ফিচার

রাতে ত্বকের যত্নে কার্যকর কিছু টিপস

সারাদিনে ত্বকের যতেœ আপনি ঠিক কী কী করেন? সকালে ঘুম থেকে উঠে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করা, তারপর গোসল সেরে ময়েশ্চারাইজার লাগানো, রোদে বাইরে বেরুনোর ২০ মিনিট আগে নিয়ম মেনে সানস্ক্রিন, সপ্তাহে ৩ দিন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং নিজেকে ভালো রাখতে আরও কত রকমের সাধনা। মোটামুটি মিলে যাচ্ছে তো! কিন্তু রাতে শুতে যাওয়ার আগে? সারাদিনের ধুলো, ময়লা, ধোঁয়া, দূষণ, কড়া রোদ আর কেমিক্যালযুক্ত কসমেটিকসের প্রভাবে ত্বক ও চুলের করুণ অবস্থা হয়। তার ওপর নিত্যনৈমিত্তিক স্ট্রেসের ভূমিকাও তো কম নয়। সবকিছুর মোকাবিলায় দিনের শেষে প্রয়োজন ত্বক ও চুলের বিশেষ পরিচর্যার। সারাদিনের কাজকর্মের পর কান্ত হয়ে পড়ায় রাতে আর তেমন যতœ নেয়া হয় না। কিন্তু রাতে শুতে যাওয়ার আগে নিজের যতœ নেয়াটাও সমান জরুরি। কারণ রাতে আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরও বিশ্রাম নেয়। ফলে এই সময়ে সেল রিনিউয়াল প্রসেস, বডি রিপেয়ারিংয়ের কাজ শুরু হয়। সারাদিনের ধুলো ময়লা, ঘাম, তেল লোমকূপে জমে লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বক পরিষ্কার না থাকলে, লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে স্কিন রিনিউয়াল ও রিপেয়ার প্রসেস ঠিকমতো হয় না। তাই স্বাভাবিক, শুষ্ক বা তৈলাক্ত যে ধরনের ত্বকই হোক না কেন রাতেও কিনজিং-টোনিং-ময়েশ্চারাইজিং করা একান্ত জরুরি। তবে শুধু মুখের যতœই যথেষ্ট নয়। চোখ, ঠোঁট, হাত, পা, চুলেরও কিন্তু সমান যতœ নিতে হবে। তবেই কাক্সিক্ষত ফল পাবেন। স্বদেশ খবর পাঠকরা আসুন দেখে নিই রাতে শুতে যাওয়ার আগে কিভাবে নিজের যতœ নেবেন।

কিনজিং : আপনি সারাদিন বাড়িতে বা বাড়ির বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, রাতে শুতে যাওয়ার আগে কিনজিং কিন্তু মাস্ট। ত্বক ভালো রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। কারণ সারাদিনের জমে থাকা ধুলোময়লা, ঘাম, তেল লোমকূপে জমে ত্বকের তি করে। ত্বক পরিষ্কার না থাকলে লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্কিন রিনিউয়াল ও রিপেয়ার প্রসেস ঠিকমতো হয় না। তাই স্বাভাবিক, শুষ্ক বা তৈলাক্ত যে ধরনের ত্বকই হোক না কেন রাতে শুতে যাওয়ার আগে কিনজিং করা জরুরি। তবে সাবান দিয়ে মুখ ধোবেন না। এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাবে। সাবানের পরিবর্তে কিনজিং মিল্ক বা জেল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক প্রকৃতির তারা কিনজিং ক্রিম ব্যবহার করুন। ক্রিম ত্বকের ময়েশ্চার ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা কিনজিং জেল ব্যবহার করুন। এতে একদিকে যেমন ত্বক পরিষ্কার হবে তেমনি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।
টোনিং : কিনজিংয়ের পর জরুরি টোনিং। মুখ পরিষ্কার করার পর তুলোয় টোনার নিয়ে ভালো করে মুখ মুছে নিন। ত্বক মসৃণ, টানটান এবং উজ্জ্বল রাখার জন্য টোনিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। মুখ ধোয়ার পর তুলায় টোনার লাগিয়ে খুব হালকা করে মুখ মুছে নিন। টোনার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভালো করতে সাহায্য করে। যেকোনো ভালো কসমেটিকসের দোকান থেকে টোনার কিনতে পারেন। এছাড়াও গোলাপ জল সবচেয়ে ভালো ন্যাচারাল স্কিন টোনার। তুলায় গোলাপজল নিয়েও মুখ মুছে নিতে পারেন। গ্রিন টিও কিন্তু টোনার হিসেবে দারুণ কাজ করে। গরম পানিতে গ্রিন টি আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন তারপর ঠা-া করে ছেঁকে নিন। এটা টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। শসা ন্যাচারাল অ্যাসট্রিনজেন্ট ও টোনার। শসার রস ও গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টোনার হিসেবে দারুণ কাজ করবে।
ময়েশ্চারাইজিং : কিনজিং, টোনিংয়ের মতোই ময়েশ্চারাইজিং কিন্তু অত্যন্ত জরুরি। তাই মুখ পরিষ্কার করার পর অবশ্যই কোনো ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগান। ময়েশ্চারাইজার ত্বক হাইড্রেটেড রাখে, ত্বক ভালো থাকে। রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করে মুখে ও গলায় নারিশিং ক্রিম লাগিয়ে হালকা হাতে আপওয়ার্ড ও আউটওয়ার্ড স্ট্রোকে কিছুণ ম্যাসাজ করুন। থুতনি থেকে গলার নিচের অংশও ক্রিম দিয়ে ম্যাসাজ করুন। প্রয়োজন হলে হাতে সামান্য পানি নিতে পারেন। সবশেষে ভিজে তুলা দিয়ে অতিরিক্ত ক্রিম মুছে নিন। নারিশিং ক্রিম ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগাবে। ফলে ত্বকের ফ্রেশনেস বহুগুণ বাড়বে। ইচ্ছে হলে বাড়িতেও ময়েশ্চারাইজার বানিয়ে নিতে পারেন। গোলাপ জল, গ্লিসারিন ও অ্যালোভেরা জুস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি এয়ারটাইট কন্টেইনারে রেখে ফ্রিজে স্টোর করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ ত্বক নরম রাখার জন্য দারুণ কাজে দেয়।