ফিচার

ছেলে শিশুদের যে বিষয়গুলো শেখানো জরুরি

স্বদেশ খবর ডেস্ক : শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুষ্ঠুভাবে বড় করে তোলার দায়িত্ব বাবা-মাসহ পরিবারের সকল সদস্যের। কিন্তু বেশিরভাগ েেত্রই দেখা যায়, পরিবারে ছেলে সন্তান এলে আমরা তার হাতে গাড়ি, বল ধরিয়ে দিই। অন্যদিকে মেয়েদের হাতে তুলে দিই পুতুল। এটা ঠিক নয়। এতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে একটা বৈষম্যমূলক মনোভাব গড়ে ওঠে। আবার ছোটবেলায় আমরা কেবল মেয়ে শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে সচেতন করি। এছাড়া কোন পোশাকে তাদের ভালো লাগবে কিংবা অন্যদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে এসব কিছুই আমরা তাদের শিখিয়ে থাকি। অন্যদিকে, অনেক বাবা-মা আছেন যারা ছেলে শিশুদের বেলায় এমনটা করেন না। ফলে পরবর্তীতে ছেলে শিশুরা যৌন নির্যাতনসহ নানা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে শুধু মেয়ে শিশু নয়, ছেলে শিশুকে বিভিন্ন বিষয়ে শেখানো অনেক জরুরি। এেেত্র ছেলে শিশুকে যেসব বিষয় শেখাবেন তা স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য বর্ণনা করা হলো।
যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারে ছেলেরাও মেয়েদের মতো ছেলে শিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারে। কোনো কোনো েেত্র অবশ্য বড়রাও এর শিকার হতে পারেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন শুধু মেয়েদের েেত্রই এরকম ঘটনা ঘটে। এটি সত্যি নয়। এজন্য ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ভালো স্পর্শ এবং খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। আবার কোনো ছেলে শিশু যদি ছোটবেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তাহলে ওই পরিস্থিতিতে তাকে কী করতে হবে তা শেখাতে হবে। এককথায়, ছোট বয়স থেকেই শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলা শিখাতে হবে।
শিষ্টাচার : পরিবারে একটি মেয়ে শিশু যখন বড় হতে থাকে তখন তাকে বাবা-মাসহ পরিবারের সকল সদস্যদের কথা মান্য করতে শেখানো হয়। তারা যেভাবে বলে মেয়ে শিশুটি ঠিক সেভাবেই বসে, কথা বলে এবং পোশাক পরিধান করে। এসব বিষয় সে ছোটবেলা থেকেই শিখে নেয়। আবার কোন পরিস্থিতিতে তাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে হবে কিংবা প্রতিবাদ করতে হবে তাও সে ভালোভাবে বুঝে যায়। ঠিক একই শিা কিন্তু ছেলেদের েেত্রও জরুরি। ছোটবেলা থেকেই এসব শিা শুধু তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির হাত থেকেই বাঁচাবে না, একইসঙ্গে পরবর্তীতে তাকে ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
কান্নার অধিকার সবার : ছেলে শিশুরা কান্নাকাটি করলে বেশিরভাগ েেত্রই মায়েদের বলতে শোনা যায়, ছেলেরা কাঁদে না। এটা কিন্তু ঠিক নয়। তাকেও তার আবেগ প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। এতে তার ব্যক্তিত্ব কমবে না। নতুবা ছেলে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করবে, যত আবেগ আছে তা কেবল মেয়েদের জন্য।
সম্মতি নেয়া : একজন মেয়ে যেকোনো কাজের আগে তার পিতা-মাতার কাছ থেকে সম্মতি নেয়। যেমন কোনো মেয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা কোনো লেট নাইট পার্টিতে যাওয়ার আগে তার বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে থাকে। কিন্তু এসব েেত্র বেশিরভাগ ছেলেই তাদের বাবা-মাকে কোনো কিছু বলার প্রয়োজন মনে করে না। কারণ সে বড় হতে হতে এটাই বিশ্বাস করে যে, সম্মতির বিষয়টি আসলে ছেলেদের জন্য নয়, এটি মেয়েদের জন্য। কাজেই ছোট বয়স থেকে ছেলে শিশুদের এই শিাটাও দিনÑ যেকোনো কাজে বাবা-মায়ের সম্মতি নিতে হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি কোনো বিজ্ঞানের বিষয় নয়। এর জন্য কোনো দতারও প্রয়োজন হয় না। কাজেই মায়েরা যখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক কোনো কাজ করবেন ছেলে সন্তানদেরও কাজটি করার ব্যাপারে সাহায্য করতে উৎসাহিত করুন। তাহলে পরবর্তীতে যেকোনো প্রয়োজনে ছেলে শিশুটি আর আপনাকে সাহায্য করতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। আবার নিজের প্রয়োজনে সে যখন আপনাকে ছেড়ে দূরে থাকবে তখন এই কাজগুলোই তাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
রান্না করা : মানুষের মৌলিক চাহিদা হলো খাদ্য। কাজেই মেয়ে কিংবা ছেলে হোক, রান্না করা শিখাতে দোষ কোথায়? কাজেই ছোট থেকে ছেলে শিশুদেরও রান্না শিখতে উৎসাহিত করুন। এতে সে বিদেশে গিয়ে বা উচ্চ শিক্ষার্থে বাড়ির বাইরে গিয়ে খাওয়ার বিষয়ে ঝামেলায় পড়বে না।
ত্বকের যতœ : ছোটবেলা থেকে মেয়ে শিশুরাই ত্বকের যতœ এবং পোশাক পরিচ্ছদ নির্বাচন শিখবে এটা ঠিক নয়। ছেলে শিশুদেরও এসবের প্রয়োজন রয়েছে। তা না হলে ছেলে শিশু এই বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠে, সব কিছুই মেয়েদের জন্য। কিন্তু কয়েক বছর পর ঠিকই তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। তারা এটা উপলব্ধি করতে পারে, একজন পরিচ্ছন্ন মানুষেরও গুরুত্ব আছে।
সেলাই শেখা : কারও সঙ্গে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে? কিন্তু আপনি যে শার্টটি পরবেন বলে স্থির করেছেন পরতে গিয়ে দেখলেন তার একটি বোতাম ছেঁড়া। তখন কী করবেন? সে সময় মা আপনার কাছে নাও থাকতে পারে। কাজেই ছোট থেকে মেয়ে শিশুদের মতো ছেলে শিশুটিকেও সেলাই শিখতে উৎসাহিত করুন, যাতে সে তার প্রয়োজনে এই শিাটাকেও কাজে লাগাতে পারে।
নারীকে সম্মান করতে শেখান : পৃথিবীটা তখনই সুন্দর আবাসস্থলে পরিণত হবে যখন প্রতিটি পুরুষ নারীদের সম্মান করতে শিখবে। তার মানে এই নয়, শুধু মা এবং বোন সম্মানের আওতায় পড়বে। একজন ছেলে শিশুকে শেখাতে হয়, কিভাবে একজন মা এবং বোনদের রা করতে হয়, কিভাবে তাদের সম্মান করতে হয়। তাহলে দেখবেন, ছোট থেকে এই বিষয়ে অভ্যস্ত হলে সে নিজে থেকেই অন্য সব মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান দেখাবে। কাজেই ছেলে শিশুদের ছোট থেকে নারীকে সম্মান করার শিাও দিতে হবে।