প্রতিবেদন

অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ে-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বৈঠক : সরকারের সফল কূটনৈতিক প্রয়াসে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত

বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সরকারের সফল কূটনৈতিক প্রয়াসে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। এরই অংশ হিসেবে সহিংসতার মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণাকে ভিত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই গ্রুপ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে একযোগে কাজ করবে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে ঢাকা সফরে আসা অং সান সু চি’র দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ে’র সঙ্গে ২ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। আর মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি’র দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ে।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে দুই দেশ একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে জানিয়ে মাহমুদ আলী বলেন, আমরা উভয়ে সম্মত হয়েছি। এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কিভাবে কী কাজ করবে সেটা আমরা (বাংলাদেশ) ঠিক করব, ওরাও (মিয়ানমার) ঠিক করবে। তবে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য বৈঠকে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে ওই চুক্তির খসড়াও হস্তান্তর করা হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শিগগিরই মিয়ানমার সফরে যাবেন। আমরা যেটা বলে আসছি প্রথম থেকে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। দুই পক্ষই তাতে একমত হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে জানতে চাইলে এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, একটা সভা দিয়েতো সব সমাধান হবে না। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপটা তৈরি করতে হবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে দেব, ওরা ওদের পক্ষ থেকে দেবে। এটা খুব তাড়াতাড়ি করেছি। যে বিষয়গুলো বাকি রয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খুব শিগগিরই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ হবে বলেও জানান এ এইচ মাহমুদ আলী।
এই বৈঠকের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমার সময়ক্ষেপণ করছে কি নাÑ এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, আলোচনার আগেই যদি নাকচ করে দেন, তবে আলোচনা হবে না। অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আশাবাদী। কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের বিষয়টি আলোচনায় তোলা হয়েছিল বলেও জানান এ এইচ মাহমুদ আলী।
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে। রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। মিয়ানমারের নেত্রী সু চি সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে বর্ণনা করলেও জাতিসংঘ একে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে সেখানে যেতে দিচ্ছে না দেশটির সরকার। এমনকি সেখানে আইসিআরসি ছাড়া অন্য কোনো সংস্থাকে ত্রাণ দিতেও বাধা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মিয়ানমার কর্র্তৃক সৃষ্ট জটিলতার দায়ভারসহ তাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ওই আলোচনায় আরো বলা হয়েছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুটেরেজ বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর যে সহিংসতা হয়েছে তা মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হতে পারে এবং সেখানে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পাঁচ দশকের বেশি সময় সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমারে গত বছর সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সু চি’র দল ক্ষমতায় আসার পর এখনও দেশটির স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক মন্ত্রণালয় দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে। সম্প্রতি মিয়ানমার ঘুরে আসা ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, অং সান সু চি সব রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে চান বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন। সু চি একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং তিনি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে একটি সঠিক পথ বের করার চেষ্টা করছেন। এদিকে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উ উইন মিত আয়ে রাখাইনের মংডু এলাকায় যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন ও পুনর্বাসন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে মিয়ানমারের ইরাবতী পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন ও পুনর্বাসনের জন্য দুই বিলিয়ন কিয়াটের একটি কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, যাতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় শরণার্থীদের নিবন্ধন করা হবে। মংডুর দার গি জার গ্রামে পুনর্বাসনের আগে তাংপিও লেতওয়ে ও না খুয়ে ইয়া গ্রামে তাদের নিবন্ধন হবে। মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি উ মিন্ট কেইং ওই দিন ইরাবতী পত্রিকাকে বলেন, দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য যাদের মনোনীত করা হবে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) দেয়া হবে। রোহিঙ্গা স্বীকৃতি না থাকায় এই মুসলিম জনগোষ্ঠী ওই এনভিসি নিতে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।
সহিংসতার মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণাকে ভিত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। ৩ অক্টোবর দেশটির স্টেট কাউন্সেলর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। আগের দিন ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি’র দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ে’র বৈঠকের বিষয়ে এই বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তবে এই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কাজ তদারকি করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানামরের মন্ত্রী দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি’র ১৯ সেপ্টেম্বর দেয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সু চি’র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ ও প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত রয়েছে। ১৯৯২ সালের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ঘোষণা অনুসারে তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে। এই যৌথ ঘোষণার আওতায় ১৯৯২ থেকে ২০০৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ জনকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমারের মন্ত্রী ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি ইয়াঙ্গুনে অনুষ্ঠিত দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার ইস্যুগুলো উভয় দেশের স্বার্থ বিবেচনায় বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরসাকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অভিন্ন শত্রু উল্লেখ করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছেন। বৈঠকের শেষদিকে মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নেপিডো সফরের আমন্ত্রণ জানান। সীমান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো ও ১৯৯২ সালের এপ্রিলের যৌথ বিবৃতি অনুসারে যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরতে চায়, তাদের যাচাইকরণ বিষয়ে পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের মন্ত্রীকে এই সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বৈঠকের পর একটি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মিয়ানমারের মন্ত্রী। এতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। এতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বাংলাদেশের মন্ত্রীকে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের আলোচনার পরিবেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ও উষ্ণ ছিল।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার যে আশ্বাস দিয়েছেন তাতে সন্দিহান রোহিঙ্গারা। কারণ ফিরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের ডকুমেন্ট আছে কি না তা যাচাই করেই প্রত্যাবাসনে রাজি মিয়ানমার।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আবদুল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা জানান, ঘর-বাড়ি সব জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। কোনো রকমে জীবন নিয়ে পালিয়ে এসেছেন তারা। তাদের অনেকের পক্ষেই মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখানো সম্ভব নয়। এছাড়া মিয়ানমার সরকার ১৯৯৩ সালের পর থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিত্বের অনুমোদন দেয়নি। তাই এখন মিয়ানমারের নাগরিকত্বের প্রমাণ দেয়া অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। তাছাড়া প্রত্যাবাসনের এই প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ।