কলাম

উন্মুক্ত মতামত

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংস্কৃতি বন্ধ হোক

পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে খুব কমই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাগুলো জানা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব খবর মিথ্যা প্রচারণা বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু যদি পরীক্ষা হওয়ার পর ফাঁস হওয়া প্রশ্ন আর পরীক্ষার প্রশ্ন আংশিক কিংবা শতভাগ মিলে যায় তখন পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ তা কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। অথচ প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠলে সরাসরি তা অগ্রাহ্য করে পরীক্ষা কমিটি। পরে উপযুক্ত প্রমাণ পেলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ যেমন তদন্ত করে সত্যতা যাচাই, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা বাতিল, নতুন করে পরীক্ষা নেয়া ইত্যাদি দেখা যায় না। প্রশ্ন ফাঁসের সংস্কৃতি বন্ধ করা না গেলে যাচাইয়ের সঠিক মাধ্যম হিসেবে গৃহীত পরীক্ষা পদ্ধতিটি তার উপযোগিতা হারাবে। তাই আমরা চাই সংশ্লিষ্টরা এক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক যাতে করে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হোক, নিশ্চিত হোক মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া।
মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা

শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের নিয়োগ দিন

১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রার্থীরা যথাক্রমে প্রিলি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এনটিআরসিএর পরিপত্র অনুযায়ী। তাদের উপজেলাভিত্তিক শূন্যপদের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। পিএসসির আদলে পরীক্ষা গ্রহণ করে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও আশার আলো খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকে। শিক্ষক হিসেবে মেধাবীরা উত্তীর্ণ হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শূন্যপদের তালিকা দেয়া সত্ত্বেও শিক্ষক পাচ্ছে না। ফলে শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির হচ্ছে। এমতাবস্থায় ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের দ্রুত নিয়োগ দেয়া হলে দেশ যোগ্য শিক্ষক পাবে, শিক্ষায় সাফল্য আসবে।
মুন্নাফ হোসেন , ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ

ঈশ্বরদী জংশনের আধুনিকায়ন চাই

বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি জংশন স্টেশন ঈশ্বরদীর আধুনিকায়নে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে সমস্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন ও ইয়ার্ডটি আধুনিকায়নের জন্য বিগত জোট সরকার আমলেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তখনো আধুনিকায়ন করা হয়নি। এদিকে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ ছিল ঈশ্বরদীর জংশন স্টেশন আধুনিকায়ন করা হবে। বর্তমান সরকার দীর্ঘ সময় পার করলেও ঈশ্বরদী রেল জংশন স্টেশন ও ইয়ার্ডে আধুনিকায়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ইয়ার্ড ও ১৭টি রেললাইন রয়েছে। বর্তমানে এ স্টেশন দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ধরনের ২৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন, ১২টি মালবাহী ট্রেন ও একটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল করে। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দুই থেকে তিন হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করে। চার প্ল্যাটফর্ম বিশিষ্ট রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি পরিচালনার জন্য বর্তমানে ১৯টি বিভাগে প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এখানে বিশ্রামাগার, টয়লেট ও ফুটপাত দখল করে থাকে হকার, চোরাচালানি ও বখাটেরা। বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যা সবসময়ই রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো নয়। ঈশ্বরদী স্টেশন ইয়ার্ড মাদক কারবারি ও চোরাচালানিদের দখলে থাকে বেশিরভাগ সময়। তাছাড়া বিভিন্ন ট্রেনে এ ইয়ার্ড থেকে চোরাচালানের পণ্য ও মাদকদ্রব্য ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন জেলায়। বিষয়টি রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গোচর হওয়ার পরও বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে সমাধান হচ্ছে না। এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত প্রায় ৯০০ বাসার বেশিরভাগই এখন পরিত্যক্ত। অথচ এক শ্রেণির অসৎ কর্মচারী গোপনে অনেক বাসা ভাড়া দিয়ে মাসিক ভাড়া আদায় করেন। ঈশ্বরদী রেল জংশন, স্টেশন ও ইয়ার্ড থেকে বৈধভাবে রেল কর্তৃপক্ষের কোটি কোটি টাকা আয় হলেও যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে জংশনটি উন্নয়ন ও রি-মডেলিং এখন সময়ের দাবি।
এস এম সাইদুর রহমান উলু, ঈশ্বরদী, পাবনা

বন্যপ্রাণীদের প্রতি সদয় হোন

প্রকৃতি-পরিবেশের জন্য বন্যপ্রাণী অপরিহার্য। অথচ আমরা যেন সেটা বেমালুম ভুলে গেছি। সামান্য কারণে প্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। ফসল নষ্ট করেÑ এই সামান্য কারণে গত এক বছরে শ্রীবরদী উপজেলায় সাতটি হাতি হত্যা করা হয়েছে। জেনারেটরের ফাঁদে পড়ে হাতিগুলোর নির্মম মৃত্যু হয়। একটি হত্যাকা-েরও বিচার হয়নি। অনেক উপায় ছিল হাতি তাড়ানোর। সেসব উপায় ব্যবহার না করে মেরে ফেলাই হত্যাকারীদের কাছে সহজ উপায়। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। সেখানে মানুষের বাড়িঘর। বন-জঙ্গল নেই। খাবারের তীব্র সংকট। তাই হাতি লোকালয়ে আসে। ফসল নষ্ট করে। তাহলে দোষটা কারÑ হাতির না মানুষের? শুধু হাতি না। অন্যান্য বন্যপ্রাণীও নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। অথচ কোনো বন্যপ্রাণীই ক্ষতি করে না। যদি না মানুষ তাদের ওপর আঘাত হানে। মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতা হয়। দেখা যায়, সেখানেও শত্রুকে ঘায়েল করতে তার পশুপাখি হত্যা, ফসল নষ্ট করা হয়। পুকুরের মাছ পর্যন্ত রেহাই পায় না। এমনিতেই গত একদশকে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এভাবে হত্যা করলে পরিণাম ভালো হবে না। তাই আমাদের স্বার্থেই বন্যপ্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মিরপুর ১২, ঢাকা

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু আর না

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ট্রেনে কাটা পড়ছে মানুষ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে ট্রেনে কাটা পড়ে। ঢাকার মগবাজার, বিমানবন্দর, তেজগাঁও এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে সীতাকু-ু ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয় সবচেয়ে বেশি। ইদানীং ট্রেনে কাটা পড়ে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে চলতে গিয়ে। রেলপুলিশের মতে, রেললাইনে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৩০ শতাংশ হয় এ ধরনের অসতর্কতার কারণেই। সামান্য অসাবধানতায় বলি হচ্ছে মূল্যবান জীবন। কোনো কোনো পরিবার হারাচ্ছে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে।
এত প্রাণহানির পরও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। অথচ ১৮৯০ সালের রেলআইন অনুসারে, রেললাইনের দু’পাশে ১০ ফুট করে ২০ ফুট এলাকায় যেকারো প্রবেশ আইনত দ-নীয়। এমনকি ২০ ফুটের মধ্যে কোনো গবাদি পশু প্রবেশ করলেও সেটি আটক করে বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ রেলের কোষাগারে জমা করার ক্ষমতা রাখেন রেল কর্তৃপক্ষ। রেললাইন থেকে মাত্র ২০ ইঞ্চিরও কম দূরত্বে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো যেন পরিহাস করছে রেল আইনের এ ধারাকে। রেল কর্তৃপক্ষ তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ করলে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে কমে আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এহসানুল হাবিব
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম