ফিচার

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার কয়েকটি সহজ উপায়


নানা কারণে মানুষের শরীরে রোগব্যাধি বাসা বাঁধতেই পারে। অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। শরীরে রোগ ধরা পড়লে তা নিরসনে ডাক্তার ওষুধ-পথ্য দেন। সেগুলো খেতে হয় নিয়ম করে। নিয়মের ব্যত্যয় হলে রোগ তো সারেই না উপরন্তু রোগটি আরো জটিল আকার ধারণ করে। সেজন্য রোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরে যাতে রোগ সৃষ্টি না হয় সেজন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলাই সর্বোত্তম পন্থা। নিচে স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার কয়েকটি সহজ উপায় সম্পর্কে আলোকপাত হলো। এগুলো অনুসরণ করলে আশা করা যায়, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে কয়েক ধাপ।

ষ হতাশা অথবা অবসাদ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই একটানা কাজ না করে মাঝে মাঝে বিরতি দিন এবং তারপর আবার মনোযোগ দিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়–ন।
ষ উচ্চস্বরে হাসি রক্তচাপ কমায় এবং কর্টিসোল হরমোন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই মাঝে মাঝে হাসির বই পড়–ন কিংবা সিনেমা-নাটক অথবা কার্টুন দেখুন।
ষ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা না বলে সরাসরি বলুন। এতে শরীরের ‘কর্টিসোল’ নামের হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
ষ সূর্যের ইউভি-এ ও ইউভি-বি ত্বকের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান নষ্ট করে দেয়। তাই যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলুন।
ষ যেকোনো রকম কলিজাই সেলেনিয়াম, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, কপার, ফলিক এসিড, ভিটামিন-বি৬ এবং ভিটামিন বি-১২ দ্বারা সমৃদ্ধ, যা শরীরের বি-সেল থেকে ইমিউনোগ্লোবিউলিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়; যা শরীরে জীবাণু চিহ্নিত করার কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করে।
ষ ঘুমিয়ে থাকলে শরীরের বিশেষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যক্ষম হয়। তাই যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে না পারেন তাহলে অবসর সময়ে টিভি না দেখে চোখ বন্ধ করে রাখুন।
ষ প্রতিদিন ৪৫ মিনিট আর সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটতে বের হোন। এতে করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চাঙা হয়ে ওঠার পাশাপাশি রক্তচাপও কমবে। হাঁটার পাশাপাশি পারলে গান শুনুন। কেননা সমীক্ষায় দেখা গেছে, গান অথবা সুরেলা আওয়াজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ষ খাবারের ব্যাপারে যতœবান হোন। যা খুশি তাই, যখন খুশি তখন খাবেন না। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। কেননা এর দ্বারা শরীরে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হতে পারে। আর শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরির জন্য রোজ টকদই খান।
ষ শস্যদানা, বিশেষ করে ভুট্টা, বার্লি এবং কর্নফ্লেক্স জাতীয় খাবারের মাঝে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ‘ফাইটোঅ্যাসট্রোজেনস প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা ক্যান্সার, হার্টের অসুখ ও ব্রেস্ট টিউমার রোধে বিশেষ সহায়ক। এছাড়া ‘ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ক্ষত শুকানোর ক্ষমতা বাড়ায়।
ষ পানি আপনার শরীরে ছাঁকনি হিসেবে কার্যরত মিউকাস পর্দাকে আর্দ্র ও কার্যক্ষম করে। তাই অন্য সব পানীয় কম খেয়ে যতটা সম্ভব বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
ষ তিন বেলা ভাত খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনুন। তার বদলে লাল আটার রুটি খান। কেননা এর মাঝে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম ও জিংক রয়েছে।
ষ সামুদ্রিক খাবারে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, জিংক, সেলেনিয়াম, কপার ও ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়; যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই সুযোগ পেলেই সামুদ্রিক খাবার খান।
ষ নিয়মিত প্রার্থনা করুন। এতে শরীরের অবসাদ দূর হবে। তাই একে জীবনের একটি অঙ্গ বানিয়ে ফেলুন।
ষ ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি জাতীয় সবজিতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারে টমেটো, লেবু, নারিকেল, পেয়ারা, কালোজামের মতো খাবার রাখুন।
ষ রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবেও রসুন খুব ভালো কাজ করে। কাঁচা অথবা অল্প সেদ্ধ রসুন নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন। চাটনি বা সসের সাথে রসুন কুচি মিশিয়ে খেতে পারেন।
ষ জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ ও দই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। দুধ হজম না হলে দুধের তৈরি খাবার খান। দিনে অন্তত ১০০ গ্রাম দই আর ১ কাপ দুধ খাবার চেষ্টা করুন।
ষ ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধে খুব সাহায্য করে। গাজর, টমেটো, কুমড়া বেশি করে খান। সারাদিনে ১ কাপ গাজরের জুস খেতে পারলে দারুণ উপকার পাবেন। গাজরের জুস দুধ থেকে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর।
ষ প্রিজারভেটিভ দেয়া খাবার ও রঙ মেশানো খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে।
ষ মধু ও দারুচিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ষ প্রতিদিন নিয়ম করে ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন । মনে রাখবেন যতই ভিটামিন ট্যাবলেট খান না কেন, প্রাকৃতিক খাবারের ভিটামিন অনেক বেশি কার্যকর হয়।
ষ চা খেতে পারেন, কেননা তা শরীরকে নিরোগ রাখতে সহায়তা করে।
ষ সালাদ ও মাংসে ভিনেগারের বদলে লেবুর রস ব্যবহার করুন।
ষ চিনির বদলে মধু ও গুড় ব্যবহার করুন, যা অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনকে কিছুটা মেটায়।
ষ খাবার পানি সর্বদা ফুটিয়ে পান করুন। অনিরাপদ পানি শরীরের নানান রকম সমস্যার প্রাথমিক উৎস।
ষ প্যাকেটের চিপস বাদ দিয়ে ঘরে তৈরি চিপস খান। মিষ্টি ক্রিমের বদলে খান ঘরে তৈরি খিরশা।
ষ একই তেলে বার বার তৈরি ভাজাভুজি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।