প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে নেপথ্যে ভূমিকা রেখে চলেছে


বিশেষ প্রতিনিধি : শুধু শহর নয়, গ্রামীণ জনপদেও এখন সুস্বাস্থ্যময় সুদিন। হাত বাড়ালেই মিলছে চিকিৎসা সেবা। দুর্গম চরাঞ্চল থেকে প্রত্যন্ত পল্লীÑ চিকিৎসা সেবা মিলছে ঘরের দরজায়। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে প্রয়োজন নেই শহরের হাসপাতালে ছোটার। পাল্টে গেছে সেই দুঃখদুর্দশার দিন। বছর দশেক আগেও দেশের পল্লী অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বলতে ছিল দুঃখ-বেদনার কাহিনি। স্থানীয় বাজারে এক-দুইটি ছোট ওষুধের দোকান, যেখানে ওষুধ বিক্রেতাই ডাক্তারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ছোটখাটো রোগব্যাধি থেকে শুরু করে জটিল সব অসুখের চিকিৎসা তিনিই করতেন। ফলে সেরে ওঠার বদলে অনেক সময় আরও বড় রোগ দানা বাঁধত মানুষের শরীরে। হাতুড়ে ডাক্তারের পাশাপাশি প্রতি গ্রামেই ছিল অপ্রশিক্ষিত একাধিক ‘দাই’। কোনোরকম প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনার কাজটি তিনি করতেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফল হতো হƒদয়বিদারক! মা ও নবজাতকের মৃত্যু ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। হাতুড়ে ডাক্তার, অপ্রশিক্ষিত দাইয়ের প্রতাপের সাথে ঝাড়-ফুঁক, পানিপড়া ও তাবিজ-তুমারের দাপটও কম ছিল না। কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যপট ভিন্ন। কষ্টের দিন নেই। দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় তৃণমূল মানুষের মন জয় করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সরকারের এই দপ্তরের মাধ্যমে প্রতিনিয়তই বাড়ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা। দেশজুড়ে এখন প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে কার্যক্রম চলছে, ২০২২ সাল নাগাদ যা ১৭ হাজার ছাড়াবে।
কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। তৃণমূলের মানুষ সহজেই এই ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। আধুনিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা নিশ্চিত হওয়ায় কমেছে মা ও নবজাতকের মৃত্যুহার। সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অবকাঠামো-স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের দায়িত্বও পালন করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। দেশজুড়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের বিশাল এই নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নের অন্যতম কারিগর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী সাপ্তাহিক ‘স্বদেশ খবর’কে জানালেন কিভাবে সম্ভব হয়েছে এই অগ্রযাত্রা।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা আমাদের। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের স্থাপনা নির্মাণের দায়িত্ব পড়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওপর। এই প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অর্থাৎ স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ে যথাযথ মান বজায় রেখে স্বাস্থ্য অবকাঠামো তথা স্থাপনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করছে। যথাসময়ে দেশের পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে নেপথ্যে থেকে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে। ফলে নতুন যে ৩ হাজার ১৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর গঠনশৈলী হয়েছে মজবুত ও কার্যকর।’ এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী বলেন, ‘সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ পরিচালনা করা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জন্য অনেক সহজ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ ধরনের কর্মকা- পরিচালনা করা আদৌ সম্ভব হতো না।’ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের প্রধান শর্তই ছিল নিভৃত পল্লীতে এটি স্থাপিত হতে হবে। এই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ গ্রামাঞ্চলে সরকারি খাস জমি নেই বললেই চলে। ফলে জমির জন্য নির্ভর করতে হয়েছে স্থানীয় বিত্তবানদের ওপর। অনেক স্থানে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের জন্য বিত্তবানরা প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছেন। তাছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য প্রকল্প এলাকায় নির্মাণসামগ্রী নেয়ার কাজটিও সহজ নয়। আবার সেই নির্মাণসামগ্রী রক্ষার কাজটিও বেশ কঠিন। কারণ প্রকল্প এলাকা অজপাড়াগাঁ হওয়ায় টাউট-বাটপাড়, চোর-ডাকাতের উপদ্রব অনেক। তারপরও সমস্ত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে টেকসই, উন্নত নির্মাণশৈলী ও যথাযথ মান বজায় রেখে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে উঠছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ ছাড়াও স্বাস্থসেবা সম্পর্কিত অন্যান্য বৃহৎ স্থাপনাও নির্মাণ করতে হয়। তবে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ কাজকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এর অন্যতম কারণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে একেবারে পল্লী এলাকায়। এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছে তৃণমূলের গরিব সাধারণ জনগণ। কিন্তু তৃণমূলের জনগণের উপকারে পল্লী অঞ্চলে সরকারের তরফ থেকে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে দেখা যায়, সেখানে দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য অনেকেই মুখিয়ে থাকে। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই ওই স্থাপনা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যাতে একই ঘটনা না ঘটে সেজন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মকা-ের ওপর কড়া দৃষ্টি রাখে। ফলে এই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে বলতে পারি, গত ৫ বছরে যে ৩ হাজার ১৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে, তার সবই হয়েছে টেকসই, আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন।’
কমিউনিটি ক্লিনিকের শুরুর ইতিহাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব একটি প্রকল্পের নাম কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প গ্রহণ করেন। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সারাদেশে ১০ হাজার ৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মিত হয় এবং ৮ হাজারটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়। সরকার পরিবর্তন হলে মাঝখানে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকে। ২০০৯ সাল থেকে আবার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু করা হয়। ২০১১ সাল থেকে আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয় ৩ হাজার ১৩৮টি। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৬১টি। ২০২২ সালের মধ্যে সারাদেশে ১৭ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ সংক্রান্ত সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুভব করেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের তুলনায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকায় গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা জরুরি। তা না হলে দেশের আপামর জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের স্বাস্থ্যসেবাকে বিস্তৃত করার জন্য পল্লী এলাকার প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ছিলÑ সাধারণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে একটি কেন্দ্র থেকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা। এই উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ‘স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেক্টর কার্যক্রম’-এর আওতায় ১৯৯৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের গিমাডাঙায় দেশের প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকের পথচলা শুরু হয়।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে ২০১০ সালের ২২ মার্চ সিএমএমইউ’কে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপার্টমেন্ট হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)-এ উন্নীত করা হয়। যদিও স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অবকাঠামোসমূহের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিপিডিইউ নামে একটি পৃথক প্রকৌশল ইউনিট গঠন করেন। পল্লী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কারের কাজ, ইউনিয়ন হতে জেলা পর্যায়ে ১০০ শয্যা পর্যন্ত সব স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অবকাঠামো বা স্থাপনা নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব পালন করে থাকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়া এই অধিদপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল হতে শুরু করে জেলা হাসপাতাল, জাতীয় পর্যায়ের হাসপাতালও নির্মাণ করে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানান, স্বাস্থ্য খাতে জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে এগিয়ে। সারাদেশে ১৭ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের লক্ষ্যে চতুর্থবারের এ কর্মসূচি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কর্মকা- পরিচালনা করতে গিয়ে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়Ñ এমন এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রকল্প কমিউনিটি ক্লিনিক। তাঁর সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সার্বিক তত্ত্বাবধান, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। বরং এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্তমান সহায়তা অব্যাহত থাকলে ২০২২ সালের আগেই সারাদেশে ১৭ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক তৃণমূল জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় রাখবে অনন্য ভূমিকা। স্বাস্থ্যসেবায় নিঃসন্দেহে স্থাপন করবে দৃষ্টান্ত।’ প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতিমালা বাস্তবায়নের উদাহরণে পরিণত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী, পিএসসি। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এ কাজে প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেটি হলো সঠিক মান বজায় রেখে যথাসময়ে সব কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ করা। অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সে লক্ষ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময়ে চ্যালেঞ্জ নিয়েই সফল হয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এবারও ব্যত্যয় হবে না। আমরা কাজ করছি মানুষের জন্য। তাই স্বচ্ছতার সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সবকিছু সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

এক নজরে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের কার্যক্রম

– ১৯৯৮-২০০১ মেয়াদে নির্মিত ১০ হাজার ৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা।
– ২০২২ সালের মধ্যে সারাদেশে ১৭ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা।
– ৪ হাজার ৫০০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি ক্লিনিকের ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা।
– ১৩ হাজার ৫০০ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার নিয়োগ সম্পন্ন করা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
– জনগণকে জরুরি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা।
কমিউনিটি ক্লিনিকের উপাদান
– কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন নির্মাণ।
– জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ।
– আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহ।
– চিকিৎসা উপকরণ ক্রয় ও সরবরাহ।
– ওষুধপত্র ক্রয় ও সরবরাহ।
– সেবা প্রদান ও রেফার করা।
– কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ গঠন ও এর কার্যাবলি সম্পন্ন করা।

এক নজরে কমিউনিটি ক্লিনিকে
প্রদত্ত সেবাসমূহ

– মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরিচর্যা।
– শিশু রোগের সমন্বিত চিকিৎসা সেবা।
– প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা।
– ইপিআই বা টিকা, এআরআই-এর চিকিৎসা।
– সদ্য বিবাহিতা এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের নিবন্ধীকরণ, সম্ভাব্য প্রসব তারিখ নিরূপণ ও সংরক্ষণ।
– পুষ্টি শিক্ষা ও সম্পূরক মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট প্রদান।
– সদ্য প্রসূতি মা, মারাত্মক পুষ্টিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের ‘ভিটামিন-এ’ ক্যাপসুল প্রদান।
– স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে শিক্ষা ও পরামর্শ।
– সাধারণ রোগ ও জখমের চিকিৎসা।
– বয়স্কদের লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান।
– কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য শিক্ষা।
– শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের শনাক্ত ও রেফার করা।
– জরুরি ও জটিল রোগী উচ্চতর পর্যায়ে রেফারের মাধ্যমে কার্যকরী রেফারেল পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা।
– সেবাসমূহের তথ্য যথাযথভাবে সংশ্লিষ্টদের প্রেরণ।