প্রতিবেদন

সরকারের হস্তক্ষেপে স্থিতিশীল হচ্ছে চালের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : চৈত্র মাসে হাওরে অকাল বন্যায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বলা চলে একমুঠো ধানও সংগ্রহ করা যায়নি হাওরের ৫ জেলা থেকে। হাওরের পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষক আবার ধান চাষ শুরু করে। কিন্তু দ্বিতীয় দফা বন্যায় আবারো ক্ষতিগ্রস্ত হয় ধানের ফলন। দ্বিতীয় দফা বন্যায় হাওরের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ধান চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষে কৃষকের কাছ থেকে ১ কেজি ধান-চালও সংগ্রহ করা যায়নি। উপরন্তু আগামী ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত হাওরের প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দিতে হচ্ছে। পরপর দুইবার ফসল মার খাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে সরকারের খাদ্য মজুদে ঘাটতি পড়ে। চাল ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটি গ্রহণ করে অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে। আগামীতে চালের দাম আরো বাড়বেÑ এই মানসিকতা থেকে তারা চালের অবৈধ মজুদ শুরু করে। সরকারের খাদ্য মজুদে ঘাটতি এবং ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুদের কারণে চালের দাম বাড়তে থাকে দ্রুত গতিতে। মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা এবং চিকন চালের কেজি ৬০ টাকা অতিক্রম করে। বিষয়টি সরকারের জন্য বিব্রতকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় চালের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সরকার নানা তৎপরতা শুরু করে। চালের আমদানি শুল্ক ২৮ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে আনা হয়। ভিয়েতনাম থেকে ৩ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ নিয়ে সমস্যা থাকলেও মিয়ানমার থেকে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ভিয়েতনামের চাল বাংলাদেশের বাজারে এসে পৌঁছেছে। মিয়ানমারের চালও শিগগিরই এসে পৌঁছুবে। এর বাইরে চালের অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামে সরকার। যে সিন্ডিকেট কারসাজি করে চালের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। অবৈধ মজুদদারদের ধরতে সারাদেশে সব চালের গুদামে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়। মিল মালিক, আমদানিকারক ও আড়তদারদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। কুষ্টিয়া, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার বড় বড় চালের মোকামে অভিযান চালানো হয়। ৩০ টাকা কেজি দরে ওএমএস চালু করা হয়। সরকারের এসব তৎপরতার ফলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে বাজারে চালের দরে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
মিল মালিক, আমদানিকারক ও আড়তদারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চালের দাম কমানোর আশ্বাস দেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি সমস্যা সমাধানের আশ্বাসের প্রেেিত তারা চালের দাম কমানোর ঘোষণা দেন। সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিশেনের সাধারণ সম্পাদক কেএম লায়েক আলী বলেন, আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা করে কমে যাবে।
চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রেেিত চালকল মালিক, আমদানিকারক, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সোয়া দুই ঘণ্টা আলোচনার পর চাল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাধা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে ১ কোটি মেট্রিক টনের বেশি চাল আছে। বাজারে কোথাও চালের ঘাটতি নেই। দেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই। তারপরও চালের দাম কেন এত বেশি বাড়ছে? চাল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। যেভাবেই হোক এটা কমাতে হবে। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে ব্যবসায়ীদের তা তুলে ধরতে বলেন। এরপরই বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, দেশে খাদ্যের কোনো অভাব দেখি না। কোনো সংকট নেই। তাহলে চালের দাম এত বাড়বে কেন? তিনি বলেন, দেশে এখনও প্রচুর চাল রয়েছে। কৃষকের ঘরে চাল মজুদ রয়েছে। মিলারদের কাছেও মজুদ রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের একটি অখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশ করা হয় যে, ভারত চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো চাল রপ্তানি করবে না। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমাদের দেশে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা খবর নিয়ে দেখলাম এ খবর সঠিক নয়। ভারত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। একটি গুজবের ওপর ভিত্তি করে অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন চালের দাম কমাতে আপনাদেরই সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, নালিতাবাড়ী সরকারি গুদামে ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল আছে। নকলায় আছে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাওরে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়। ভোলায় উৎপাদন সব সময়ই ভালো হয়। এবার ব্লাস্ট রোগের কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি না থাকলে অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম কেন বাড়বে?
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যেভাবে চালের দাম বেড়েছে তা খুবই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। গুজবের কারণে ২-৩ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা করে দাম বেড়ে যাওয়া কেউ ভালোভাবে নেবে না। ভারত চাল রপ্তানি করবে না এমন গুজব ছড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আপনাদের যোগসাজশ ছাড়া এ গুজবের মাধ্যমে এত দ্রুত দাম বাড়তে পারে না। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের প থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আপনারা সহযোগিতা করলে দ্রুত দাম কমে আসবে।
জয়পুরহাট চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল বারী বৈঠকে বলেন, আরও আগে চালের ট্যারিফ কমানো উচিত ছিল। তিনি বলেন, চটের বস্তায় চাল সরবরাহ করতে গিয়ে কেজিতে দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিশেনের সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, চটের ব্যাগ তুলে দেন। এতে কেজিপ্রতি অন্তত দেড় টাকা করে কমে যাবে। এছাড়া যমুনা ব্রিজে নির্ধারিত টাকার চেয়ে তিনগুণ বেশি টোল আদায় করা হয়। কথায় কথায় ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়। ১৮ হাজার টাকার ট্রাক ভাড়া ২৫ হাজার করতে গেলে তার প্রভার চালের ওপরই পড়ে। এছাড়া রাস্তায় রয়েছে পুলিশের নানা হয়রানি। যেনতেন অভিযোগে রাস্তায় ৪-৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়। মানিকগঞ্জে ট্রাকপ্রতি ২ হাজার টাকা করে দিতে হয়। না দিলে মামলা তো আছেই, কখনো কখনো ট্রাকচালকদের মারধর করার ঘটনাও ঘটে। চালের ঘাটতি নিয়ে কোনো কথা না বললেও ব্যবসায়ীরা চাল আমদানির কথা বলেছেন। তারা ট্রেনে করে ভারত থেকে চাল আমদানির কথাও বলেছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেেিত চাল আমদানি, উৎপাদন ও সরবরাহে আগামী তিন মাস চটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যে যেভাবে আনতে পারেন চাল আনবেন, প্লাস্টিকের বস্তার ব্যবহার দুই-তিন মাসের জন্য রিলাক্স করে দেয়া হলো। যেভাবে চাল আনতে পারেন আনেন, কেউ বাধা দেবে না। এছাড়া ভারত থেকে ট্রেনে করে রোহনপুর দিয়ে চাল আনার জন্যও পদপে নেয়া হবে বলে জানান তোফায়েল আহমেদ।
দুই দফা বন্যায় ফসলের ব্যাপক তির পাশাপাশি চালের মজুদ কমে যাওয়ায় সরকার গত অর্থবছরের শেষদিকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। সেই সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি উৎসাহিত করতে ২৮ শতাংশ থেকে শুল্ক নামিয়ে আনা হয় ২ শতাংশে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায় মিলিয়ে গত আড়াই মাসে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হলেও বাজারে চালের দাম বাড়ছে, যার পেছনে মিল মালিকদের কারসাজিকে দায়ী করে আসছে সরকার। সরকারি হিসাবেই মোটা চালের দাম গত এক মাসে বেড়েছে ১৮ শতাংশ, এক বছরে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এখন বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো মোটা চাল নেই।
ধারাবাহিকভাবে চালের দাম বৃদ্ধির মধ্যে মজুদদারি বন্ধে প্রশাসন গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাইস মিলে অভিযান শুরু করে। কুষ্টিয়ার খাজানগরে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদের চালকলে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু রশিদকে জরিমানা করার পর এ ক’দিনে মিনিকেট চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৪০০ টাকার মতো বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য চালের দাম। চালকলগুলোতে অভিযান চালাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, এখন যেহেতু আপনাদের সঙ্গে বৈঠক হলো, তাই আমি সংশ্লিষ্টদের বলছি, এখন যাতে কোনো ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার না হয়। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে চাল পরিবহনে বিভিন্ন সমস্যা দূর করতেও সরকার পদপে নেবে বলে আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তার এ বক্তব্যের পর সভাকে উপস্থিত বেশ কয়েকজন চাল ব্যবসায়ী বলেন, দু’-একদিনের মধ্যেই চালের দাম কমতে শুরু করবে। বৈঠকের পর বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ভালো একটি বৈঠক হয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যেই চালের দাম কমতে শুরু করবে।
এদিকে চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেেিত চালের বাজার মূল্য কমাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি স্থগিত করে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) শুরু করে সরকার। এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আপাতত স্থগিত থাকবে। আশা করছি, খোলা বাজারে চাল বিক্রির ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়বে এবং চালের বাজার মূল্য কমতে শুরু করবে।
দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের ধান উৎপাদিত হয় দিনাজপুর জেলায়। সেই দিনাজপুরে এবার প্রবল বন্যা হয়েছে। দিনাজপুর শহর অন্তত ১০ দিন পানির নিচে ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে চলতি ফসল মার খেলেও পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকার পরও বন্যার অজুহাতে দিনাজপুরের বাজারে ইচ্ছামতো চালের দাম বাড়িয়ে দেয় মিল মালিকরা। এদিকে সরকারি বোরো সংগ্রহ অভিযানে দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ মিল মালিকই সরকারের সাথে চাল সরবরাহের চুক্তি না করলেও এখন ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে চাল। এ েেত্র ধান ক্রয় ও উৎপাদন খরচ ধরেও প্রতিকেজি চাল ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছেন তারা। এ কারণেই বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে চালের দাম।
দিনাজপুরের চাল ব্যবসায়ীরা জানান, কোনো মিলে চাল নেইÑ এমন কথা বলছেন না মিল মালিকরা। বেশি টাকা দিলেই মিলছে চাল। প্রতিটি মিলে বিপুল পরিমাণ ধান ও চাল মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা। সরকারি নিয়ম থাকলেও মিলগুলোতে করা হচ্ছে না মজুদ তদারকি। ফলে প্রশাসনও জানে না চালকলগুলোতে কী পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে। তবে সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই বেড়েছে চালের দাম। এেেত্র মিল মালিকদের কোনো কারসাজি নেই।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র স্বদেশ খবরকে জানায়, বাংলাদেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে যে সিন্ডিকেট, সে সিন্ডিকেটের বেশিরভাগ সদস্যই বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ব্যবসায়ী। তারা চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায়। বিশেষ করে বগুড়া, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরের চাল ব্যবসায়ীরাই পুরো বাংলাদেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই ৩ জেলার অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ী, মিল মালিক ও আড়তদাররাই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ফলে তারা চালের দাম আগামী মৌসুম পর্যন্ত বর্তমান অবস্থায়ই রাখতে চান। সে লক্ষ্যে তারা সবসময়ই নানা ফন্দি-ফিকির চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিন্ডিকেটটির কারসাজি ভেঙে দিতে পারলেই চালের বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে যাবে। তাই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী এই সিন্ডিকেটটিকে হাতেনাতে ধরার জন্য সরকারের একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।