদেশ। এমনটাই বিশ্বাস সব ক্রিকেটার ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর।
প্রধান নির্বাচকের পাশাপাশি দণি আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। সফরে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ৯ বছর আগের আর এখনকার ক্রিকেটের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য রয়েছে। এখন বাংলাদেশ টিম অনেক পরিণত, অনেক বেশি টেস্ট খেলেছে। পাশাপাশি ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলেছে। এই খেলোয়াড়দের থেকে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি গত কয়েক বছর ধরে। টেস্ট ক্রিকেটে গত ১ বছরের ধারাবাহিকতায় সব ক্রিকেটারই এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী যে তারা ভালো করবেন।
তবে সফর যে চ্যালেঞ্জিং তাও ভালো করে জানেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এ জন্যই তিনি বলেছেন, আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলে থাকি সেদিক থেকে দণি আফ্রিকা কিন্তু পুরোপুরি ভিন্ন। দণি আফ্রিকার কন্ডিশন সম্পর্কে আমাদের সবারই একটা ধারণা রয়েছে। বাউন্সি এবং ফাস্ট ট্র্যাকে খেলতে হয়। অবশ্যই আমাদের জন্য এটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ। আমরা হোপফুল। আমরা এক-দেড় বছরে যেভাবে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছি আমরা আশাবাদী দণি আফ্রিকাতেও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টপঅর্ডার নিয়ে আছে চিন্তা। দেশের মাটিতে টপঅর্ডাররা ভালো ব্যাটিং করতে পারেননি। তারপরও এ সফর নিয়ে মিনহাজুল আশাবাদী। তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ যতই স্পিনিং ট্র্যাক তৈরি করুক না কেন, এখানে খেলাও কিন্তু কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাউন্সের পাশাপাশি অনেক গতিসম্পন্ন উইকেটে খেলা হবে। বাংলাদেশের টপঅর্ডারে যারা আছে তাদের ক্যাপাবিলিটি আছে ভালো করার। আমি হোপফুল টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে রানে ফিরে আসবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপে সিরিজের পর দেশের মাটিতে অনুশীলন করতে পারেনি ক্রিকেটাররা। ১৬ সেপ্টেম্বর দণি আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বরই অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ। চারদিন অনুশীলন শেষে ২১ সেপ্টেম্বর সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ) আমন্ত্রিত একাদশের বিপে তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে বাংলাদেশ। এরপর আবার চারদিন অনুশীলন শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সেদিন পচেফস্ট্রমে প্রথম টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু হবে। এরপর ৬ অক্টোবর ব্লুমফন্টেইনে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে। টেস্ট সিরিজ শেষে ১৫ অক্টোবর প্রথম, ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয়, ২২ অক্টোবর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৬ অক্টোবর প্রথম ও ২৯ অক্টোবর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেও ১২ অক্টোবর সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ) আমন্ত্রিত একাদশের বিপে একদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
মরনে মরকেল ও ডেল স্টেইনের মতো পেসাররা আছেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলে। যদিও স্টেইন টেস্টে খেলবেন না। কিন্তু ওয়ানডেতে খেলবেন। বিশ্বমানের বোলার তারা। বাংলাদেশের আছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও শুভাশীষ রায়। বাংলাদেশের এ বোলাররাও বিশ্বমানের। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার এ বিষয়ে বলেন, আমাদের ফাস্ট বোলাররা বিশ্বমানের, অন্যান্য দেশের যারা আছে তাদের কাছাকাছিই তারা। অভিজ্ঞতার পার্থক্য আছে। এখন যত খেলবে তত অভিজ্ঞতা বাড়বে। নান্নু বলেন, সবার জন্য সুযোগ আছে। যে ৫ জন ফাস্ট বোলার আছে তাদের জন্য যথেষ্ট সুযোগ আছে ভালোভাবে পারফর্ম করার। দিন শেষে পারফরম্যান্স অ্যানালাইস করতে হয়। নাম কোনো কাজে আসে না। সে হিসেবে যে যখন সুযোগ পাবে তখন তাকে সুযোগটি ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের পেসাররা এখন যথেষ্ট পরিণত। তারা ভালো করতে সক্ষম।
এ টেস্ট সিরিজে বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান নেই। তাই তার অভাববোধ যে হবে তা নান্নুও জানেন। তবে তার অভাব মোটিভেশনের কাজ করবে বলেও মনে করেন তিনি। ক্রিকেটারদের যদি কোনো জায়গায় গ্যাপ থাকে, তাদের মধ্যে এ মোটিভেশনটা অবশ্যই আসবে যে ওই ঘাটতি যেন পুষিয়ে নেয়া যায়। সে হিসাবে বাংলাদেশি ক্রিকেট খেলোয়াড়রা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।

Category: খেলা

About admin: View author profile.

Comments are closed.