প্রতিবেদন

মিয়ানমারে গভীর সমুদ্র বন্দরের ৭০ ভাগ মালিকানা পাচ্ছে চীন

স্বদেশ খবর ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে দেশটির সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে চীন। সমঝোতা মতে, ওই সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ মালিকানা পাবে চীন এবং ৩০ শতাংশ মালিকানা থাকবে মিয়ানমারের।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ওই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে। অনেক দিন ধরেই এই বন্দরের মালিকানার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দেনদরবার চলছিল।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। রাখাইন থেকে গত দেড় মাসে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধন’ অভিহিত করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানান, রাখাইনে মিয়ানমার সরকার দুটি বৃহৎ প্রকল্প গড়ে তুলছে। তার একটি হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) নির্মাণ। ওই প্রকল্পেরই অংশ এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প গ্র“প সিআইটিআইসি ও থাইল্যান্ডের একটি কোম্পানি ২০১৫ সালে এই দুই প্রকল্পের কাজ পায়। সিআইটিআইসি গ্র“প কিয়াউক পিউ বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে এবং এর ৭০-৮৫ শতাংশ মালিকানা নিচ্ছে। বাকি মালিকানা মিয়ানমারের। ওই অঞ্চলে একটি বন্দর রয়েছে। সেটি আকারে ছোট এবং বর্তমানে সেটি মূলত দেশীয় পণ্যরপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বন্দরটি গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে পুনর্নির্মিত হলে এর বার্ষিক ক্ষমতা দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন কার্গো এবং ৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন টিইইউ। চীন বাণিজ্য সম্প্রসারণের উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনা নিয়েছে। এই বন্দরটি তাদের সেই ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সামুদ্রিক অবকাঠামো বিনিয়োগ পরিকল্পনারই অংশ। এর মধ্য দিয়ে এশিয়া ছাড়িয়ে বাইরের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপন সহজ হবে। বন্দরটি পশ্চিমা দেশ থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য চীনের বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করবে। এখন চীনকে তেল আমদানি করতে হয় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালি দিয়ে। বন্দরটি নির্মিত হলে এই প্রণালি এড়িয়ে যেতে পারবে চীন।
মিয়ানমারের গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানকারী সরকারি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান উ মং জানান, রাখাইন রাজ্যে ৭২০ কোটি ডলারের গভীর সমুদ্রবন্দরের এ প্রকল্পের একটি বড় অংশের মালিকানা চেয়ে মিয়ানমার চীনের সিআইটিআইসি গ্র“পের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চালিয়ে আসছে। অবশেষে গত সেপ্টেম্বরে তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চীন ওই প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ মালিকানা চাইছিল। কিন্তু রাখাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং মিয়ানমারের অন্যরা মনে করেন, চীনের এ দাবি অযৌক্তিক। জনগণও এ পরিকল্পনার সঙ্গে মতানৈক্য পোষণ করে আসছিল। সরকার এখন একটি ইতিবাচক চুক্তির চেষ্টা করছে।’
উ মং জানান, নতুন প্রস্তাবটি মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিওর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। যদিও দুই দেশ এখনো প্রকল্পে কে কতটা বিনিয়োগ করবে তা চূড়ান্ত করেনি। এ বিষয়ে পরে আলোচনা হবে।
উ মং জানান, আগের সামরিক সরকারের সঙ্গে চীনের যে আলোচনা হয়েছিল তাতে ওই বন্দরে মিয়ানমারের অংশ ছিল ১৫ শতাংশ। সেই হিসাব অনুযায়ী চীন মিয়ানামারের বিনিয়োগেরও অনুপাতও ছিল ৮৫ ও ১৫ শতাংশ হারে। এখন মিয়ানমারের মালিকানা ৩০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পর সিআইটিআইসি বলেছে মিয়ানমারকে ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু মিয়ানমার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের অবস্থানেই থাকতে চাইছে।