কলাম

বাঙালির আত্মপরিচয়

অরুণ কুমার গোস্বামী : বাঙালির আত্মপরিচিতি একটি প্রবহমান প্রপঞ্চ। স্বাধীন বাংলাদেশের মূল প্রেরণা হচ্ছে ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রিস্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙালি।’ তবে, বর্তমানের প্রেক্ষাপটে খাপছাড়া শোনা গেলেও এটি সত্য যে এক সময় বাঙালি বলতে এরকম সব ধর্মাবলম্বী বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হতো না। একটা সময় ছিল যখন ‘বাঙালি’ ও ‘মুসলমান’ আলাদাভাবে বোঝানো হতো। আবুল মনসুর আহমদ তার ‘বাংলাদেশের কালচার’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘বহু হিন্দু লেখক ও শিক্ষাবিদ নিতান্ত সদুদ্দেশ্য-প্রণোদিত হইয়াই বক্তৃতায় বলিতেন ও প্রবন্ধে লিখিতেন : ‘আজকাল ভদ্রলোকদের দেখাদেখি মুসলমানদের মধ্যেও শিক্ষা প্রসার লাভ করিয়াছে, এটা বড়ই আনন্দের কথা’ (পৃঃ ২৭৩) আবার সাম্প্রতিক সময়ে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের অধিবাসী সে দেশের নাগরিকদের, আসল বার্মিজ নাগরিকতার রাজনৈতিক পরিচিতি অস্বীকার করে বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী তাদেরকে বাঙালি সন্ত্রাসী বলছে। এটি মিয়ানমারের একটি অমানুষিক আচরণ ছাড়া কিছুই নয়। পাকিস্তানি জেনারেলরা, সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছিল পাশবিক কায়দায় বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাঞ্জাবি-তে রূপান্তরিত করতে। বাঙালিরা জীবন দিয়ে তা প্রতিহত করেছে। বাঙালি হিসেবে পরিচিত বিশ্বের বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর একমাত্র স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে ১৯১২ সালে বাংলায় কবিতা লিখে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি উপলে আয়োজিত এক সভায় ঢাকার নেতৃস্থানীয় মুসলিম অভিজাত নবাব স্যার সলিমুল্লাহ রবীন্দ্রনাথকে ‘আধুনিক ভারতের মহত্তম কবি প্রতিভা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন।’ তবে এতকিছু সত্ত্বেও, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে রাজনৈতিকভাবে বাঙালির পরিচিতি পূর্ণতা পায়নি। বাঙালির রাজনৈতিক পরিচিতি প্রতিষ্ঠার প্রধানতম অবলম্বন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
আবুল মনসুর আহমদ তার বাংলাদেশের কালচার গ্রন্থে প্রত্যেক ন্যাশনের একটি স্পিরিচ্যুয়াল অস্তিত্ব বা আত্মা থাকার কথা বলেছেন। তার মতে ব্যক্তির মত একটি জাতির জন্যও ‘আত্মার অস্তিত্ব-স্বীকৃতি কল্যাণকর’। প-িতদের মতে প্রাচীন সভ্য মানবগোষ্ঠী হিসেবে বাঙালি জাতির প্রায় চার হাজার বছরের ইাতহাস আছে।
বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বাঙালির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেছেন, ‘আমাদের বাঙালির মধ্যে দুইটা দিক আছে। একটা হলো ‘আমরা মুসলমান, আর অন্যটা হলো আমরা বাঙালি।’ পরশ্রীকাতরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে। বোধহয় দুনিয়ার কোনো ভাষাতেই পরশ্রীকাতরতা শব্দটি পাওয়া যাবে না। পরের শ্রী দেখে যে কাতর হয়, তাকে পরশ্রীকাতর বলে। ঈর্ষা, দ্বেষ সকল ভাষায়ই পাবেন, সকল জাতির মধ্যেই কিছু কিছু আছে; কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা। ভাই, ভাইয়ের উন্নতি দেখলে খুশি হয় না। এই জন্যই বাঙালি জাতির সকল রকম গুণ থাকা সত্ত্বেও জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে।’ (পৃঃ ৪৭-৪৮) এটি একটি যাচাইয়ের বিষয় যে, নীরদচন্দ্র চৌধুরী তার ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ তথা ‘আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ’-এ বাঙালির এই ধরনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি আলোকপাত করেছেন কি না? এ দু’টি বিষয়কে পাশাপাশি রেখে যাচাইয়ের চেষ্টা এখনো হয়নি। তবে এই দু’টি বইতেই ‘বাঙালিদের’ সম্পর্কে চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মাধ্যমে লেখক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনীতিক এ ধরনের আত্মজীবনীমূলক বই লেখেননি। এই বইটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস।
মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভাবতেন। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। আর এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস হচ্ছে ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা তাঁর রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তুলেছে। উল্লেখ্য, নীরদচন্দ্র চৌধুরী তাঁর বইতে লিখেছেন ‘বাঙালী’, বঙ্গবন্ধু তাঁর বইতে লিখেছেন ‘বাঙালি’। ঈ-কার এবং ই-কার এর পার্থক্য ছাড়া অবশিষ্ট সবকিছুতেই ‘বাঙালি’ কিন্তু ‘বাঙালি’ই আছে!
বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ‘অনেক সময় দেখা গেছে, একজন অশিক্ষিত লোক লম্বা কাপড়, সুন্দর চেহারা, ভালো দাড়ি, সামান্য আরবি ফার্সি বলতে পারে, বাংলাদেশে এসে পীর হয়ে গেছে। বাঙালি হাজার হাজার টাকা তাকে দিয়েছে একটু দোয়া পাওয়ার লোভে। ভালো করে খবর নিয়ে দেখলে দেখা যাবে ওই লোকটা কলকাতার কোনো ফলের দোকানের কর্মচারী অথবা ডাকাতি বা খুনের মামলার আসামি। অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটি অন্যতম কারণ।’
আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-এ নীরদচন্দ্র চৌধুরী লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথের সমস্ত দুঃখের মূলে যাহা ছিল তাহা যে অযোগ্য স্বজাতির প্রতি আসক্তি, তাহাতে সন্দেহমাত্র নাই। এই আসক্তিকে অহৈতুকী মোহ বলা যাইতে পারে, কারণ বাঙালি চরিত্রের দুর্বল ও অপকৃষ্ট দিক সম্বন্ধে তাঁহার কোনো অজ্ঞতা ছিল না।’ (পৃঃ ৬) এ সম্পর্কে বাঙালি জাতির প্রতি রবীন্দ্রনাথের ‘অভিমান’-এর কথা নীরদচন্দ্র চৌধুরী উল্লেখ করেছেন (যা রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখে লিখেছেন) রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘যেটা যথার্থ ক্ষোভের সেটা এই যে, আমার দেশে আমার নিন্দার ব্যবসায়ে জীবিকা ভালো চলে, বুঝতে পারি আমার সম্বন্ধে তীব্র বিদ্বেষ কতদূর পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে আমার দেশে। আমার প্রতি আঘাত, আমাকে অবমাননা দেশের লোককে কতই কম বেদনা দেয়। তা যদি না হোত তাহলে আমার বিরুদ্ধে নিন্দার পণ্য এত লাভজনক হোত না।’ (নীরদচন্দ্র চৌধুরী কর্তৃক উদ্ধৃত পৃঃ ৭)
নীরদচন্দ্র চৌধুরী তাঁর ‘আত্মঘাতী বাঙালি’-তে বাঙালিদের আত্মবলে বলীয়ান হওয়ার জন্য রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত আহ্বান উল্লেখ করে বলেছেন,
‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে।
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়-
তবে পরাণ খুলে
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলরে।’
বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘আমি অনেকের মধ্যে একটা জিনিস দেখেছি, কোনো কাজ করতে গেলে শুধু চিন্তাই করে। চিন্তা করতে করতে সময় পার হয়ে যায়, কাজ আর হয়ে ওঠে না। অনেক সময় করব কি করব না, এভাবে সময় নষ্ট করে এবং জীবনে কোনো কাজই করতে পারে না। আমি চিন্তাভাবনা করে যে কাজটা করব ঠিক করি, তা করেই ফেলি। যদি ভুল হয়, সংশোধন করে নিই। কারণ যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না।’ (পৃঃ ৮০) আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে হলেও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উল্লিখিত দু’টি উদ্ধৃতিতে অনন্য সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
এভাবে বাঙালির মনমানসিকতার কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্যের আভিজাত্যপূর্ণ প্রতিফলন বাংলার দুই শ্রেষ্ঠতম সন্তানের মধ্যে লক্ষ্য করা যেতে পারে। বলা বাহুল্য ‘বাঙালি’ পরিচিতি ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে, যা বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য এবং ১৯৫০’র দিকে গড়ে ওঠা ভাষা আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; যা ঘটনা পরম্পরায় বাংলাদেশের সৃষ্টির দিকে নিয়ে গিয়েছে। কালক্রমে, ইতিহাস লেখা ও পুনরায় লেখা প্রত্যক্ষ করেছে স্বাধীন বাংলাদেশ এবং বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় পরিচিতি পরিবর্তিত ও পুনঃআকৃতি প্রাপ্ত হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাঙালির আত্মপরিচয় অনুসন্ধান করতে হলে আমাদের প্রাক-আধুনিক যুগে বাংলার সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিত এবং এর বিবর্তন অনুধাবন করতে হবে।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার জীবনীতে লিখেছেন, ধর্মীয় সাদৃশ্য ভৌগোলিক, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতার অঞ্চলগুলোকে একত্রিত করতে পারে এটি বোঝানো জনগণের সাথে একটি বিরাট প্রতারণা। মাওলানা দৃশ্যত পাকিস্তানকে লক্ষ্য করেই এই কথাগুলো লিখেছেন। পরিস্থিতি মুসলিম, বাঙালি এবং বাংলাদেশি বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। পাকিস্তানি ধর্মীয় ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকল থেকে মুক্ত হওয়ার পর ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর থেকে পুনরায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর পাকিস্তানি মতাদর্শের আঘাত আসা শুরু করে। তবে আশার কথা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বাঙালি চেতনা পুনরায় জাগ্রত হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও বাধা আছে প্রচুর। বিভিন্ন স্বার্থবাদী গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্র যন্ত্রগুলো ইনকুসিভ ধূসর এলাকাগুলো সংযুক্ত করতে অস্বীকার করেছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি জাতির সংজ্ঞা নিরূপণ করতে ব্যর্থ হচ্ছি? অন্য কথায়, আমরা কি পরিচিতির সংকটে ভুগছি? ইসলামি গোষ্ঠীগুলো বাঙালি সংস্কৃতির সার্বজনীন বৈশিষ্ট্যগুলোকে ইসলামবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আছে হেফাজতে ইসলাম, ইসলামি ঐক্যজোট, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আওয়ামী ওলামা লীগ। অন্য দিকে বর্তমান সরকার অবাঙালি স্কুলসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া সরকার বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করেছে।
এসব প্রশ্ন উপলব্ধি ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। যদিও ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংযোজিত হয়েছিল, তথাপি তখনো রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা অনুভব করা যেত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সামরিক শাসকেরা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার শুরু করে। এই উদ্দেশ্যে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেয়া হয়েছিল এবং সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজিত করেছিল। আর অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘ইসলাম’কে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে সংযোজিত করা হয়েছিল। এই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থামানো এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করার সুযোগ পায় সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের বদান্যতায়। আরো পরে ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সফলতার পরে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ‘গণতন্ত্রের অংশীদার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এভাবে যে ধর্মভিত্তিক দলটি ১৯৭১-এ ছিল গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সেই দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বিজয় এবং সামরিক শাসকদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কারণে মূলধারা রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
লেখক : চেয়ারম্যান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক
সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়