কলাম

কোচিং বাণিজ্যে ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা : এখনই কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে

বর্তমানে কিছু শিক কাসে না পড়িয়ে বাড়িতে ও কোচিং সেন্টারে পড়ানোর কৌশল তৈরি করেছেন। কাসে পাঠদানের প্রক্রিয়াতেই এমন কৌশল নির্ধারণ করে রেখেছেন কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকরা। কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে তারা শিার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে নিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেছেন স্বয়ং শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিামন্ত্রীর কথার সাথে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই। বলা যায় তিনি লাখ লাখ অভিভাবক ও শিার্থীর কথারই প্রতিধ্বনি করেছেন। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি নীতিমালার কথা বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। সত্যি বলতে কি এটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শুধু নীতিমালা করলেই হবে না, সেটি কতটা বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবায়নযোগ্য সে দিকটিও বিবেচনায় নিতে হবে। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েই বসে থাকলে চলবে না বাস্তবে যার কোনো প্রয়োগগত ভিত্তি নেই। অভিযোগ আছে, স্কুলের শিকরা স্কুলের বাইরে কোচিংয়ে কাস করিয়ে বাড়তি টাকা পান বলে স্কুলগুলোতে ঠিকমতো কাস নেন না। কিন্তু সরকার যেহেতু তাদের বেতন দেন সেহেতু স্কুলে ঠিকমতো কাস নেয়া তাদের দায়িত্ব। তাই শিকদের কোচিংয়ে কাস নেয়া বন্ধ করার ল্েয কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা জরুরি। বলতে বাধা নেই, শিাঙ্গনে কোচিং ব্যবস্থা এক মারাত্মক ব্যাধির রূপ ধারণ করেছে। তার বিস্তার ঘটেছে বিপুলভাবে। অধিক উপার্জনের জন্য একশ্রেণির শিক কোচিংয়ে তার শক্তি ও সময় ব্যয় করছেন। ফলে উপেতি হচ্ছে শ্রেণিকরে শিাদান। আবার এর অন্য একটি অনৈতিক দিকও রয়েছে। শিার্থীদের অভিভাবকরাও একধরনের চাপ অনুভব করেন শ্রেণিকরে শিকের কাছে কোচিংয়ে পড়াতে। পরীায় ভালো নম্বর পাওয়ার েেত্র এটা অনৈতিক কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রতিযোগিতামূলক সমাজে সাধারণভাবে পরীায় ভালো ফল লাভের আশায় শিার্থীরা কোচিং সেন্টারের মুখাপেী হয়ে পড়ছে। শ্রেণিকে যথাযথভাবে পাঠদান করা গেলে, মানসম্পন্ন শিা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একজন শিার্থীর কোচিংয়ে পড়ার দরকার হতো না। শিক এবং ছাত্রের একটি বাস্তবসম্মত অনুপাত রা করাও জরুরি। সুতরাং শিার উন্নতির জন্য পুরো বিষয়টি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করতে হবে। শিা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে কোচিং ব্যবসা এবং শিকদের প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করতেই হবে। শিাকে কিছুসংখ্যক লোকের অনৈতিক বাণিজ্যের ধারা থেকে বের করে আনতে মানসম্পন্ন শিক নিয়োগ, শ্রেণিকে পাঠদানে শিকদের পূর্ণ প্রস্তুতি ও মনোযোগ দিতে হবে। বিশ্বের কোথাও মূলধারার শিা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ ধরনের কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনির রমরমা ব্যবসা নেই। বর্তমান বাস্তবতায় কোচিং ব্যবসা বন্ধের পাশাপাশি শ্রেণিকে শিার মানোন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শিা প্রতিষ্ঠানের শিকদের উপযুক্ত প্রশিণ দানের পাশাপাশি দ, মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শিকতার পেশায় আকৃষ্ট করতে শিকদের বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।