কলাম

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে ঈদের পরেই শারদীয় উৎসব

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : ঈদুল আজহার দিন একটি টিভি চ্যানেল সাধারণ মানুষের অনুভূতি নিয়ে অনুষ্ঠান করছিল। উন্মুক্ত লোকালয়ে অনুষ্ঠান। একপর্যায়ে মাইক্রোফোনে এক ভদ্র মহিলা এলেন। শাঁখা-সিঁদুরে বোঝা গেল তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। সঙ্গে স্বামী ও দুই সন্তান আছে। অফিস ছুটি, তাই আনন্দ করতে বেরিয়েছেন। মুসলমান প্রতিবেশীর মতো ঈদের আনন্দ তাকেও ছুঁয়ে গেছে। জানালেন রাতে তার স্বামীর মুসলমান বন্ধুর বাড়িতে ঈদের দাওয়াত খেতে যাবেন। আসলে এটিই আবহমান বাংলার চিত্র। গত বছর দুর্গাপূজার পরে আমার এক ছাত্র প্রশ্ন করলÑ স্যার, দুর্গাপূজা উপলে হিন্দুদের মধ্যে কেমন যূথবদ্ধ আনন্দ করতে দেখি, ম-পে ম-পে দল বেঁধে সবাই যাচ্ছে, একসঙ্গে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। আমরা ঈদে তো এতটা উচ্ছ্বাস দেখতে পাই না। আমি বললাম, দুই ধর্ম সম্প্রদায়ের আনন্দ যার যার সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা থেকেই হয়ে থাকে। মুসলমানদের ঈদ আনন্দ তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতিতেই জড়িয়ে আছে। এখানে কোনো প্রতীকী স্থাপনা নেই। ফলে পার্থিব ও অপার্থিব আনন্দ ফল্গুধারার মতো ছড়িয়ে থাকে। তবুও অধুনা ঈদ আনন্দে অনেক রূপান্তর ঘটেছে। বিশেষ করে নাগরিক জীবনে। ছাত্রটি শহরের গ-িতে বড় হওয়া ছেলে। মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলের ঈদ উৎসবের স্বরূপ ওর কাছে স্পষ্ট নয়। আমি ওকে বললাম, উনিশ শতকের ঢাকার ঈদ উৎসব এখনও টিকে থাকলে পূজার উৎসবের পাশাপাশি তুলনামূলক আলোচনা করতে পারতে। সে যুগে অনেক আনন্দঘন ঈদ উৎসব পালন করত ঢাকাবাসী। ঈদের দিন জমকালো আনন্দ মিছিল বের হতো। অবশ্য কয়েক বছর ধরে ঢাকায় ঈদে ‘আনন্দ মিছিল’ হচ্ছে। উনিশ শতকে আরমানিটোলা, ধূপখোলা বা রমনার মাঠে ঈদ উৎসবের অংশ হিসেবে কত্থক নাচের আয়োজন হতো। কোথাও হতো হিজড়া নাচ। ঘুড়ি ওড়ানো আর নৌকাবাইচের ব্যবস্থা থাকত। আর এসব অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও আনন্দ ভাগ করে নিত। আমাদের ছেলেবেলার কথা স্মরণে আনতে পারি; নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অনেক হিন্দু পরিবারের বাস ছিল। এদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে ভারত চলে গেছেন। এসব বাড়িতে আমার বোনদের বান্ধবী অনেক দিদি ছিলেন। আদর-স্নেহ পেয়ে তাদেরকে দূর সম্পর্কের মনে হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা ছোটরা যেমন করগুনে ঈদের অপো করতাম, একইভাবে দুর্গা পূজা, লক্ষ্মীপূজা আর সরস্বতী পূজার জন্যও দিন গুনতাম। ম-পে ম-পে ঘুরে প্রতিমা দেখা, ঢাকির জাদুকরী হাতে মনমাতানো ঢাকের বাদ্যে মাতোয়ারা হওয়া আর প্রসাদ খাওয়ার লোভ তো ছিলই। শুধু ঈদ নয়, মহররমের মিছিলেও ধর্ম সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণ ছিল। ইরাক-ইরানসহ অনেক দেশে শিয়া-সুন্নির মধ্যকার দ্বন্দ্ব হানাহানির পর্যায়ে চলে যায়। এদিক থেকে বাংলাদেশের বাস্তবতা ভিন্ন। আঠারো শতক থেকে ঢাকায় মহররম পালিত হচ্ছে। শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে সুন্নি মুসলমানের অংশগ্রহণ এদেশে স্বাভাবিকই ছিল। আঠারো-ঊনিশ শতকের নথিতে দেখা যায় একটি সাংস্কৃতিক প্রণোদনা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে শরিক হতো মহররমের মিছিলে। বিশ্বাস ছিল কারবালার স্মৃতিতে দুলদুলের প্রতীক ঘোড়ার পায়ে দুধ ঢেলে মনোবাঞ্ছা করলে তা পূরণ হয়। অনেক হিন্দুও ইচ্ছে পূরণের আশায় দুলদুলের পায়ে দুধ ঢালত। মুসলমান পীরের সমাধিতে হিন্দুর যাওয়া এমনকি প্রার্থনা করা এদেশে একটি সাধারণ চিত্র। গ্রাম-গঞ্জের নানা জায়গায় এখনও ভাদ্রের শেষ বৃহস্পতিবার নদীতে কলার ভেলায় রঙিন কাগজের ঘর বানিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসানো হয়। এই ‘ভেলা ভাসানো’ উৎসবে হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়েরই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে। সুন্দরবনের সঙ্গে জীবিকা জড়িয়ে আছে এমন মুসলমান বাওয়ালি, কাঠুরে বা জেলেরা বনের রাকর্ত্রী দেবী কল্পনায় বনবিবি আর ব্যাঘ্র দেবতা গাজীর নাম জপ করে। অন্যদিকে হিন্দু বাওয়ালি, কাঠুরে ও জেলে একই অধিকর্ত্রী দেবী হিসেবে বনদুর্গা আর ব্যাঘ্র দেবতা হিসেবে দণি রায়ের নাম জপ করে। এসব বাস্তবতা এদেশের দীর্ঘকাল ধরে লালিত সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথাই প্রকাশ করছে। সমাজ ইতিহাস ও পুরাতত্ত্বের ছাত্র হিসেবে আমি আমার লেখায় বহুবার বলার চেষ্টা করেছি যে, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাস্তবতাই বলে দিচ্ছে এদেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার অপচ্ছায়া খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ডানা মেলতে পারবে না। এদেশের সাধারণ মানুষের মানসিক গড়ন সাম্প্রদায়িকতার ভেদবুদ্ধিকে সমর্থন করে না। তারপরও এ সত্য মানতে হবে যে, অন্ধকারের জীব যারা ধর্মকে আধ্যাত্মিকতার গাম্ভীর্য আর সৌন্দর্যে না দেখে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তারা কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর চেষ্টা করে। অন্য দল অতটা বুঝে নয় বরং সাংস্কৃতিক অনগ্রসরতা ও কূপম-ূকতার কারণে ধার্মিক না হয়ে এক ধরনের ধর্মান্ধ হয়ে যায়। ধর্মচর্চার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় বাণীর মর্মার্থ অনুধাবন না করে অনালোকিত এবং সীমাবদ্ধ জ্ঞানের ধর্মনেতার বয়ান শুনে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়। প্রথম শ্রেণির ধর্ম-বণিকদের চেনা যায়, ফলে এদের প্রতিহত করাও সম্ভব। কিন্তু অতি ধীরে হলেও দ্বিতীয় শ্রেণির সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন মানুষদের পে সমাজ কলুষিত করার মতা বেশি বলে আমি মনে করি। প্রথমে তারা নিজ পরিবারকে প্রভাবিত করে এবং পরে প্রতিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। আমার পরিচিত একজন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তির কথা বলব। সরকারি অফিসের মাঝারি ধরনের কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সম্পন্ন করেছেন। সেই অর্থে শিতি। কিন্তু তার আলাপচারিতায় মনে হয় আলোকিত নন। নিয়মিত নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন, সেই অর্থে ধার্মিক। তবে ধর্মচর্চা করেন বলে মনে হয় না। একজন শিতি মানুষ যদি ধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান হন তবে তার কর্তব্য ধর্মীয় বাণীর তাৎপর্য অনুধাবন করা, নিজ ধর্ম সম্পর্কে জানা, আর এই জানাকে স্পষ্ট করার জন্য অন্য ধর্মের বাণীকে উপলব্ধি করা। অর্থাৎ তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করা। অন্তত অন্য ধর্ম সম্পর্কে ঈর্ষাভাব জাগার আগেই। এই বন্ধুটি বেশ কিছুদিন ধরে আপে করছিলেন সরকারি দপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের অনেক বড় বড় পদে ‘কেবল হিন্দু কর্মকর্তা’ নিয়োগ পাচ্ছেন। আমি প্রথমে গা করিনি। বর্তমান সময়ের রাজনীতি আমাদের মনুষ্যত্বকে নষ্ট করছে। তাই ভিন্ন রাজনীতির দল মতায় থাকলে সেই সরকারকে নানাভাবে সমালোচনা করতে ভালো লাগে। আমি বন্ধুর বিষোদ্গারের কারণ তেমনটিই মনে করেছিলাম। কিন্তু একইভাবে বারবার আপে করায় আমি জানতে চাইলাম, যে হিন্দু কর্মকর্তাদের পদায়ন হচ্ছে তারা কি যোগ্যতার বিচারে হচ্ছেন না? এখানে তিনি নীরব রইলেন। আমি বললাম, এদেশের নাগরিক যদি হয়ে থাকেন আর যোগ্যতার কারণে যদি পদ পেয়ে থাকেন তবে তাদের ধর্ম-পরিচয় খোঁজা তো নিরর্থক। তিনি খুব সন্তুষ্ট হলেন না। বললেন, এদেশে বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান। তাই মুসলমানের অধিকারটি বেশি থাকতে হবে। আমার কাছে কথাগুলো একটু বিসদৃশ লাগল। আমার চারপাশের পরিবেশে অমন করে ভাবতে দেখি না কাউকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন সংকীর্ণ চিন্তা কাজ করে বলে আমার ধারণায় ছিল না। অথচ নাগরিক পরিবেশে বাস করা, সার্টিফিকেটে শিতি এক সরকারি চাকরিজীবী এমন ভাবছেন কেন! পরে মনে হল এই মানসিকতার মানুষগুলো পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হয়ত তেমন আলোকিত নন। তাই ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে একুশ শতকের ডিজিটাল যুগেও সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা প্রকাশ করছেন কণ্ঠ উঁচিয়ে। যে সংকীর্ণতার স্থান তার নিজ ধর্মেই নেই। মানুষকে সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের চেষ্টা করতে হয় জানার জগৎ শানিত করে। আমি গবেষণার কাজে বেশ কিছুকাল কলকাতায় ছিলাম। ল্য করেছি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ধর্ম, সমাজ ও সাহিত্যের খোঁজ আমরা যতটা রাখি ওপারের মানুষ আমাদের সম্পর্কে তেমনটা রাখতে পারেন না। এর অনেক কারণ আছে। কলকাতায় কোনো বই বা জার্নাল প্রকাশিত হলে কলেজ স্ট্রিটের দোকানে আসার আগেই বাংলাদেশের বুকস্টলে চলে আসে। কালেভদ্রে বাংলাদেশের বইয়ের দেখা মেলে কলকাতার বইয়ের দোকানে। কলকাতার সব টিভি চ্যানেল আমাদের ড্রইং রুমে। আমাদের কোনো চ্যানেল দেখার সুযোগ নেই পশ্চিমবঙ্গে। আমার এক সংস্কৃতিকর্মী ছাত্র যথার্থই মন্তব্য করল সেদিন, এই যে রোজা আর ঈদ গেল। এ নিয়ে কলকাতার কোনো টিভি চ্যানেল তেমন কোনো অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন মনে করল না। অথচ আমাদের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া দুর্গাপূজার বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত খবরে ও অনুষ্ঠানে মাতিয়ে রাখে। অর্থাৎ এদেশের মানুষ দুই সম্প্রদায়ের অধিকার অভিন্ন ভাবতে অভ্যস্ত বলেই আমাদের মধ্যে এই স্বতঃস্ফূর্ততা রয়েছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে কলকাতার চ্যানেলে মুসলমানের উৎসবের খবর-প্রতিবেদন জায়গা করে নিতে পারছে না। এ তথ্য আমরা পেলেও আমাদের চ্যানেল ওপারের মানুষ দেখতে না পাওয়ায় পূজা নিয়ে এ দেশে যে এত আয়োজন হয় তার খোঁজ তারা পাচ্ছেন না। পেলে হয়ত কলকাতার চ্যানেলেও এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। যোগাযোগহীনতা কতটা তি করেছে তার একটি উদাহরণ দেব। আমি ১৯৯০-৯২ সালে গবেষণার প্রয়োজনে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বেশিরভাগ সময় তথ্য সংগ্রহ করতাম। জার্নাল সেকশনের একজন ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান ছিলেন শঙ্করনাথ ভাদুড়ী। সংস্কৃতিমনা এই মানুষটি একটি গ্র“প থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত। মাঝে মাঝে আবেগে আপ্লুত হয়ে আমাকে বলতেন, তিনি শুনেছেন সাতচল্লিশের দেশ বিভাগের আগে তাদের পৈতৃক বাড়ি ছিল বগুড়ার জলেশ্বরী তলায়। তিনি কখনও বাংলাদেশে আসেননি। তার খুব ইচ্ছে পৈতৃক ভিটে ছুঁঁয়ে দেখার। আমি বলি, এ আর এমন কী। একবার বাংলাদেশে এলেই ইচ্ছে পূরণ করা যায়। তিনি হেসে উড়িয়ে দিতেন। শেষবার আমি যখন কলকাতা ছাড়ব আবার তিনি তার অতৃপ্ত বাসনার কথা বললেন। এবার আমি তাকে চেপে ধরলাম। বললাম, আপনার বাসনা পূরণের সব দায়িত্ব আমার। আপনি বলুন কবে আসবেন। আপ্লুত হলেন ভাদুড়ী দা। সঙ্কোচ ঝেড়ে ফেলে বলেন, ‘আমি যে যাব আমার জীবনের নিরাপত্তা কী!’ অর্থাৎ তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ একটি কঠিন মৌলবাদী দেশ। এখানে কোনো হিন্দু এলে কচুকাটা হবেন। আমি স্তম্ভিত হলাম। এমন ধারণার কারণ খুঁজলাম। দেখলাম এখানকার অনেক কাগজে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সংকট নিয়ে নানা মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। আমাদের কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিপ দলকে ঘায়েল করার জন্য সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব নিয়ে একপেশে বিবৃতি দেন। কোনো কোনো বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক বিজ্ঞজন নিজেদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সতীর্থদের কাছে পছন্দের হবে তেমন বক্তব্য প্রদান করেন। সেসব খুব গুরুত্ব পায় পশ্চিমবঙ্গের কোনো কোনো কাগজে। বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে যাওয়া কোনো কোনো হিন্দু পরিবার আনুকূল্য পাওয়ার আশায় নির্যাতনের অনেক গল্প ফাঁদে। আর সুবিধাবাদী কোনো কোনো গ্র“প বাংলাদেশ সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণার সুযোগে সেসব প্রচার করে বিভেদ তৈরি করে দেয়। কিন্তু এই সত্যটি খাটো করে দেখলে চলবে না যে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অুণœ রাখতে হলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সহজ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন আছে। তা সম্ভব দুই দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনাচরণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখার মধ্য দিয়ে। তা না হলে সুযোগসন্ধানী অন্ধকারের জীবরা উভয় দেশের মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সন্দেহের বিষ ছড়িয়ে দেবে। তাই এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে দুই পরে দায়িত্বশীলদেরই। আমার বরাবরই মনে হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে পারলে এদেশের ধর্ম-বণিক রাজনীতিকদের অপতৎপরতা আর জঙ্গিবাদ কখনও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না। এ জন্য অনালোকিত জনগোষ্ঠীকে আলোতে আনতে হবে আবহমান বাঙালির অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধকে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে। বিজ্ঞানমনস্কভাবে ধর্মচর্চা এবং বাঙালির হাজার বছরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। আর এই ঐতিহ্যের সৌন্দর্য সাধারণ্যে ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিতে হবে মিডিয়াকে। আলোর প্রপেণ ছাড়া কি অন্ধকার দূরীভূত হয়!
লেখক : অধ্যাপক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়