কলাম

উন্মুক্ত মতামত

ওষুধের দাম কমানো হোক

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ওষুধের দাম কমাতে ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এজন্য মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর অসাধারণ সাফল্য রয়েছে। এখন ১৪০টির বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাড়ছে ওষুধের দাম। চলতি বছরেই কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে ছয়টি গ্রুপের দুই শতাধিক ওষুধের দাম। এক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ওষুধের দাম বাড়লে কী পরিমাণ বাড়ল, কয়টা ওষুধের দাম বাড়ল, গত কয়েক বছরে এ দাম বাড়ার হার কেমন ছিল বা এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ আছে কি নাÑ এসব দেখভাল সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান আজ পর্যন্ত যথাযথভাবে করেনি। ফলে এসব তথ্য-উপাত্ত যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায় না। তাই জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে ওষুধের দাম কমানোর ব্যাপারে কেবল দায়সারাভাবে অনুরোধ না করে সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
অমিত বণিক, উন্নয়ন কর্মী, ঢাকা

দ্রুত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দিন

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়; নিয়ম অনুযায়ী আমরা দরখাস্ত ও ব্যাংক ড্রাফট করি। এর মধ্যে প্রায় তিন বছর পার হলেও ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে কোনো কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। এদিকে পত্রিকার খবর অনুযায়ী বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের স্বল্পতায় শিশুদের লেখাপড়ার বিঘœ ঘটছে। আবার পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া সনদধারী বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছে। এই জাল সনদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষীয় কোনো ব্যবস্থা নেই। নিবন্ধন পাস করে সনদ পেলেও মেধাবীদের চাকরির হাহাকার কোনোভাবেই থামছে না। বেসরকারি নিয়োগে নতুন কমিশন করা হলেও তার কার্যকারিতা নেই। আবার দীর্ঘ ৭ বছর ধরে কারণ ছাড়াই নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওকরণ বন্ধ রয়েছে। রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি ঘোষণা করা হলেও নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অপ্রতুল। এমতাবস্থায়, শিক্ষক সংকট দূর করতে ২০১৪ সালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, পাস করা নিবন্ধনধারীদের প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় এবং বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উম্মে জামিলা উর্মি, কোতোয়ালি, রংপুর

সর্বনাশা গেম ব্লক করুন

ব্লু হোয়েল গেম খেলতে গিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উঠতি বয়সী অনেক ছেলেমেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমাদের দেশেও ইতোমধ্যে এক কলেজপড়–য়া মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র হাত রক্তাক্ত করে তিমির উল্কি এঁকেছে। এ ধরনের খবর পত্রপত্রিকায় আসতে শুরু করেছে। ইন্টারনেটের সাহায্যে কম্পিউটার, ল্যাপটপ আর মোবাইল ফোনে গেম, পর্নো ছবি সহজে মিলছে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন সবই থাকবে তবে এসবে গেম, পর্নো ছবিসহ ব্লু হোয়েল গেমসের মতো ক্ষতিকর আইটেম যেন না আসে সেরকম ব্যবস্থা করতে হবে। জাতির ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এ ধরনের ক্ষতিকর আইটেম চিরতরে ব্লক করে দেয়া উচিত। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লিয়াকত হোসেন খোকন, পিরোজপুর

দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গড়ে তুলুন

বর্তমানে দেশে প্রতিটি বিভাগ-জেলা-উপজেলা শহরে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আরো রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক। আবার নতুন নতুন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠছে। এখানে রোগীর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নানাভাবে সহযোগিতা করার জন্য কিছু সহকারীর প্রয়োজন হচ্ছে। এরাই বর্তমানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নামে পরিচিত। প্রতিনিয়তই বাড়ছে এদের চাহিদা। একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করার কাজ করতে হয়। যথাযথ চিকিৎসার জন্য এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং পরজীবীজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব যেভাবে বাড়ছে তেমনি রক্তস্বল্পতা এবং রক্তজনিত সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসার জন্য দরকার সঠিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, আর সঠিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য দরকার দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। একজন দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নির্ভুল পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তাই আমাদের এখন শুধু ডাক্তার তৈরি করলেই চলবে না, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টও গড়ে তুলতে হবে। দেশের সার্বিক চিকিৎসা সেবার মানকে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল ও স্বাস্থ্য বিভাগকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
আশীষ শীল শ্রাবণ, বিএমটিপি, চট্টগ্রাম

কিশোর-কিশোরীদের ধূমপান থেকে দূরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা দরকার

ধূমপানে স্ট্রোক হয়, ধূমপানে হৃদরোগ হয়, ধূমপানে লিভার সিরোসিস হয়, ধূমপানে ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) শ্বাসকষ্ট হয়। এ ধরনের সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন সময়ে বহুবার ঘোষণা করেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় মানুষ ধূমপান করেই চলেছেন। ধূমপান রোধে প্রণীত আইন কার্যত অফলপ্রসূ। আমাদের আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিত লোকদের মধ্যে অনেকেই ধূমপানের কারণে প্রবীণ বয়সে ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং চিকিৎসাও নিচ্ছেন। কিন্তু মহা আশ্চর্যের বিষয় হলো চিকিৎসক এবং পরিবারের কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাদের থামানো যাচ্ছে না। বর্তমান বিশ্বে তামাকজনিত রোগব্যাধির চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয় ১ লাখ কোটি ডলারেরও বেশি। অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সহজেই অনুমেয়। তামাক ব্যবহার ও তজ্জনিত রোগব্যাধি ও মৃত্যু হ্রাস করার উপায় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধূমপানজনিত চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছেই। এ প্রবণতা আমাদের দেশেও বিদ্যমান। বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ধূমপানকে আনস্টপঅ্যাবল স্মোকিং অভিধায় আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশেও কিশোর-কিশোরীর একটা বড় অংশ আনস্টপঅ্যাবল স্মোকিংয়ে আক্রান্ত। ফ্যাশন হিসেবেও এদের অনেকে ধূমপানকে বেছে নেয়। সমাজের এই শ্রেণিটিকে ধূমপান থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে তাদের অংশগ্রহণে অধিক পরিমাণে আগ্রহী করে তোলার জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।
হাজী মো. আলী বশির
৮৮/৮৯ আগাসাদেক রোড, ঢাকা