জমে উঠেছে বিপিএল আসর

| November 13, 2017

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) জমে উঠেছে। এরই মধ্যে সিলেটে শেষ হয়েছে বিপিএলের প্রথম পর্ব। ১১ নভেম্বর থেকে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে সিলেটে রান উৎসব হয়েছে। উদ্যোক্তারা আশা করছেন বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বেও মিরপুরে রান উৎসব হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, শেরেবাংলার মাঠ এখন প্রস্তুত। ১১ নভেম্বর বিপিএলের ম্যাচ দিয়ে এ মাঠে ক্রিকেট ফিরে এসেছে। বিসিবির এ কর্মকর্তার আশা, সিলেটের মতো শেরেবাংলায়ও রান উৎসব হবে বিপিএলের ম্যাচে।
বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বে ঢাকায় ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১১ নভেম্বর রংপুর রাইডার্স-রাজশাহী কিংস ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট ফিরেছে মিরপুরে। এ মাঠে প্রচুর সংস্কার কাজ হয়েছে জানিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ঢাকায় প্রচুর সংস্কার হয়েছে। ৬ ইঞ্চি মাটি তোলা হয়েছিল। বুয়েট ও অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞরা ছিলেন। এখন মিরপুর মাঠ শতভাগ প্রস্তুত বিপিএলকে স্বাগত জানাতে।’
আগের আসরগুলোতে বিপিএলের বেশিরভাগ ম্যাচই হতো মিরপুরে। টানা ম্যাচ হওয়ায় উইকেটে রান কম হতো। এবার অবশ্য শেরেবাংলায় রান উৎসব আশা করছে বিসিবি। গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সিলেটের মতো মিরপুরেও প্রচুর রান হবে। আউটফিল্ডও শতভাগ প্রস্তুত। এখানে শতভাগ জীবন্ত ঘাস রয়েছে। মিরপুরেও রান হবে।’ এবার মিরপুরের আউটফিল্ডও দ্রুতগতির থাকবে বলে জানালেন বিসিবির এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সিলেটে সফল হয়েছি। ২০০ রান অতিক্রম হয়েছে। দলগুলো ভালো রান করেছে। একই লক্ষ্যে মিরপুরে কাজ হয়েছে। দেখবেন মাঠ পুরোটাই সবুজ। আউটফিল্ড ভালো আচরণ করবে এবং গতিময় থাকবে।’
সিলেটে বিপিএলের প্রথম পর্বের খেলায় তুষ্ট বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটি। আউটফিল্ড নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও সিলেটে ঢাকা ডায়নামাইটস ও সিলেট সিক্সার্স ২০০’র বেশি রান করেছে। আব্দুল বাতেন বলেন, ‘সিলেটে বিপিএলের কয়েকটা ম্যাচ হয়েছে। যেখানে ২০০ প্লাস রান হয়েছে। সবাই খুশি এটা দেখে। আমাদের কাছে বোর্ড সভাপতির দিকনির্দেশনা আছে। বিশেষ করে বিপিএলের জন্য স্পোর্টিং উইকেট। কারণ এটা আনন্দদায়ী খেলা, যাতে প্রচুর রান হয়। দর্শকরা যাতে খুশি হন। ব্যাটসম্যানরা যাতে রান পায়, বোলাররা উপকৃত হয়। সবকিছু মিলে আমরা কিন্তু সিলেটে আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি।’
বিসিবি খুশি বিপিএলে প্রচুর রান হওয়ায়। দর্শকরাও খুশি। আবার দর্শকের একটা বড় অংশ হতাশও। তাদের হতাশার কারণ বিপিএলে প্রচুর রান হচ্ছে ঠিকই, তবে সে রান করছে বিদেশি ক্রিকেটাররা। বিদেশিদের দাপুটে পারফরম্যান্স দিয়েই সিলেটে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের প্রথম পর্ব। পারফরম্যান্স বিচারে সেখানে স্থানীয় ক্রিকেটাররা অনুজ্জ্বল। এ নিয়ে হতাশা আছে দেশীয় ক্রিকেটারদের মধ্যেও। দেশের উদীয়মান ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত তাই স্পষ্টই বলেছেন, একাদশে ৫ বিদেশি ক্রিকেটার খেলায় অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের। এতে স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফর্ম করার জায়গা কমে আসছে। ভবিষ্যতে এমন নিয়ম থাকলে তা দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে না।
পঞ্চম আসরে একাদশে ৫ বিদেশি ক্রিকেটার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটা চলতি বছরের মাঝামাঝি জানিয়েছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। তারপর থেকেই এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা হচ্ছে সর্বত্র। গত আসরে ৪ জন খেললেও এবার বিদেশি ক্রিকেটার বেড়ে যাওয়ায় চাপে আছেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা।
সিলেট থেকে ফিরে ৮ নভেম্বর বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। সেখানেই বিদেশিদের দাপটের সামনে স্থানীয় ক্রিকেটারদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলতে গিয়ে একজন দেশি ক্রিকেটার বলেন, ৫ জন করে বিদেশি প্লেয়ার খেলায় দেশি প্লেয়াররা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আমাদের পারফর্ম করাটা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কেননা ৫ জন বিদেশি খেললে ওদের তিন-চারজন টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান থাকে। স্বাভাবিকভাবে আমরা যে ধরনের ব্যাটিং করি তাতে আমাদের অর্ডার ৬-৭ এ চলে যায়। এটা আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটে আসলে করি না।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে হলে বিপিএলে আরও বেশি সুযোগ পাওয়া দরকার স্থানীয় ক্রিকেটারদের। ক্রিকেটার সাব্বির রহমান বলেন, ‘আমরা যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করতে চাই তাহলে এসব পর্যায়ে অবশ্যই আমাদের প্রথম দিকে ব্যাটিং করতে হবে এবং সুযোগটা বেশি পেতে হবে। তাই আমি মনে করি ৫ বিদেশি প্লেয়ার আমাদের জন্য বেশি সমস্যা হয়ে গেছে। এখানে ৫ জন বিদেশি না থাকলে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে একজন আসতে পারতো বা আমাদের স্থানীয় একজন প্লেয়ার বাড়তে পারতো। সেক্ষেত্রে আমাদের সুযোগটা বেশি থাকতো। ভবিষ্যতে ৫ বিদেশি খেলোয়াড়ের নিয়ম থাকলে আমাদের জন্য ভালো হবে না।’
এবার বিপিএলের প্রথম ৬টি ম্যাচের ৫টিতেই ম্যাচ সেরা পারফরমার বিদেশি ক্রিকেটাররা। স্থানীয়দের মাঝে একমাত্র ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে পেরেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। স্থানীয়দের মধ্যে যারা সুযোগ পাচ্ছেন তারাও মেলে ধরতে পারছেন না নিজেকে। দেশি ক্রিকেটারদের মতে, বিদেশিদের আধিক্যের কারণে জায়গা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে বলেই পারফর্ম করতে পারছেন না স্থানীয়রা। স্থানীয় প্লেয়াররা যেসব পজিশনে গিয়ে সুযোগ পাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তখন বল মাত্র বাকি ১০-১৫টি। ফলে আউট না হলেও ওই ব্যাটসম্যানের পক্ষে ১০-২০ রানের বেশি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, বিপিএলে প্রচুর রান হচ্ছে, এজন্য দর্শকরা খুব খুশি। কিন্তু দেখতে হবে রানটা কারা করছে। এই রান যদি দেশীয় ক্রিকেটারদের ব্যাট থেকে আসে, তাহলে তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য খুবই ইতিবাচক। এর বিপরীতে এই রান যদি বিদেশি ক্রিকেটারদের ব্যাট থেকে আসে, তাহলে দেশীয় ক্রিকেটাররা কিভাবে ভালো করতে পারবে, সে বিষয়টি বিসিবিকে ভাবতে হবে এবং সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

Category: খেলা

About admin: View author profile.

Comments are closed.