প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে আরও দু’টি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশি-বিদেশি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে আরো দুটি নতুন চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পদপে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ১৬ নভেম্বর রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ৩ দিনব্যাপী ‘লেদার প্রডাক্ট শো’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী ৫ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়ার অ্যান্ড লেদার গুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৭’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘থিংক অ্যাহেড, থিংক বাংলাদেশ’ শীর্ষক থিম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আইসিসিবির অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এলএফএমইএবির সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম এবং বিশিষ্ট উদ্যোক্তা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে পূর্বে রেকর্ডকৃত শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং ভারপ্রাপ্ত এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিমের বক্তব্যও প্রচার করা হয়।
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার সালমান এফ রহমান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আইসিসিবির অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুষ্ঠানে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ১৫টি দেশের চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা এই লেদার শোতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে চামড়া প্রত্য ভূমিকা রাখবে। এই খাতের উৎপাদনশীলতা এবং গুণগত উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে আরও সহায়ক হবে এ ধরনের বিশেষ আয়োজন। বাংলাদেশে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বৈশ্বিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের রুলস অব অরিজিন সম্পর্কে আরও আকৃষ্ট করবে। ২০১৭ সালের জন্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে আমরা ‘বর্ষপণ্য ২০১৭’ হিসেবে ঘোষণা করেছি (প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার ২০১৭)। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া খাত হতে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।
সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি অধিকাংশ ট্যানারি আমরা হাজারীবাগ থেকে সাভারে নিয়ে গেছি। সাভারে পরিবেশসম্মত উপায়ে এই শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে এবং একে ঘিরে যেন আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে তার জন্য যথাযথ পদপে আমরা নেব।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক মান এবং স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার জন্য বেসরকারি খাত সহযোগে একটি টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন সেন্টার স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আয়কর রেয়াতপ্রাপ্ত ওয়েট ব্লু লেদার ব্যতীত চামড়া খাতে এফওবি রপ্তানি মূল্যের ওপর একশ’ ভাগ এক্সপোর্ট পারফরম্যান্স লাইসেন্স সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে যাতে রপ্তানিটা আরও সহজ করা যায়। সেই সঙ্গে ওয়েট ব্লু উৎপাদনকারী ট্যানারিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ফিনিশড চামড়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের েেত্র অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগও প্রদান করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প স্থানান্তরের প্রণোদনা হিসেবে সাভার ট্যানারি শিল্পাঞ্চল থেকে ফিনিশড চামড়া রপ্তানির েেত্র শতকরা ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা রপ্তানির েেত্র ১৫ ভাগ নগদ সহায়তা আমরা দিচ্ছি। চামড়া েেত্র শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় মেশিনারি আমদানির েেত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও রপ্তানি নীতি ২০১৫ থেকে ২০১৮’তে এই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। লেদার খাত বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ড বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনে কাজ শুরু করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য সোর্সিং করা হচ্ছে। চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী ৫ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই সুযোগটা পাবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চামড়া খাতে অধিক সহায়তা প্রদানের পেছনে রয়েছে এর অমিত সম্ভাবনা। খাতটি একদিকে একটি অত্যন্ত শ্রমঘন শিল্প, যা বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে সম; অন্যদিকে এর শতভাগ কাঁচামাল আমাদের দেশেই বিদ্যমান রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন নীতি ও আর্থিক সহায়তা কাজে লাগানোর ফলে খাতটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জনকারী খাত হিসেবে তার স্থান দখল করে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথাযথভাবে এই খাতকে কার্যকর করা হলে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে স্থিরকৃত ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের ল্যমাত্রার মধ্যে এই খাত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করতে পারবে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে প্রতিনিয়ত যে সমস্ত পশু জবাই হয় তার চামড়া যথাযথভাবে সংরণ করার পাশাপাশি এই শিল্পের দিকে আরও বিশেষভাবে নজর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।