রাজনীতি

শেষ পর্যায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা : খালেদা জিয়ার সাজা আতঙ্কে শঙ্কিত বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা বিচারের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের পর বিচার প্রক্রিয়ার দুটি ধাপ (সাফাই সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক) শেষ হলেই মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে আসবে। রায়ে খালেদা জিয়ার জেল হতে পারে এবং তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন নাÑ এই আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিন কার্যদিবস আদালতে দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আদালত পরিবর্তনে বিএনপি চেয়ারপারসনের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ ৭ নভেম্বর এই আদেশ দেন। এর ফলে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতেই এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে। এদিকে গত ৯ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১১ সাক্ষীকে জেরার অনুমতি চেয়ে খালেদা জিয়ার আরেকটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতির মামলা রয়েছে ৫টি। বাকিগুলো ফৌজদারি মামলা। রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি ও দেওয়ানি মামলাও। এসব মামলার মধ্যে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের হয় ৩টি। এগুলো হচ্ছে গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলা।
জানা যায়, খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য প্রদান শেষ হলেই ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪ ধারা মোতাবেক আসবে সাফাই সাক্ষীর পর্ব। যদিও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে এখনো কোনো সাফাই সাক্ষীর তালিকা আদালতে দাখিল করা হয়নি। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু তারপরও জনসম্মুখে তাঁকে হেয় ও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদি নিরপেক্ষভাবে এই মামলার বিচার হয় তাহলে তিনি বেকসুর খালাস পাবেন।
খালেদা জিয়ার মতোই বিএনপির ছোট-বড় প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধেই সারাদেশের বিভিন্ন আদালতে রয়েছে একাধিক মামলা। ইতোমধ্যে বহু মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। দ্রুত চলছে পরিণতির দিকে। চার্জশিট-সাক্ষ্যগ্রহণ-আত্মপক্ষ সমর্থন চলছে। রায়ের অপেক্ষায় আছে কোনো কোনো মামলা। চলতি বছর বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। এসব রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের মতো বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতার ঝুঁকি রয়েছে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার।
ইতোমধ্যে কয়েকজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের রায় বেরিয়েছে। সাজা হওয়ার পর আপিল করেছেন তাদের কেউ কেউ। নিম্ন আদালতের সাজা আপিলে বহাল হলে সংশ্লিষ্টদের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সিনিয়র আইনজীবীদের মতে, এসব মামলা দ্রুত বিচারের জন্য যদি কোনো পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়, তবে দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে দলের নেতারা সহজে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ফলে বর্তমানে সাজা আতঙ্কে ভুগছে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শতাধিক নেতা। তার মধ্যে ১২ জন স্থায়ী কমিটির সদস্যের মামলা রায় ঘোষণার কাছাকাছি রয়েছে। এ নিয়ে দলের হাইকমান্ডসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আছেন বেশ দুশ্চিন্তায়।
বিএনপি দলীয় আইনজীবীরা জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আড়াই শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধেই ৫ হাজারের বেশি মামলার কার্যক্রম চলছে। সারাদেশে বিএনপির প্রায় ৫ লাখ নেতাকর্মী এসব মামলার আসামি। প্রায় সব মামলাই নিশ্চিত সাজা হতে পারে এমন কিছু ধারায়। হত্যা, বিস্ফোরণ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনের পাশাপাশি মামলা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে। রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলাও। আদালতে চার্জ গঠন হচ্ছে একের পর এক মামলার।
নেতাদের মামলা পরিচালনাকারী বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বলছেন, শুধু খালেদা জিয়া নয়, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র অনেক নেতার মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের দিকে। আগামী নির্বাচনের আগে অনেকের মামলার রায় দেয়া হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আপিল দ্রুত শেষ করে সাজা বহাল থাকলে যে কেউ নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন। তাই বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে মামলা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে আপিল চলাকালে নিম্ন আদালতের সাজা স্থগিত থাকে। আপিলের রায়ের আগেই যদি নির্বাচন হয় তবে এতে অংশ নিতে কারও কোনো বাধা থাকবে না। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ দলের নেতারা অভিযোগ করছেন, সাজা দেয়ার জন্যই তড়িঘড়ি করে মামলা শেষ করতে চাচ্ছে সরকার। তাদের ধারণা বিএনপি নেতাদের সাজা প্রদানের রায় ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনে অযোগ্য করে সরকার আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চাচ্ছে।
আইনজীবীরা জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুটি মামলার বিচার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। খালেদা জিয়ার ঘন ঘন আদালতের হাজিরার দিন ধার্য হওয়ায় চিন্তিত দলের নেতাকর্মীরা। প্রতি সপ্তাহেই তাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৩৫টি মামলা। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষেই
যুক্তিতর্ক। এরপর যেকোনো দিন রায়। নাইকো, গ্যাটকোসহ আরও কয়েকটি মামলার বিচার কার্যক্রমও চলছে পুরোদমে। জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা হলে আইনি লড়াইয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন খালেদা জিয়া। এতে নির্দোষ রায় পাওয়ার আশা করছেন তার আইনজীবীরা। সাজা হলে নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে গিয়ে জামিন চাইতে হবে।
ইতোমধ্যে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সাজা হওয়ায় আগামী নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ আপিলের ওপর নির্ভর করছে। তারেক রহমানকে এক মামলায় ৭ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে শতাধিক মামলা। এক মামলায় সাজা হওয়ায় তারেক রহমানকে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হলে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। তারপর জামিন চাইতে হবে।
বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে রয়েছে কমপক্ষে ৫৪টি মামলা। বিএনপি দলীয় আইনজীবী নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় দ্রুত চার্জশিট দেয়া হচ্ছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালেও অনেক মামলার বিচার চলছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর দায়ের করা মামলা নিয়েও নেতারা উদ্বিগ্ন। উচ্চ আদালতে স্থগিত ওই মামলাগুলো ফের চালু হচ্ছে। এছাড়া আরও কিছু মামলা চালুর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৮৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪২টিতে চার্জশিট দেয়া হয়। অন্য ৪৩টি মামলা তদন্তাধীন। মামলা হওয়া অন্য নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ৬টি মামলার সবকটিতেই চার্জশিট, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ১৬টির মধ্যে ৯টিতে চার্জশিট, তরিকুল ইসলামের ৮টির ৫টিতে চার্জশিট, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার ২৬টির ১৪টিতে চার্জশিট, মির্জা আব্বাসের ৪৩টির ২৮টিতে চার্জশিট, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ৩৫টির ১৮টিতেই চার্জশিট ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ৯টি মামলার মধ্যে ৩টিতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বেশ কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে। সেখানে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দেশে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২৫টির মতো মামলা। কয়েকটির চার্জশিট হয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে ১৩টি মামলা। একবার কারাভোগও করেছেন তিনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে ৭০টির বেশি মামলা। ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাভোগ করেছেন টানা ১০ মাস ১০ দিন। দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাব মহাসচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪০টি মামলা। তিনিও কারাভোগ করেছেন কয়েক দফায়। অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে। ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঢাকা এবং নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে ২২টি মামলা। ২০১৬ সালের ১৫ মে থেকে কারাভোগ করছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। রাষ্ট্রদ্রোহিতা, সন্ত্রাসবিরোধী, দ্রুতবিচারসহ নানা আইনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৩০টির বেশি মামলা। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বর্তমানে ৩৭ মামলার আসামি। বর্তমান সরকারের আমলে তিন দফায় কারাভোগ করেছেন সাড়ে চার মাস। যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৬টি মামলা। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে সর্বাধিক মামলার আসামি হলেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুই বছর কারাভোগ করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও নাটোরে দায়ের হয়েছে কমপক্ষে ৯০টি মামলা। এসব মামলায় দুই দফায় ২০ মাস কারাভোগ করেছেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি সরকারের সময়ে ২২ মাস ও আওয়ামী লীগ আমলে ৫ দফায় ১৮ মাস কারাভোগ করেছেন। আওয়ামী লীগ আমলে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বেশিরভাগ মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে তার নাম। বর্তমানে ২১৭ মামলার আসামি তিনি। দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এ সরকারের আমলে ৩ দফায় কারাভোগ করেছেন ১১ মাস। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে রয়েছে ১১২টির বেশি মামলা। গ্রেপ্তার হয়ে দেড় মাস কারাভোগ করেছেন তিনিও।
এছাড়া সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এম মোরশেদ খান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ (অব.), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, নাজিম উদ্দিন আলম, মিজানুর রহমান মিনু প্রমুখের বিরুদ্ধেই রয়েছে ১০ থেকে ৪০টি করে মামলা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভের জন্য নীলনকশা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সিনিয়র নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চাচ্ছে। এজন্য আদালতকে ব্যবহার করছে। সরকার বিএনপির নেতাদের বিভিন্ন মামলায় দ্রুত সাজা দেয়ার চেষ্টা করছে। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৭ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। চেয়ারপারসনের মামলাগুলোর কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দলের সিনিয়র নেতাদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যাতে বিএনপি অংশ নিতে না পারে সেজন্যই সরকার তাড়াহুড়ো করে মিথ্যা মামলায় সাজা দিতে চাচ্ছে।
মামলার ব্যাপারে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলাই ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলার কারণে বিএনপি নেতাদের আগামী নির্বাচনে কিছু সমস্যা হতে পারে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য করার উদ্দেশে বিভিন্ন মামলায় তাকে সাজা দেয়ার সরকারি ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।
তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে মুখে যাই বলুক না কেন বাস্তব অবস্থা কিন্তু বিএনপি নেতাদের জন্য বেশ প্রতিকূলে রয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা রয়েছেন মামলার সাজা আতঙ্কে। এমনকি মামলার ওপর ভিত্তি করে আদালতের সাজার কারণে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে নাÑ এ ধরনের আতঙ্কে সারাদেশে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও বিরাজ করছে চরম হতাশা।