রাজনীতি

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ-বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বর্তমানে দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সাময়িক ব্যস্ত থাকলেও তাদের মূল ব্যস্ততা কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেই। যদিও এখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য বক্তৃতা-বিবৃতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেন্দ্র করে; কিন্তু পর্দার অন্তরালে ঠিকই নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণাকে উভয় দলের নেতারা তাদের মূল এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছেন। ফলে সভা-সমাবেশে রোহিঙ্গা সংকট আলোচনার বিষয়বস্তু হলেও নেপথ্যে ওই সভা-সমাবেশ আয়োজনের উদ্দেশ্যই থাকছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও ছোট ছোট দলগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে ভোটের রাজনীতিতে। রাজনীতিতে জোট-মহাজোটের হিসাব-নিকাশও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কেউ জোট বাড়াতে, আবার কেউ জোটে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দরকষাকষি করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর বাকি থাকতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করেন। তার দেখাদেখি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে দুই নেত্রীর ভোট চাওয়া দুই দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উজ্জীবিত করে। গেল ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে দুই দলের নেতারাই যার যার নির্বাচনি এলাকায় ছুটে যান। তারা ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন, ইউনিয়নে ইউনিয়নে পশু কোরবানি দেন, ভোটারদের ঈদ উপহার দেন, কর্মীদের দেন নগদ টাকা। বড় দুই দলের নেতাদের তৎপরতায় গ্রাম-বাংলায় এবারের ঈদুল আজহার উৎসব রাজনৈতিক উৎসবে পরিণত হয়। ঈদুল আজহার দিনকয়েক পরেই অনুষ্ঠিত হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই দুর্গোৎসবকেও রাজনৈতিক উৎসবে পরিণত করার চেষ্টা করেন রাজনৈতিক নেতারা। তারা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক শোডাউন করেন ম-পে ম-পে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজায় নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে এখন রাজধানী ঢাকায় বসে সমানে নির্বাচনি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি জোট-মহাজোটভিত্তিক রাজনীতিও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। আদর্শগত বিরোধ থাকলেও নির্বাচনি ইস্যুতে জোট-মহাজোট গঠনে ব্যস্ত অনেক দল। এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে ৪টি রাজনৈতিক জোট। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে ৫৯টি দলের সমন্বয়ে সবচেয়ে বড় জোট গঠন করেছে জাতীয় পার্টি। যদিও এই জোটের প্রায় সবগুলো দলই নামসর্বস্ব। এরপর জোট হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা। ছোট ছোট দল মিলিয়ে আরও অন্তত ৫টি নির্বাচনি জোট গঠনের প্রস্তুতি চলছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে এসব জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে পারে। পরিধি বাড়তে পারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেরও। ইদানীং দেখা যাচ্ছে ক্ষমতার স্বাদ নেয়ার জন্য ইসলামি দলগুলোও জোটের রাজনীতিতে অধিক সক্রিয় হয়ে উঠছে। ইসলামি দলগুলো এখন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও বেশ সক্রিয়। এসব দল রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে দেয়ার মতো দাবিও তুলছে। উদ্দেশ্য একটাইÑ ভোটের রাজনীতিতে রোহিঙ্গাদের অনুকম্পা অর্জন। রোহিঙ্গারা মুসলিম বলেই হয়ত ইসলামি দলগুলো মনে করছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিলে তারা কৃতজ্ঞতাবশত ইসলামি দলগুলোকেই ভোট দেয়ার জন্য বেছে নেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের মতো এবারও জাতীয় নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং হেফাজতে ইসলামসহ একাধিক রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের জোটে টানার জন্য দরকষাকষির শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি করবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নতুন জোটগুলো যে জোটকে সমর্থন দেবে তারা ক্ষমতায়ও চলে যেতে পারে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও যাতে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা যায় সে জন্য এরশাদ ৫৯ দলের সমন্বয়ে জোট গঠন করেছেন। লক্ষ্য একটাইÑ দরকষাকষি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদ আবারো উভয় দলের সঙ্গেই দরকষাকষিতে নামবেন। এবারও এরশাদকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে নাটকের পর নাটক। শেষ পর্যন্ত এরশাদ সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি দুই দলের যেকোনো এক দলে ঢুকে পড়তে পারেন। এরশাদ কিছুতেই এককভাবে নির্বাচন করবেন নাÑ এমনটিই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন, জাতীয় পার্টির আর সেই দিন নেই। ইদানীং জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর থেকে দু’একটি আসন বের করে আনাই তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তবে সারাদেশে এরশাদের জাতীয় পার্টির কিছু ভোট রয়েছে। আর এ কারণেই জোট-মহাজোটের কাছে এরশাদের জাপার এখনও বেশ গুরুত্ব রয়েছে।
এদিকে নতুন করে জোট করার কথা ভাবছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মতো রাজনীতিবিদরাও। তবে তারা অতীতের মতো একসঙ্গে পথ চলবেন, না পৃথক জোট গড়বেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সম্প্রতি তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে জানা যায়, বিকল্পধারা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে পারে। এ নিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক দেন-দরবার চলছে অনেক দিন থেকেই। যদি বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত না হয় তাহলে গণফোরামের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে বিকল্পধারা।
মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেই আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে এ ধরনের জোট গড়ার রাজনীতি শুরু হয়েছে। বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোও ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে জোটের রাজনীতিতে শামিল হওয়ার কথা ভাবছে। কেননা অতীতে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় নির্বাচনি জোট করে জামায়াতসহ তিনটি দল ফায়দা নিতে সক্ষম হয়। জামায়াতের মতো স্বাধীনতাবিরোধী দলও মন্ত্রিত্বের স্বাদ গ্রহণ করে। সাংগঠনিকভাবে ক্ষমতার ৫ বছরে দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করে বিগত মেয়াদে কমবেশি লাভবান হয়েছে। বর্তমানে দলটি একসাথে সরকার ও বিরোধী দলে রয়েছে। আবার এরশাদ আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের আসনে এবং রওশন এরশাদ রয়েছেন সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নানাভাবে সুবিধা নেয়া ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রিত্বও পেয়েছেন। এ অবস্থায় রাজনৈতিক নানা সমীকরণের হিসাব মিলিয়ে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল শক্তিশালী জোটের সঙ্গে আগেভাগে একীভূত হওয়ার কথা ভাবছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে যাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি তাদের প্রতি দলগুলো ঝুঁকছে বেশি। এই যখন অবস্থা তখন জাতীয় পার্টিও বসে নেই। তারা নামসর্বস্ব ৫৯ দল নিয়ে জোট গঠন করেছে। নিজেদের শক্তি বৃদ্ধিসহ ভোটের আগে দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে তারাও জোরেশোরে মাঠে নেমেছে। যদিও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রায় প্রতিদিনই বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন, কিন্তু তার সমগ্র চিন্তা-চেতনার মধ্যেই রয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এদিকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণ করে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন দলটি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা ১৪ দলীয় জোট জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেব। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জোটকে সুসংহত করার পাশাপাশি জোট সম্প্রসারণের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) এ প্রসঙ্গে স্বদেশ খবরকে বলেন, আপাতত আমরা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি, তবুও এরই মধ্যে আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছি। এ বিষয়টির সমাধান হলে পুরোদমে নির্বাচনি মাঠে নামব। আপাতত ২০ দলীয় জোট হিসেবেই আমাদের আগামী নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সময় এবং পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই বড় দল ঘুরেফিরে ক্ষমতায় আসেÑ এ বিষয়টি বুঝতে পেরে ছোট দলগুলোও বেশ আগ্রহ নিয়ে তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে। কারণ এসব ছোট দলের শীর্ষ নেতারা জানেন তারা কখনও নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাই বড় দলগুলোর ওপর তারা সওয়ার হয়। এ ক্ষেত্রে আদর্শের বিষয়টি মুখে মুখে বলা হলেও ছোট দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মূল লক্ষ্য থাকে এমপি-মন্ত্রী হওয়া, ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা করা, ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া, সরকারে থাকার সুযোগে ব্যবসাবাণিজ্যসহ নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বাইরে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে আরও একটি নতুন জোট গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামে বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে থাকা একটি জোট ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠে আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া যথারীতি শেখ শওকত হোসেন নীলুর গড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক জোটকেও দেখা যেতে পারে। যদিও নীলুর মৃত্যুর পর তা এখন বেশ অনিশ্চিত। জাকের পার্টি, ইসলামি ঐক্যজোট, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ একাধিক ইসলামি দলও নির্বাচনের আগে জোটগতভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাছাড়া হেফাজতে ইসলামও এবারের ভোটের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব দল ও জোটের সত্যিকার চেহারা কী হবে তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট ও শক্তিশালী জোট গঠন নিয়ে বিএনপিকে এখন যতটা ব্যস্ত মনে হচ্ছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন নিয়ে তাদের ততোই নিস্পৃহ দেখা যাচ্ছে। বারবার আন্দোলনের কথা বললেও বিএনপি যে রাজপথের আন্দোলনে ব্যর্থ তা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বেশ ভালোভাবেই বোঝা গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো যাবে না, তা এতদিনে নিশ্চিত করে বুঝে গেছেন বিএনপি নেতৃত্ব। তাই বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতা এমনকি দলের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কোনো নেতা মনে করেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করা যাবে না। তাই গতবারের মতো হার্ডলাইনে না গিয়ে এবার নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায় বিএনপি। আন্দোলন করে দাবি আদায়ের বিষয়টি এ মুহূর্তে জোর দিয়ে ভাবছে না বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরলেই সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হবে। খালেদা জিয়ার লন্ডন থেকে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়লে এখন বলা হচ্ছে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে আন্দোলন নয়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবেন।
রাজনীতিতে এখন বড় রকমের প্রশ্ন হলো বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করবে, না সরকারি দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সহায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে যে বিএনপি সহায়ক সরকারের দাবি আদায় করতে পারবে না তা দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মোটামুটি নিশ্চিত। ফলে খালেদা জিয়া এবং তার লন্ডনপ্রবাসী পুত্র তারেক রহমান আন্দোলন বাদ দিয়ে এখন সমঝোতার কথাই ভাবছেন। সমঝোতার কাঠামো কী হবে, সমঝোতার শর্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মেনে নিবে কি না, আওয়ামী লীগ যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে কী হবেÑ এখন এসব নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণকে এক সুতায় গাঁথতেই বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন গেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরলেই বোঝা যাবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ে বিএনপি সমঝোতার পথ বেছে নেবে না আন্দোলনের পথ।
বিএনপি যে পথই বেছে নিক, আওয়ামী লীগ কিন্তু এগিয়ে চলছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে। ক্ষমতাসীন দলটির অভীষ্ট লক্ষ্য হলো টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া। সে জন্য দলটি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া ও তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালনে যেমন আন্তরিকতা দেখাচ্ছে, তেমনি তৃণমূলের সংগঠন গোছানোর কাজটিও করছে আন্তরিকতার সাথে। মানুষের প্রতি এই আন্তরিক আচরণই হয়ত বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন দল আওয়ামী লীগকে টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে সর্বাধিক সহযোগিতা করবে।