ফিচার

প্রাকৃতিক উপায়ে উজ্জ্বল লাবণ্যময় ত্বক পাবেন যেভাবে

আপনি যদি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে চান কিংবা হারানো সৌন্দর্য ফিরে পেতে চান, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এ জন্য আপনাকে ঘন ঘন বিউটি পার্লারে যেতে হবে না। ঘরে বসে কিছু নিয়ম মেনে চললেই আপনি পেতে পারেন সুন্দর লাবণ্যময় ত্বক; যা আপনি চান। বিউটিশিয়ানরা ত্বকের সৌন্দর্য চর্চায় কসমেটিকসের পরিবর্তে প্রাকৃতিক পদ্ধতির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কসমেটিকস ব্যবহারে আপনি ফল পেতেও পারেন আবার নাও পেতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বনে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন-এটা নিশ্চিত।

ক্স মধু : ত্বকের যতেœ এবং উজ্জ্বল, সুন্দর ত্বক পেতে বহুল প্রচলিত এবং উত্তম পদ্ধতি হলো মধুর ব্যবহার। এক চামচ মধু নিন। মুখের ত্বকে লাগান। আস্তে আস্তে বৃত্তাকারে মেসেজ করুন। এইভাবে দিনে দুইবার সকালে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন। সপ্তাহ দুই পরে আপনি দেখবেন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল আর সোনালি রঙ ধারণ করেছে। তবে মনে রাখবেন এখানে শুধুই মধুর কথা বলা হয়েছে, মধুর সঙ্গে দুধ বা অন্য কিছু মেশানোর কথা বলা হয়নি।
ক্স তুলসী পাতা : তুলসী পাতার রস খেলে অনেক রোগের উপশম হয়। তবে ত্বকের জন্যও এটা এক বিস্ময়। যারা তুলসীর রস ত্বকে ব্যবহার করেন তারা বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন। পাশাপাশি ত্বক হয়ে ওঠে আরো সুন্দর ও লাবণ্যময়। কাজেই রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া প্রতিকারে অব্যর্থ ওষুধ তুলসীর রস। তুলসীর কিছু পাতা নিন। শিল পাটায় বেটে কিংবা পিষে পেস্ট তৈরি করুন। আস্তে আস্তে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট রেখে হালকা কুসুম পানিতে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ লাগান।
ক্স হলুদ : ত্বকের সৌন্দর্যে হলুদের ব্যবহার এই উপ-মহাদেশে ব্যাপক মাত্রায় প্রচলিত। হিন্দু মেয়েরা তাদের পায়ে রঙ মাখাতে হলুদ ব্যবহার করে এবং এটা তাদের কাছে পবিত্র আচার। তবে এখন আর এটা ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় প্রমাণিত যে হলুদে ত্বকের রঙ ফর্সা করার গুণ আছে। যেহেতু হলুদ দামি পণ্য নয়, তাই আপনি ইচ্ছে করলে আজই এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন। মুখে, হাতে ও পায়ে নিয়মিত সকালে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদ লাগান। কিছুদিন পরই পার্থক্যটা বুঝবেন।
ক্স দই : দই ত্বক ফর্সা করে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা সত্যি। প্রতিদিন সকালে ১ টেবিল চামচ দই নিন। মুখে মাখুন। ৪ সপ্তাহের বেশি লাগবে না আপনার মুখের ত্বক ফর্সা হতে। সেই সাথে ব্রণ থাকলে তাও দূর হবে।
ক্স শসা : শসার রয়েছে ত্বক ফর্সা করার বিশেষ গুণ। শসাতে আছে এমন সব উপাদান, যা মেলানিনের উপস্থিতি কমায়, ত্বকের পুড়ে যাওয়া বা তামাটে হওয়া রোধ করে। আর এসব কারণেই বিশেষজ্ঞরা শসা ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং কিছু অংশ খেতেও বলেন। এটা পেস্টের মতো করে লাগাতে পারেন অথবা এর রস লাগাতে পারেন। শসা শুধু ত্বক সুন্দর করে তা-ই নয়, নিয়মিত শসা ব্যবহারে চোখের নিচের কালো দাগ দূর হয়। যখন শসা পেস্ট ত্বকে লাগাবেন, চাক চাক করে কাটা শসার টুকরা চোখের উপর লাগাতে ভুলবেন না যেন। এতে আপনার চোখের নিচে কালো দাগ দূর হবে।
ক্স লেবু : লেবুর রসও ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। যেকোনো সময় আপনি লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। তবে দ্রুত ও ভালো ফলের জন্য দিনে বেশ কয়েকবার লাগাতে পারেন। লেবুর রস মাখালে প্রথম কিছুক্ষণ হালকা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি হতে পারে; তবে এটা স্বাভাবিক। কাজেই এটাকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনে করবেন না। প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে একমাত্র দই ছাড়া অন্য কোনোটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে দইয়ে সামান্য অ্যালার্জি হতে পারে। একবারে ১টা লেবুই যথেষ্ট। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ নিয়মিত লাগান। অতঃপর নিজেই আয়নায় পার্থক্যটা দেখুন।
ক্স টমেটোর রস : নিজেকে সতেজ রাখার জন্য নিয়মিত টমেটো ব্যবহারে ত্বক হয়ে ওঠে আরো সুন্দর। পৃথিবীর সব দেশের নারীরাই টমেটোকে রূপচর্চার অন্যতম উপকরণ বলে মনে করেন। ১টি মাঝারি সাইজের টমেটো নিয়ে চেপে রস বের করে মুখে লাগান। অন্তত ৩ মাস পর্যন্ত প্রতিদিন এভাবে ত্বকের যতেœ টমেটো ব্যবহার করুন। দেখবেন ত্বক হয়ে উঠছে লাবণ্যময়।
ক্স চন্দন পেস্ট : ১ চিমটি চন্দন কাঠের পেস্টই আপনার এতদিনের ফর্সা হওয়ার স্বপ্ন সার্থক করতে পারে। চন্দন পেস্ট ‘ফেইস প্যাকে’র মতো করে একটানা ৩০ দিন ব্যবহার করুন। আর আশ্চর্য ফল লাভ করুন।
ক্স তরমুজ : গ্রীষ্মকালে দৈনিক কমপক্ষে তিনবার তরমুজের টুকরা নিয়ে মুখে ঘষুন। রোদে পোড়া কালো দাগ দূর হবে। তবে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করবেন। কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে দিন। অনেক সময় তরমুজে কারো কারো অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।