কলাম

বৃদ্ধাশ্রম যেন হয় সন্তানেরই ঘরে

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ : পহেলা অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আগামীর পথে, প্রবীণের সাথে’। সমাজের একটি প্রচলিত প্রবাদবাক্য, ‘যদি কিছু শিখতে চাও, তিন মাথার কাছে যাও’। আর তা হচ্ছে আমাদের প্রবীণরা, আমাদের শেকড়। দুঃখজনক হলেও সত্য, সমাজের উন্নতির সাথে সাথে আমরা সে শেকড়টি যেন উপড়ে ফেলছি। প্রবীণ ব্যক্তি আমাদের অনেকের কাছেই স্রেফ ‘বুড়া-বুড়ি’ । বাংলাদেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে, যাদের অধিকাংশই মহিলা তথা জননী ‘যার পদতলেই সন্তানের স্বর্গ’। বাস্তবে এসব জননীকুলের অনেকের অবস্থা খুবই অসহায়, ‘সন্তান পরিত্যক্তা জননী’র মতো। আমাদের বহুমুখী কর্মব্যস্ততায় পারস্পরিক দায়বদ্ধতা লোপ পাচ্ছে, আর মা-বাবা তথা প্রিয়জনের প্রতি বাড়ছে উপো।
অথচ আল্লাহর নির্দেশ ‘তোমার রব ফয়সালা করে দিয়েছেন তোমরা কারোর ইবাদত করো না, একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো। পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো। যদি তোমাদের কাছে তাদের কোনো একজন বা উভয় বৃদ্ধ অবস্থায় থাকে, তাহলে তাদেরকে ‘উহ’ পর্যন্তও বলো না এবং তাদেরকে ধমকের সুরে জবাব দিয়ো না বরং তাদের সাথে মর্যাদাসহকারে কথা বলো। আর দয়া ও কোমলতাসহকারে তাদের সামনে বিনম্র থাকো এবং দোয়া করতে থাকো এই বলে, হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা দয়া, মায়া, মমতাসহকারে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন’। (সূরা বনি ইসরাইল : ২৩, ২৪) আল্লাহ বলেন, ‘মা সন্তানকে কষ্টের ওপর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে। সুতরাং সে (সন্তান) যেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে’। (সূরা লোকমান : ১৪) মহান আল্লাহ আরও বলেন ‘তোমরা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, তাদের দুঃখকষ্ট দিও না, তাদের সম্মান রা করে কথা বলো, তাদেরকে বৃদ্ধ বয়সে তিরস্কার করো না, তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলবে’। (সূরা আনকাবুত : ৮, সূরা বনি ইসরাইল : ২৩, সূরা আহকাফ : ১৫, সূরা বকর : ৮৩) বৃদ্ধ ও অসুস্থ পিতা-মাতার সেবাসন্তুষ্টির মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। প্রিয় নবী (স.) বলেন, ‘পিতা-মাতার সন্তুষ্টিই আল্লাহর সন্তুষ্টি’। (তিরমিজি) প্রিয় নবী (স.) আরও বলেন, ‘যে প্রবীণদের সম্মান করে না, সে আমার দলভুক্ত (উম্মত) নয়’। (আবু দাউদ) বয়স্কদের প্রতি সম্মানের তাৎপর্য প্রসঙ্গে প্রিয় নবী (স.) বলেন ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অন্যের দ্বারা তার সম্মান করাবেন’। (আবু দাউদ)
বৃদ্ধাশ্রমের ধারণাটা ক্রমেই আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করছে। পশ্চিমা বিশ্বের সামাজিক আর সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় ওল্ড হোমগুলো অপরিহার্য হলেও আমাদের মাটির আঙিনায় তা শুধু বেমানানই নয়, এর নৈতিকতার দিকটাও বিবেচনা করা দরকার। এক সময় সবকিছু বিসর্জন দিয়ে যে পিতা-মাতা সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েছিলেন, আজ তাদের অনেকেই বড়ই একা ও অপাঙক্তেয়। যে পিতা-মাতার প্রার্থনা ছিল আল্লাহর দরবারে ‘হে আমাদের রব! আমাদের নিজেদের স্ত্রীদের ও নিজেদের সন্তানদের নয়ন শীতলকারী বানাও এবং আমাদের করে দাও মুত্তাকিদের ইমাম’। (সূরা ফুরকান : ৭৪) অথচ আজ ‘প্রীতি প্রেমের পুণ্য বাঁধনে’র চিরায়ত ভাবনা বদলে তৈরি হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’! ফলে তিগ্রস্ত হচ্ছে স্বর্গীয় সুখের ধারণা। যেন ওই বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে পারলেই সব দায়দায়িত্ব থেকে মুক্তি! পুঁজিবাদী ধনী দেশগুলোয় ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য হলো মূল চালিকা শক্তি। তাই ১৮ বছর পার হলেই যেমন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে নিজের জীবন নিজের গড়ে তোলার তাড়া থাকে, তেমনি শেষ বয়সে কিভাবে চলবে তা নিজেরই ভেবে বের করার দায়িত্ব থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু খরচটা নিজেকেই জোগাড় করতে হবে, বাসা থেকে কিছুই আসবে না। একইভাবে অর্থ উপার্জন শুরু করার পর বাসায় পাঠানোরও প্রয়োজন নেই, কেউ তা আশাও করবে না। অন্যের গলগ্রহ হয়ে না থেকে ওল্ড হোমের আশ্রয় তাই সেখানে জীবনের স্বীকৃত সমাধান। আমাদের দেশের প্রোপট ভিন্ন। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক গতিশীল জীবনচর্চার অনুশীলন শুরু হয়ে গেলেও পারিবারিক নির্ভরশীলতা মোটেও কমে যায়নি। এখানে যেমন ১৮ হলেই পিতা-মাতার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, তেমনি বাবা-মার ভার নেয়াটাও সন্তানের কর্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হয়। আমাদের বাবা-মা এখনও সন্তানের শিা, স্বাস্থ্য এমনকি বিয়ে দেয়ার জন্য নিজেদের সকল সঞ্চয় ব্যয় করেন। আবার দেখা যায়, সন্তান চাকরি পাওয়ার পর নিজের বেতন থেকে প্রতি মাসে বাবা-মাকে টাকা পাঠায়। এই টাকায় শুধু পিতা-মাতাই নয় বরং ছোট ভাইবোনের খরচও চলে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা, একত্রে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান। তাহলে বৃদ্ধাশ্রমের আমদানি কেন?
কিছু কিছু েেত্র বৃদ্ধাশ্রমের একেবারেই দরকার নেই তা বলছি না। পিতা-মাতার খরচ দেয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য যদি একেবারেই না থাকে, সেেেত্র বৃদ্ধাশ্রম গ্রহণযোগ্য বিকল্প বৈকি। আবার দেখা যায়, আর্থিকভাবে সম হলেও বৃদ্ধ বাবা-মাকে সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হয়ত সন্তান বিদেশে চাকরি করে, দেশে বাবা-মাকে দেখার কেউ নেই। এমন বাস্তবতায় শেষ বয়সের সেবার জন্য কিংবা নিছক একাকিত্ব কাটানোর জন্য বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রয় নেয়াই যায়। নিঃসন্তান দম্পতির জন্যও এই ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু বেশিরভাগ েেত্রই দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম হয়ে উঠছে দায়িত্ব এড়ানোর হাতিয়ার। আর্থিকভাবে সচ্ছল সন্তান নৈতিকতার অবয়ের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পিতা-মাতাকে এক অর্থে ত্যাগ করে ফেলে যাচ্ছে এসব আশ্রমে। এককালের একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে, আর তাতে স্থান হচ্ছে না বৃদ্ধ পিতা-মাতার। দেখা যায় বাবা-মার সেবা যতœ আর ভরণ-পোষণকে কেন্দ্র করে শুরু হচ্ছে দাম্পত্য কলহ, আর এর পরিণতিতে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তান নিজের পরিবার নিয়ে আরামেই দিন কাটাচ্ছে, কিন্তু বৃদ্ধ পিতা-মাতার খরচ দেয়া দূরে থাক, একবার গিয়ে খবরও নিচ্ছে না, আস্তাকুঁড়ে আবর্জনা ফেলার মতো করে একবার বৃদ্ধাশ্রমে তাদের দিয়ে এসেই দায়িত্ব শেষ করছে। নিজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাবা-মাকে নিংড়ে নিয়ে শেষ বয়সে তাদের ছুঁড়ে ফেলার জন্য এমন একটি জায়গাই যেন তাদের দরকার ছিল।
বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত মানুষগুলো দেখে মনে হয় আনন্দেই আছেন, কিন্তু তাদের মনের বেদনাগুলো ঠিকই প্রকাশ পায়। তারা নিজের পরিবারের মানুষের সান্নিধ্য কামনা করেন, ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনিদের কাছে পেতে চান। যতই মান-অভিমান করুক না কেন, নাড়িছেঁড়া ধন সন্তানকে পিতা-মাতা ভুলতে পারেন না কখনোই। সন্তানদের একবার দেখার জন্য ব্যাকুল থাকেন সব সময়। কিন্তু সেই সন্তান একবারও বৃদ্ধ পিতা-মাতার খোঁজ নেয় না। বিশেষ করে ঈদ কিংবা অন্যান্য বিশেষ দিনেও পরিবারের প থেকে যখন তাদের কোনো খোঁজ নেয়া হয় না, তখন দেখা যায় তারা আনন্দের বদলে নীরবে চোখের জলেই সান্ত¡না খোঁজেন। বেড়াতে যাওয়ার পরিবর্তে সারাদিন করে বারান্দায় পায়চারি করে সময় কাটান, যদি সন্তান বা প্রিয় স্বজনরা একবার আসে। মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলেই তাকিয়ে দেখেন ফোনটি প্রিয়জনের কি না। কিন্তু সবই মিছে। শুধু ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর যেন কিছুই মিলে না। গরিব-ধনী সবার অবস্থা আজ এক, অসহায়, বয়সের ভারে ন্যুব্জ। এই নিষ্ঠুর অমানবিকতা কিন্তু মনুষ্যত্বের পরিচয় বহন করে না।
আবার বৃদ্ধাশ্রমে কিছু কিছু বৃদ্ধকে তাদের ছেলে-মেয়েদের কথা বা তাদের বাসায় যেতে চান কি না জিজ্ঞাসা করলে তারা এতটাই ুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান যে, ছেলে-মেয়েদের দেখা তো দূরের কথা, তাদের প্রতি অনর্গল অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকেন। তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের মুখও দেখতে চান না। কামনা করেন তাদের সন্তানেরাও যেন তাদের সাথে ওই রকম আচরণই করেন।
তবে যারা বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলছেন তাদের নিরুৎসাহিত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। অসহায় বৃদ্ধ মানুষগুলোর জন্য যারা নিজের উদ্যোগে, নিজের খরচে আশ্রয়স্থল তৈরি করে দিচ্ছেন, ভরণপোষণ এমনকি চিকিৎসা সেবা দিয়ে নিজের বাবা-মায়ের মতোই আদর-যতœ দিয়ে লালন-পালন করার ব্যবস্থা করছেন, তারা আমাদের সকলের প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু এই বৃদ্ধাশ্রম মূল সমস্যার কোনো সমাধান নয় বরং সমস্যাকে এড়িয়ে চলার একটি উপায় মাত্র। নিজের জীবনকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য নিরন্তর ছুটে চলা আর বৃদ্ধ বাবা-মার প্রতি দায়িত্ব পালনের যে দ্বন্দ্ব, দুয়ের মাঝে এ যেন এক অনিবার্য সমঝোতা। এই অমানবিক আচরণ এখনো আমাদের দেশে স্বীকৃত পদ্ধতি নয়; কিন্তু এ নিয়ে আলোচনার অভাবে তা ধীরে ধীরে একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে চলেছে। হয়ত সেই দিন বেশি দূরে নয়, যখন আমরা বৃদ্ধাশ্রমকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিতে শিখবো।
আমার মতো অনেকেই মনে করেন, এই ব্যবস্থা ভয়াবহ, অন্যায়, নৈতিক এবং ধর্মীয় দিক দিয়েও অগ্রহণযোগ্য। আইনের দিক থেকে দেখলে সন্তান সাবালক হওয়া পর্যন্ত সকল প্রয়োজন মেটানো পিতা-মাতার দায়িত্ব। সামাজিক আর নৈতিকভাবে সন্তানকে প্রতিষ্ঠা করে দেয়াও কর্তব্য বিবেচিত। বাবা-মা কোনো আইন বা সামাজিকতার জন্য নয় বরং সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম স্নেহ আর ভালোবাসার কারণেই শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তাদের জন্য কাজ করে যান। কিন্তু এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে যখন বাবা-মা বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হন, তাদের প্রতি সন্তানের কর্তব্যের কথামালা যেন রূপকথায় পরিণত হচ্ছে। স্কুলের ছেলেরা বায়েজিদ বোস্তামীর গল্প পড়ছে যিনি সারারাত পানির গ্লাস হাতে ঘুমন্ত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু মা’কে ডাকেননি যেনো তার ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে। অথচ নিজের জীবনে সেই আদর্শের বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত, এই কথাটা কি সবাই বড় হয়ে মনে রাখেন? বরং দেখা যায় বেশিরভাগ লোকই ভুলে যান যে, এরকম সময় কিন্তু তাদের জীবনেও আসবে। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে একদিন সবাই বৃদ্ধ হবেন। আজ যে টগবগে তরুণ, সেও এক সময় ন্যুব্জ হবে বয়সের ভারে। আজ যে সন্তানকে তারা আদরে বড় করছেন, চোখের জল বের হওয়ার আগেই মুখে হাসি ফুটিয়ে দিচ্ছেন, এক সময় সেই সন্তানটিও বড় হয়ে হয়ত তাদের সাথে এমন আচরণই করবে। নির্মম পরিহাস হলো এই কথাটি কেউ মনে রাখে না। তাই এখনই সময় এ নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার, বৃদ্ধ বাবা-মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালন সুনিশ্চিত করার, প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করার। প্রত্যেকেরই মনে রাখা উচিত, তার নিজের সন্তানকে তিনি যেভাবে লালনপালন করছেন, তার পিতা-মাতাও তাকে সেভাবেই লালনপালন করে বড় করেছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নিজের সন্তানের মতোই বাবা-মাকে আরেক সন্তান মনে করে, অবহেলায় বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে না দিয়ে, তাদেরকে সেভাবেই সেবা যতœ দিয়ে তাদের বাকি জীবনটাকে যতটুকু সুখে রাখা যায়, তা করে যেতে হবে। অবহেলা, অযতœ আর দায়মুক্তির মনমানসিকতা নিয়ে কোনো সন্তানই যেন তার মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে না দেন। এই উদ্দেশ্যে যেমন কঠোর আইন করা দরকার, তেমনি দরকার নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসার, সামাজিক অনুশাসনের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। কোনো প্রবীণকেই যেন অবহেলা আর অনাদরে জীবনযাপন করতে না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, প্রচারমাধ্যম সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।
তাই আমাদের আজকের দিনের শপথ হোকÑ ‘আর নয় বৃদ্ধাশ্রম। প্রত্যেকের আশ্রয় হোক নিজের পরিবারে, সন্তানেরই ঘরে’।
লেখক : ডিন, মেডিসিন অনুষদ
মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়