ফিচার

স্বাস্থ্যতথ্য

নবজাতককে পরিচ্ছন্ন আর সুস্থ রাখতে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস

প্রসবের পরপরই নবজাতকের যতেœর ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে। এ সময়ের যতœ-আত্তির ওপর নির্ভর করে শিশুর পরবর্তী জীবনের সুস্থতা এবং কর্মদতা। তাই বাবা-মাকে নবজাতকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে খুব বেশি নজর রাখতে হবে। আপনার শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতার কয়েকটি টিপস মেনে চলুন।
গোসল
নবজাতকের জন্মের ৪৮ ঘণ্টা পর তৃতীয় দিন গোসল করানো যেতে পারে। এই সময় শিশুর চুল কাটানোর প্রয়োজন নেই কারণ প্রাথমিক চুল পরে গিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই পরিণত চুলে উঠবে। নবজাতকের নাভি শুকাতে এক থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে বিধায় এ সময় পর্যন্ত সপ্তাহে দু-তিনবার স্পঞ্জ বাথ দিতে হবে। গোসলের সময় অবশ্যই পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত হালকা গরম পানি, শিশুদের উপযোগী ময়েশ্চারাইজিং সাবান, শুকনো ও জীবাণুমুক্ত পোশাক ও তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে।
শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ যেমন নাক, কান, কানের পাশ, দেহের ভাঁজ ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন রাখার ভালো উপায় গোসল। গর্ভ থেকে লেপ্টে থাকা রক্ত, এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের মতো জীবাণু সংক্রমণ থেকে রা করতে গোসল করানো খুবই প্রয়োজন। আবার খুব বেশি সময় ধরে নবজাতকের গোসল করানো উচিত নয়। গোসলের পর শুষ্ক তোয়ালে দিয়ে পুরো শরীর ভালোভাবে মুছে দিতে হবে। প্রতিদিন হালকা গরম পানিতে শিশুকে একবার গোসল করানো যেতে পারে। ডাক্তারের নিষেধ থাকলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। শীতের দিনে বেবি অলিভ অয়েল মাখিয়ে হালকা রোদে বসা যেতে পারে। তবে ল্য রাখতে হবে রোদ যাতে কড়া না হয়।
ডায়াপারের ব্যবহার
এখনকার ব্যস্ত জীবন আর দীর্ঘ সময় ছোট সন্তানকে নিয়ে বাইরে থাকার কারণে ডায়াপার তো ব্যবহার করতেই হয়। কিন্তু শিশুর সেনসিটিভ ত্বকে সহনীয় নয় এমন উপাদানে তৈরি ডায়াপার তার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে উঠবে। এছাড়া যেসব ডায়াপারের শোষণমতা কম তা দ্রুতই লিক বা ওভার ফো করে শিশুর ঠা-া বা র‌্যাশ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ভালো মানের ডায়াপার বেছে নিন এবং একটি ডায়াপার ৬ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করবেন না। প্রতিবার ডায়াপার পরিবর্তনের সময় পায়খানা-প্রস্রাবের স্থান ওয়াইপস দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। মেয়েশিশুর বেলায় সামনে থেকে পেছন দিকে নরম স্পর্শে পরিষ্কার করতে হবে। এতে মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে।
নাভি, নাক ও চোখ পরিষ্কার
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাড়ি শুকিয়ে যায় এবং ৫ থেকে ১০ দিন পরে আপনা থেকেই ঝরে পড়ে। এর জন্য নাভিতে কোনো কিছু লাগানোর প্রয়োজন হয় না। গরম পানিতে কটন ভিজিয়ে খুব আলতোভাবে চোখের পাতা পরিষ্কার করতে হবে। ত্বকের খসখসে ভাব দূর করতে অলিভ অয়েল বেশি গ্রহণযোগ্য।
পরিষ্কার স্থানে রাখা
শিশুদের সব সময় পরিষ্কার স্থানে রাখতে হবে। অপরিষ্কার স্থান শিশুদের জন্য খুব মারাত্মক। এতে করে অনেক ধরনের জীবাণু শিশুর শরীরে প্রবাহিত হতে পারে। শিশুকে তাই সব সময় পরিষ্কার, শুকনো এবং জীবাণুমুক্ত স্থানে রাখতে হবে। শিশুকে যে কাপড়ের ওপর রাখা হবে সেটাও যেন ভালো পরিষ্কার হয়।
শিশুকে কোলে নেয়া
শিশুকে সবার কোলে দিতে দেয়া যাবে না। এতে অনেকে হয়ত মন খারাপ করতে পারে কিন্তু শিশুর শরীরের দিকে খেয়াল করে এটা মেনে নিতে হবে। শিশুকে কোলে নেয়ার আগে বাবা-মা বা যেকোনো আত্মীয়স্বজন আগে জীবাণুনাশক হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে। বাইরে থেকে এসে হুট করে শিশুর গায়ে হাত দেয়া যাবে না। শিশুদের শরীর অনেক বেশি সংবেদনশীল। তাই শিশুকে অনেক যতেœ লালনপালন করতে হয়।
নখ ও দাঁত
ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নখ ও দাঁতের পরিচর্যা বাবা-মার শুরু করতে হবে। নখ একটু বড় হলেই তা কেটে দিতে হবে। আবার আঙুল দিয়ে শিশুর মাড়িতে হালকা পরিষ্কার করে দিতে হবে। যেহেতু নবজাতকের মুখে কোনো দাঁত থাকে না তাই কোনো ধরনের পেস্ট ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
শোয়ার স্থান
শিশুর শোয়ার স্থান হতে হবে অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। শিশু যেখানে ঘুমাবে সেখানে শিশু নড়াচড়া করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা দিতে হবে। যে রুমটিতে শিশুকে রাখা হবে সেই রুমটি হতে হবে অনেক বেশি খোলামেলা। চারদিকে আলো বাতাস খেলা করার জন্য পর্যাপ্ত দরজা ও জানালা থাকতে হবে। অল্প আওয়াজে শিশুর ঘুম ভেঙে যেতে পারে। তাই শিশুর শোয়ার রুমটিতে যাতে করে কোনো আওয়াজ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
শেষকথা
শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার প্রধান দায়িত্ব বাবা-মার। ছোটবেলা থেকে যদি শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে গড়ে তোলা না যায় তাহলে শিশুকে নানা ধরনের জীবাণু আক্রমণ করতে পারে। তাই বাবা-মা হিসেবে আজ থেকেই আপনার শিশুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপায়গুলো যথাযথভাবে মেনে চলুন। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই শিশু যাতে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে তার প্রতি ল্য রাখা আমাদের সকলের একান্ত দায়িত্ব।