প্রতিবেদন

গণসচেতনতা গ্রাম উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি প্রকল্প

ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী : বাংলাদেশে ৬৮ হাজার গ্রাম রয়েছে। গ্রামগুলোতে বসবাসরতদের জীবনমান উন্নয়নে পিকেএসএফ সরকারের নির্দেশিত পথে কাজ করে চলছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়নেও প্রভাব পড়ছে। আমাদের জিডিপিতে যে অগ্রগতি সেখানেও পিকেএসএফের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এক্ষেত্রে দেশের প্রখ্যাত গ্রামীণ অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সামনে থেকে পিকেএসএফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তার সঙ্গে কাজ করছেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিম। পিকেএসএফের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করছে। সাধারণ অর্থনীতির সূত্রের বাইরে অর্থনীতির প্রায়োগিক কলাকৌশলকে বাস্তবায়নে তারা অনেক ক্ষেত্রেই বিহেভেরিয়াল ইকোনমিস্ট (ইবযধাধৎরধষ বপড়হড়সরংঃ) হিসেবে কাজ করে চলেছেন। বস্তুত যত বেশি পিকেএসএফের পার্টনার অর্গানাইজেশনের হাতে-কলমে কাজ প্রত্যক্ষ করা যায় তত বিস্মিত হতে হয়। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে পিকেএসএফ মূলত বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারকেই বাস্তবায়ন করছেন। ড. কাজী খলীকুজ্জমান যে সমৃদ্ধ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছেন সেটি সম্পর্কে তাত্ত্বিকভাবে আমার কিছুটা হলেও পড়ার সুযোগ হয়েছে। এটি একটি চযরষড়ংড়ঢ়যরপধষ প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে, যার মূল ভিত্তি হচ্ছে মানব মর্যাদা। এ সমৃদ্ধ প্রকল্পটির মাধ্যমে এসডিজির ১৩টি লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যগুলো যাতে বারবার দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে সে জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। ২০১৬ সালে হ্যারিস এবং রোচ তাদের প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, পরিবেশের যে হিসাব পদ্ধতি তা জাতীয় আয় পদ্ধতি বিশেষ করে বনায়ন ধ্বংস করা, জমির উর্বরতা হ্রাস করা, পানি নষ্ট করাসহ দারিদ্র্যপীড়িত রাষ্ট্রের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়, যা জাতীয় আয়ের গণনা পদ্ধতিতে আসা আবশ্যক ছিল। এ কারণেই পরিবেশগত কলাকৌশল উন্নয়নে ভূমিকা অবশ্যই জাতীয় আয়ের গণনা পদ্ধতিতে সংযুক্ত করা বাঞ্ছনীয়।
আজ বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত যে সমস্ত সমস্যার উদ্রেক করেছে তার সিংহভাগই বহিস্থ কারণ। কিন্তু পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, খাল, নদী-নালা ভরাট করে ফেলা, স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষনিধন করা জাতীয় সমস্যার উদ্রেক করছে। সমাজে ভূমিদস্যুরা দানব হয়ে বিবেচিত হওয়ার কথা থাকলেও দুঃখজনক যে তারা অর্থ-কড়ির মালিক হওয়ায় প্রচ- ক্ষমতাবান। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায় না। জলবায়ুজনিত সমস্যা ও ঝুঁকি দেশের জন্য একটি মারাত্মক আঘাতস্বরূপ। এ ব্যাপারে পিকেএসএফ বর্তমানে যে ধরনের প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা নিচ্ছে গত দশ বছর আগেও তা ভাবা যেত না। হাছান মাহমুদের সময়ে বন ও পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট মাত্রায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। এর পেছনের পরিপ্রেক্ষিত হচ্ছে ড. হাছান মাহমুদ নিজে একজন পরিবেশ বিজ্ঞানী ছিলেন। অনেক সময়ে আড্ডার ছলে পরিবেশের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি যখন পিপলস ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নিতেন, দেখেছি ছাত্রছাত্রীরা তার কাছ থেকে পরিবেশ নিয়ে অনেক কিছু শিখতে পারত।
জনসচেতনতা তৈরির জন্য পিকেএসএফের কর্মকা- একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। তার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল এবারের ২৯ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যে সফল উন্নয়ন মেলা-২০১৭ হয়েছে তাতে। দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকার অনেক কিছু করলেও প্রচার ও প্রসারে অনেকখানি পিছিয়ে আছে বলে মনে হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন দায়িত্বশীল ও মানবতাবাদী নেত্রী যিনি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। আমরা অনেক সময়ে পুঁথিগত বিদ্যা হিসেবে বিজনেস ইনকিউকেটরের কথা বলে থাকি। অথচ পিকেএসএফের এ উন্নয়ন মেলায় তারা তাদের পার্টনার অর্গানাইজেশনের দ্রব্যসামগ্রীর বিপণন ব্যবস্থাপনা, বাজারজাতকরণ এবং একই সঙ্গে প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করে দেখিয়ে দিয়েছে উন্নয়নকে কিভাবে সার্থকভাবে রূপায়িত করতে হয়। এখানেই পিকেএসএফের বর্তমান উন্নয়ন দর্শনের মহিমা। মেলায় ৮৭টি স্টল ছিলÑ এতে প্রায় ৪০ হাজার দর্শক সমাগম হয়েছে। গ্রামীণ মেলাগুলোকে অনেক সময় নস্টালজিক হতে হয়। আর সেগুলোর শহুরে আবহ অবশ্য একটু ভিন্ন। এ মেলাগুলোতে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে দেশজ আবহ, কৃষ্টি, প্রগতি ও সংহতি। আবহমানকাল থেকে গ্রামবাংলার কৃষ্টি যেন গ্রোথিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন মেলা কর্মীরা। এদিকে যেহেতু ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স উদ্যোক্তা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট লেভেল তৈরির ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেহেতু তাদের একটি স্টল ভবিষ্যতে থাকার সুপারিশ থাকল। কেননা এ স্টলের মাধ্যমে বর্তমান সরকার যে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিচ্ছে সেটিকে বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট রয়েছে। ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের পূর্বে কেউ কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উদ্যোক্তা তৈরি এবং ব্যাংকিং, এনজিও, সাংবাদিক, সদ্য পাস করা গ্র্যাজুয়েট, ডাক্তার, প্রকৌশলীকে একই ছাদের তলায় আনা যায় এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ করা যায় সে ব্যাপারে একদম নির্বিকার ছিল। আর এই শুভ উদ্যোগের জয়রথের কা-ারি হচ্ছেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি কথা ও কাজে বিশ্বাসী। কাছে থেকে দেখেছি কী সুন্দরভাবে তিনি কঠিনকে অতি সহজ কথনে বুঝিয়ে দেন। এখানেই তার বৈশিষ্ট্য।
বর্তমানে পিকেএসএফের ১০ বছর আগের খোলানলচে পরিবর্তন করে হয়ে উঠেছে অনেক বেশি মানবিক। দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে দরিদ্র পরিবারসমূহের সম্পদ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রকল্প হচ্ছে সমৃদ্ধি। এতে প্রথম ১৮ কার্যক্রমসমূহ হচ্ছে মূলত পরিবারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত আর চারটি কার্যক্রম হচ্ছে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি। ১৫০টি ইউনিয়নে সমৃদ্ধ প্রকল্পটি চলছে। এ প্রকল্পটি দেশে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা উচিত। এজন্য অবশ্য অর্থের প্রয়োজন। সরকার তার সীমিত সাধ্য অনুযায়ী অর্থের জোগান দিচ্ছে। যদি অন্য ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা সাধন করেও সমৃদ্ধ প্রকল্পটি গ্রামীণ এলাকায় মজবুত ভিত্তির ওপর প্রসারিত করা যায়, তবে তা দেশের উন্নয়নকে একটি সঠিক মাত্রা প্রদান করবে। দেশের যে বিশাল যুবসমাজ রয়েছে, জনাধিক্য রয়েছে তাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। একজন দক্ষ রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অধিকারী এবং যিনি নিজ কর্মগুণে আজ বিশ্বনেত্রীর পর্যায়ে এগিয়ে গেছেন তিনি যদি এক্ষেত্রে আরও অধিক বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন তবে তা দেশের অগ্রযাত্রাকে প্রসারিত করবে। এ মুহূর্তে এ কর্মসূচির চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নেই। প্রতিটি পার্টনার অর্গানাইজেশন আজ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৫৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। সে তুলনায় দেখা যায় মাত্র ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ ইউনিয়নে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য শেখ হাসিনার আন্তরিকতার এবং সার্বিক উন্নয়ন কর্মসূচিসমূহ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার ফলে জনমানুষের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ যে আজ বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে সে ক্ষেত্রে তার নিরন্তর চেষ্টা রয়েছে। তার এ চিন্তা-চেতনার বিমূর্ত রূপ সেও অপরূপ নিষ্ঠার এক আদর্শ। এ প্রয়াসে যদি অধিকতর অর্থের জোগান পাওয়া যেত এবং অধিকসংখ্যক ইউনিয়ন খোলা যেত তাহলে এটি বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতির ধারাবাহিকতা এবং গণসচেতনতা ও জনমুখী কর্মসূচি মানুষকে অধিকতর আলোকিত করত। আজকের বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন। স্বাধীন রাষ্ট্রে বসবাসের কি আনন্দ। পরাধীনতা থেকে মুক্তির যে অর্গল বঙ্গবন্ধু খুলে দিয়েছেন তাকে বহুমাত্রিকতায় যখনই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে চেষ্টা করেছে সার্থক উন্নয়নের ছোঁয়ায় বাস্তবায়ন করতে।
বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়ন ও কর্মমুখী জীবনমানের ব্যবস্থা হচ্ছে। এ অগ্রযাত্রায় পিকেএসএফ শরিক হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে নারী অগ্রযাত্রার সূচকে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এ শীর্ষস্থান ধরে রাখা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। তারপরও বলব, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও বাংলাদেশের এ ধরনের উন্নয়নের কথা অনেকেই ভাবেননি। বর্তমানে যেভাবে গ্রামীণ এলাকায় সঞ্চয়-বিনিয়োগ ব্যবস্থা কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো এবং সর্বোপরি মানবকল্যাণমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা সত্যি দেশের জীবনমান উন্নয়ন, ভোগ তত্ত্বে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। বস্তুত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক উন্নয়ন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা আজ আর কথার কথা নয়। এখন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় ‘সবুজ অর্থনীতি’কে গুরুত্ব দেয়া বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। যারা অন্যের সম্পদ নিজের মনে করে আত্মসাৎ করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। খাল-বিল-নদী-নালা দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে করে পয়ঃনিষ্কাশন পদ্ধতির উন্নয়ন ঘটে এবং সুপেয় পানি অযথা নষ্ট না হয়। প্রতিটি শহরকেন্দ্রিক বাড়িতে গ্রিন রঙ টবের ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া ছাদে এবং টবে সবজি চাষের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ম্যাক্রো লেভেলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং আর কমিউনিটি ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করা; দেশজ, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ভ্যালু চেইনের মাধ্যমে জীবনমান আরও বেগবান করা দরকার। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সচেষ্ট; তবে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি গিরগিটির মতো রঙ বদলায়। এই বহুরূপীদের চিহ্নিত করা বাঞ্ছনীয়। মুক্তিযুদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত এ সরকারের উন্নয়ন গাথা গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দেয়া দরকার। স্থানীয় এমপিদের উচিত তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে শরিক হওয়া। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা যেভাবে সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে স্ট্র্যাটেজিক লিডার হিসেবে কাজ করে চলেছেন, তাতে কোনো এমপি ও তার সন্তান-সন্ততি এবং নেতা-নেত্রীর কারণে যেন উবধফ ডবরমযঃ ষড়ংং না হয় সেদিকে আগে থেকেই সচেতন হয়ে চৎড়ধপঃরাব ব্যবস্থা গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। পরবর্তী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত; যদিও ঘসেটি বেগম আর মীরজাফরদের অভাব কোনোদিন হয় না। রবার্ট ফ্রস্টের সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণযোগ্য ইঁঃ ও যধাব ঢ়ৎড়সরংব ঃড় শববঢ়,/অহফ সরষবং ঃড় মড় নবভড়ৎব ও ংষববঢ়,/অহফ সরষবং ঃড় মড় নবভড়ৎব ও ংষববঢ়. অর্থাৎ কবরে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমাকে আমার জনগণের মঙ্গলাকাক্সক্ষার জন্য কাজ করে যেতে হবে; আর এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা অবিরাম তার প্রতিশ্রুতি পালন করে চলেছেন। তবে চাটুকার ও বহুরূপীরা অনেক সময়ে নানামুখী প্রাসাদ ষড়যন্ত্র করে। এদেশে মোশতাক-জিয়ার মতো লোকের অভাব হয় না।
পিকেএসএফ বর্তমানে উন্নতির শিখরে। এটিকে এখন আরও বৃহত্তর পরিসরে বেগবান করা বাঞ্ছনীয়। কমিউনিটি ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা যেতে পারে। পাশাপাশি আশা করব ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স আন্ডার গ্র্যাজুয়েট লেভেলে এবং মাস্টার্স লেভেলে ‘উদ্যোক্তা অর্থনীতি’ বিষয়ক প্রোগ্রাম চালু করে সত্যিকার অর্থে দেশে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটাবে। ১৯৪০ সালে হার্ভার্ডে প্রথম উদ্যোক্তা তৈরির প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়। আর আজ তা দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এ প্রোগ্রাম দ্রুত চালু করা দরকার।
লেখক : উন্নয়নের ম্যাক্রো ও
ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট