প্রতিবেদন

ইসি সংলাপে আওয়ামী লীগ-বিএনপি : ভোটের হাওয়ায় জমজমাট রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়েছে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ১৫ অক্টোবর বিএনপি এবং ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ইসি সংলাপে অংশ নেয়। ইসি সংলাপে সংসদ ভেঙে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছে বিএনপি। ভোটের সময় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ২০০৮ সালের আগের সংসদীয় আসন সীমানা ফিরিয়ে আনা, ইভিএম চালু না করাসহ ২০ দফা প্রস্তাবও দিয়েছে বিএনপি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে মত দিয়েছে। এছাড়াও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করাসহ মোট ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয় দলটির পক্ষ থেকে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ইসিতে পরস্পরবিরোধী প্রস্তাব দেয়। তারপরও এখন পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছে দেশের বৃহৎ এ দুইটি রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে ইসি সংলাপে অংশ নিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বৈধতা দেয়া বা মেনে নেয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ও দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা আশা করছে বিএনপি ক্রমেই নির্বাচনমুখী কর্মকা-ে মনোযোগ দিচ্ছে।
ইসিতে দেয়া আওয়ামী লীগের প্রস্তাবসমূহ
আধুনিক রাষ্ট্রসমূহের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ, ২০১৪ সালের সংসদীয় আসনের সীমানা অক্ষুণœ রাখা, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো মোতায়েন না করা, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইসহ ১১ দফা প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৮ অক্টোবর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়ে দলটি এই প্রস্তাব দেয়। এছাড়া লিখিত প্রস্তাবের বাইরে সিইসিকে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের আগে যেসব অপপ্রচার হয় তা রোধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
সংলাপে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৯ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। ইসির কাছে উত্থাপিত আওয়ামী লীগের লিখিত প্রস্তাবে গণতন্ত্র ও নির্বাচন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শীর্ষক সূচনা বক্তব্যে বলা হয়, জিয়াউর রহমান সংবিধান ও সব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন। এতে আরো বলা হয়, স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত অপশক্তি ও তাদের এদেশীয় দোসররা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ১৯৮১-৯১ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে সংগ্রাম করে আসছিলেন স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে তার প্রাথমিক বিজয় হয়। জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রবর্তন ঘটে।
ইসি সংলাপ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে যে ১১ দফা প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে তুলে ধরেন সে বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা, নির্বাচনের তিন মাস আগে পোলিং এজেন্টদের পরিচয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব হলো তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত থাকবে। সেনা মোতায়েন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে, তা ১৮৯৮ সালে প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালায় ইনএইড টু সিভিল পাওয়ার শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে আরো বলা হয়, বর্তমানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জনবল ও সক্ষমতা পূর্ববর্তী যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনীকে সাধারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের বিশেষায়িত অবস্থান বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করার যুক্তি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ বলেছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জনসংখ্যার বিশেষ করে আদমশুমারির সাথে সম্পর্কিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে (যা ২০১৩ সালে প্রকাশিত) ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদমশুমারি ব্যতীত পুনরায় এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের কার্যক্রম গ্রহণে বিভিন্ন আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।
ইসিতে দেয়া বিএনপির প্রস্তাবসমূহ
ইসি সংলাপে বিএনপি ২০ দফা দাবি তুলে ধরেছে। এগুলো হলো নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে এবং ভোটের আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ১/১১ সরকার কর্তৃক বিএনপির চেয়ারপারসনসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে হবে, গুম-খুন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এখন থেকে সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ সকল স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনকেই গ্রহণ করতে হবে। ইভিএম বা ডিভিএমে ভোট গ্রহণ করা যাবে না। প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের অন্তত ৭ দিন আগে থেকে মোতায়েন করতে হবে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ২০০৮ সালের পূর্বের সংসদীয় আসনের সীমানা বহাল রাখতে হবে। প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে, নির্বাচনের ৬ মাস পূর্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, নির্বাচনের পূর্ব সময়ের শুরুতেই সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পুলিশের সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার/পরিবর্তন করতে হবে।
নির্বাচনের পূর্ববর্তী ৯০ দিন থেকে ফলাফল গেজেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সময়কালকে ‘নির্বাচনের পূর্ব সময়’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সিইসি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না, পুরো ইসি বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচনে আচরণ বিধি প্রতিপালনে ইসির নিজস্ব প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ক্ষমতা অর্পণ করতে হবে, নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিতে হবে।
ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সের নম্বর সংবলিত চালানপত্রের ফটোকপি প্রার্থী বা প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্টকে প্রদান করতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকাভুক্ত করা, ভোটার যোগ্য কারাবন্দিদের ভোটার তালিকাভুক্তি করা এবং মৃত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা হতে বাদ দেয়া, ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছ থাকা, ‘অনলাইনে’ মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান প্রবর্তন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জামানত হিসেবে ‘নগদ বা ক্যাশ’ অর্থ জমাদানের বিধান বাতিল করা, ভোট গ্রহণ শেষে সকল পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করা, প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক ভোট গণনার স্বাক্ষরিত বিবরণী উপস্থিত প্রত্যেক এজেন্টকে প্রদান না করে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ না করা, ভোট গ্রহণের দিনই কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফল একত্রীকরণ করে প্রার্থীদের কিংবা তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা নিশ্চিত করা। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করা। তফসিল ঘোষণার পর সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সভা-সমাবেশ-পথসভার অনুমতি দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে ন্যস্ত করা, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন সংসদের মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১২ মাসের মধ্যে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা দরখাস্ত আহ্বান করতে পারবে না। ছবিসহ যে ভোটার তালিকা ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের কাছে থাকে, ছবিসহ অভিন্ন ভোটার তালিকা ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তার নির্বাচনি এজেন্টদের সরবারহ করা, দল বা প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণে সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদান, ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নৈর্ব্যক্তিকভাবে মোতায়েনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে মহানগর ও জেলায় একটি করে কমিটি গঠন করা, দেশীয় পর্যবেক্ষক ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা নিবন্ধন ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, অধিক সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করা। বন্ধ ঘোষিত গণমাধ্যম চালু করা, গণমাধ্যমে সকল দল ও প্রার্থীর প্রচারণায় সমতাভিত্তিক সুযোগ প্রদান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, আইসিটি অ্যাক্ট-এর বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করা, নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক চালু রাখা, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইন্টারসেপ্ট করতে পারে এমন সংস্থাগুলো হতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির
দেয়া প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া
দৃশ্যতই দেখা যাচ্ছে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ইসিতে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি দিয়েছে তার ঠিক উল্টো প্রস্তাব। আওয়ামী লীগ বলেছে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা যাবে না, পক্ষান্তরে বিএনপি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি করেছে। আওয়ামী লীগ বলেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করতে হবে, পক্ষান্তরে বিএনপি বলেছে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা যাবে না। আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করতে বলেছে, পক্ষান্তরে বিএনপি বলেছে, নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘বল’ নির্বাচন কমিশনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রধান ৩টি প্রস্তাব সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হওয়ায় নির্বাচন কমিশন বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এখন আওয়ামী লীগের প্রস্তাব মেনে নিলে বিএনপির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আবার বিএনপির প্রস্তাব মেনে নিলে আওয়ামী লীগকে অগ্রাহ্য করা হবে। সে কারণে সবার চোখ এখন ইসির দিকে নিবন্ধিত। ইসি কোন প্রক্রিয়ায় দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে নিয়ে আসবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ভোটাররা। ভোটারদের এ অপেক্ষা থাকবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত। ততদিন পর্যন্ত ভোটের হাওয়ায় দেশের রাজনীতি ক্রমেই যে জমজমাট হয়ে উঠবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।