রাজনীতি

আশার আলো দেখছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনের পর উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতির মাঠে আশার আলো দেখছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দলটি যেভাবে হারিয়ে যেতে বসেছিল, সেখান থেকে তাদের উত্তরণ ঘটেছে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে যে আস্থাহীনতা ছিল তা অনেকটা কেটে গেছে। মামলা-মোকদ্দমায় আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। ওই সমাবেশের পর আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার মনোভাব ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেন নেতারা। সমাবেশ সফল করায় ১৩ নভেম্বর এক টুইটবার্তায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা সফল হওয়ায় খালেদা জিয়া নিজেও উজ্জীবিত। এর আগের দুইটি জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি সফল হওয়ার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির মধ্যে সংশয় কাজ করছিল। বিএনপি ধরেই নিয়েছিল পুলিশ তাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেবে না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সমাবেশের অনুমতি পেয়েও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া সমাবেশ সফল হওয়ায় স্বস্তি বিরাজ করছে খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের সব নেতাকর্মীর মাঝে।
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশটি করলেও কার্যত এটি রাজনৈতিক শোডাউনে রূপ নেয়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশঙ্কা ছিল অনেকের মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও। আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সহনশীলতা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করতে পেরেছে বিএনপি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ২৩ শর্ত দিলেও সেই নিয়ম ভেঙে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। লন্ডন থেকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে খালেদা জিয়া বাসার উদ্দেশে যাওয়ার সময়ের শো-ডাউন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য সড়ক পথে খালেদা জিয়ার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে যাওয়া ও আসার সময়ের শো-ডাউন এবং ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শো-ডাউন প্রত্যাশিত পর্যায়ে সফল হওয়ায় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন বেশ চাঙা। সাম্প্রতিক সময়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এসব কর্মসূচি পালন করে বিএনপি এখন বেশ উজ্জীবিত। আর এসব কারণে অতীতের ধ্বংসাত্মক সহিংস কর্মসূচি বাদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে দলের নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে আরো জনসম্পৃক্ত বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি সারাদেশে শিগগিরই রোডশো করার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া সংশ্লিষ্টদের বলেছেন, নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি সামনে নিজের বিপদাপদ নিয়ে ভাবছেন না। এমনকি নিজের মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত নন তিনি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কাছে এগুলো তুচ্ছ। তাই সাধারণ মানুষের কাছাকাছিই থাকতে চান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। শারীরিক সুস্থতা আর অনুকূল পরিবেশ পেলে এই শীতে প্রাথমিকভাবে বিএনপি প্রধান বিভাগীয় পর্যায়ে রোডশো করতে পারেন। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোতে যাবেন তিনি। এমনকি আসন্ন ছয় সিটি করপোরেশনের দলীয় মেয়র প্রার্থীর পে ভোটও চাইতে যাবেন।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের পরপর তিনটি কর্মসূচিসহ সর্বোপরি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে মানুষ আশার আলো দেখছেন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এখন উজ্জীবিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপি ইতিবাচক। তবে এটা নির্ভর করবে সরকারের ওপর। তারা যদি ২০১৪ সালের মতো একটি নির্বাচন চায়, তাহলে তো হবে না। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করাতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, লন্ডন থেকে খালেদা জিয়া ফেরার পর পরপর তিনটি কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। সর্বশেষ ১২ নভেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের প্রধান খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশেই ছিল না, এটা ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাক্সার একটি বহিঃপ্রকাশ। এজন্যই শুধু নেতাকর্মীরা নন, সারাদেশের মানুষই উজ্জীবিত। তারা বিএনপি প্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। খালেদা জিয়াও জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার সঙ্গেই রয়েছেন। তাই খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে ঘিরে। জনজীবনের সমস্যাগুলোও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। এসব সমস্যার মূল কারণ হলো একটি নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকারের অনুপস্থিতি। তাই সব দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপে সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট চেয়েছেন। এজন্য তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন। সরকারকে আবারও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা যায়, সংলাপের পথ খোলা রেখেই বিএনপি সামনে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করবে। সহিংস কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকরদের। তৃণমূলের রোডশোগুলোয় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও জনদাবি তুলে ধরবেন খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতারা। এ নিয়ে জনমত তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে সরকারের নানা ব্যর্থতার দিকগুলোও তুলে ধরা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টার পাশাপাশি ছাড় দেয়ার ইচ্ছাও রয়েছে দলটির। তবে বিএনপি চায় নির্বাচন নিয়ে সরকার বিএনপির সঙ্গে একটি সংলাপ-সমঝোতায় আসুক। সরকার যদি সংলাপের দিকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে বিএনপিও সর্বোচ্চ ছাড় দেবে। নইলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার যে ঘোষণা খালেদা জিয়া দিয়েছেন, সেখানেই অনড় থাকবে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য স্বদেশ খবরকে জানান, বিএনপিকে বাইরে রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এই ভুল সরকার দ্বিতীয়বার করবে না। কারণ ৫ জানুয়ারির মতো এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, এটা আওয়ামী লীগও মনে করে। তাই বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে হলে সরকারকে অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সভা-সমাবেশ ছাড়াও নির্বাচনি প্রচারে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আস্থার পরিবেশ পেলেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে।
জানা গেছে, সরকার যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি সংলাপের ডাক দেয়, তাহলে বিএনপি সেখানে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবে। আলোচনার টেবিলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে রূপরেখা চাওয়া হবে। উভয় দলের রূপরেখা নিয়ে সন্তোষজনক সমাধানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার ইস্যুর স্থায়ী সমাধান চায় বিএনপি। ১২ নভেম্বরের জনসভায় তা স্পষ্ট করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া সরকারকে এও বলেছেন, আসুন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক পন্থা বের করি।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য স্বদেশ খবরকে জানান, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল এখন বিএনপি। তাই সংলাপ করতে হবে বিএনপির সঙ্গেই। কথা বললে একটি পথ বেরিয়ে আসবেই। খালেদা জিয়া তৃণমূলে যাবেন কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের আচরণের ওপর। পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খালেদা জিয়া তৃণমূলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক।
জানা যায়, আসন্ন ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেও বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না বিএনপি। ছয় সিটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা রায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বিএনপি মনে করে, সিটি নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনে। তাই ধানের শীষের পে জোয়ার আনতে খোদ দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া নিজেই মাঠে নামবেন। দলীয় প্রার্থীর পে সর্বস্তরের মানুষের ভোট চাইবেন। পর্যায়ক্রমে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নেবেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর।
বিএনপি মনে করে, বিমানবন্দরে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া বিপুল সংবর্ধনা থেকে শুরু করে কক্সবাজারসহ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগমে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল। আর এতে করে একটি ইতিবাচক বার্তা তৃণমূলেও পৌঁছেছে। তাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা ভাবছে দলটি। বিএনপির মতে, পরপর তিনটি জনসম্পৃক্ত সফল কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে এটা বোঝা গেল যে, খালেদা জিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এখনও অটুট আছে।
এদিকে বিমানবন্দরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া সংবর্ধনা থেকে শুরু করে কক্সবাজারসহ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটিকে জনসভা করতে দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনেকটা সহনশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ করেছে। অন্যথায় বিএনপির পক্ষে এ ধরনের কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন স্থানে বাধা ও গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপরও মানুষজন হেঁটে সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে। সরকার বাধা দিয়েও আটকাতে পারেনি। জনসভা শেষ পর্যন্ত জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
তারপরও সরকারি দল আওয়ামী লীগের এই সহনশীল আচরণকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ বজায় থাকলে দেশে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হবে।
এ প্রসঙ্গে দেশের খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক শামসুল আলম বলেন, বিএনপি নির্বিঘেœ তাদের ৩টি কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করেছে তা ইতিবাচক, যদিও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে নতুনত্ব কিছু নেই। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন অনেকটা সহনশীল বক্তব্য দিয়েছেন, হিংসাত্মক কিছু বলেননি। তার বক্তব্যে মনে হয়েছে বিএনপি হার্ডলাইনে যাবে না। হয়ত তারা নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের দেয়া শর্তের মধ্যে থেকে বিএনপি সমাবেশ করেছে। সরকারের অনুমতি দেয়া এবং কোনো সহিংসতা না ঘটা স্বস্তিদায়ক। যদিও দেশের প্রধান দু’দলই নিজ নিজ পে অনড়। তারা নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন করতে চায়। দু’দলই তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে এবং শক্তিমত্তা দেখালে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অচলাবস্থার দিকে যাবে, যা দেশবাসীর কাম্য নয়।
শ্রমিক দিবস উপলে ২০১৬ সালের ১ মে সর্বশেষ রাজধানীতে সমাবেশ করেছিল বিএনপি। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ওই সমাবেশেও প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু ১২ নভেম্বরের সমাবেশটি ছিল ব্যতিক্রম। কারণ প্রায় দু’বছর ঢাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল করতে না পারায় সরকারের ওপর নাখোশ ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিরোধী দলকে রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না সরকারÑ এই অভিযোগ বিএনপির প থেকে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদেরও জানানো হয়েছে। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সমাবেশ করতে পারায় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে যে হতাশা ও সন্দেহ ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে।
আর গত এক মাসে পরপর তিনটি কর্মসূচিতে ব্যাপক শোডাউন করেছে বিএনপি। এর আগে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছিল। রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রাস্তায় নেতাকর্মীরা ব্যাপক শোডাউন করে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই গণসংযোগকে কেন্দ্র করে সারাদেশের নেতাকর্মীরা কিছুটা চাঙা হয়েছেন। তবে ফেনীতে সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলা ও ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীর মহিপালে যাত্রীবাহী বাসে অঘিœসংযোগের ঘটনাও বিএনপির পে গেছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পারায় বিএনপি পুরোপুরি নির্বাচনমুখী না হলেও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠবেন। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরপে সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কৌশল খুঁজবে দলটি।
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, সরকার বিভিন্নভাবে বাধা দেয়ার পরও সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে। সমাবেশে নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে যোগ দিয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে মানুষ পরিবর্তন চায়। গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও যেভাবে মানুষ সমাবেশে যোগ দিয়েছে, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শেষ কথা
ইদানীং জনসম্পৃক্ত কিছু কর্মসূচি পালন করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বেশ চাঙাবস্থায় থাকার পরও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছেন বেশ দোটানায়। দলের নির্বাচনি স্ট্যান্ড এখনও রয়েছে দশম সংসদের নির্বাচনি মুডে। বিএনপি তখন যেমনটি বলেছিল শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, দীর্ঘ সময় পর এখনও দলের পূর্বের অবস্থানের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব কখনও বলছেন তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবেন, আবার কখনও বলছেন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। যদিও বিএনপির সারাদেশের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মুখিয়ে আছেন।