প্রতিবেদন

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন : দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এনসিটিবিতে

স্বদেশ খবর ডেস্ক : জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হচ্ছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ১৩ নভেম্বর রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘এনসিটিবি : পা-ুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। গবেষণা পরিকল্পনা ও প্রতিবেদন প্রণয়ন করেন টিআইবির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গবেষণার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ শেষে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়।
টিআইবির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার বলেন, দরপত্র নির্দেশিকা তৈরি, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সিএস তৈরি, কার্যাদেশ প্রদান, প্রতি লটের কাগজের হিসাব, কাগজের বরাদ্দপত্র জারি, কার্যাদেশ অনুযায়ী উপজেলায় বই সরবরাহ বাবদ গত ৩ বছরে ৫১ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে সম্মানী নিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান থেকে এমএলএস পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে টিআইবি এক সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম।
টিআইবির মতে, এনসিটিবি বিনা মূল্যের যে পাঠ্যবই প্রণয়ন ও মুদ্রণ করে, তাতে পদে পদে অনিয়ম হয়। এসবের পাশাপাশি পা-ুলিপি প্রণয়নে বিভিন্ন কমিটি গঠন, কর্মশালার আয়োজন, লেখক দলে সদস্য নিয়োগ, বিষয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, প্র“ফ রিডার নিয়োগ, সম্পাদনা, লেখা পরিবর্তনসহ নানা ব্যাপারে এত অনিয়ম হয় যে, নিঃসন্দেহে বলা চলে এনসিটিবিতে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ঘটেছে।
টিআইবির মতে, এনসিটিবিতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয় পাঠ্যবই মুদ্রণে। এই কাজে বেতনের পাশাপাশি বছরে ৬টি বোনাসের পরও আলাদা সম্মানী নেন এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কোনো কোনো কর্মকর্তা বেনামে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানেরও মালিক। বিএসটিআইয়ের সনদবিহীন কাগজ ও নিম্নমানের কালি ব্যবহার করে বই ছাপা হলেও সন্তোষজনক প্রতিবেদন দেয় এনসিটিবি। টিআইবির গবেষণার সার্বিক পর্যবেণে বলা হয়েছে এনসিটিবির কার্যক্রমে শিা মন্ত্রণালয়ের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান, যার প্রতিফলন বিভিন্ন কমিটি গঠন থেকে শুরু করে পাঠ্যবইয়ে লেখা নির্বাচনের মতো বিষয় পর্যন্ত বিস্তৃত। এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ, যথাযথ নয় এবং দলীয় রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রভাব বিদ্যমান। পাঠ্যবই লেখার মতো ‘বিশেষায়িত’ বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না; অনেক েেত্র প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঠ্যপুস্তকের পা-ুলিপি প্রণয়নের প্রায় সব ধাপেই সুশাসনের অভাব রয়েছে। যখন যে সরকার থাকে তাদের ভাবধারা ও খুশি মতো পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন হয়। নির্ধারিত সম্মানী ও বেতনের বাইরে বিধি-বহির্ভূতভাবে সম্মানী নিচ্ছেন জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা। দরপত্র প্রকাশ থেকে শুরু করে কার্যাদেশ পাওয়া পর্যন্ত পা-ুলিপি প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক প্রকাশের েেত্র এনসিটিবির চেয়ারম্যান থেকে এমএলএসএস পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এর ভাগ পাচ্ছেন। তবে এর কোনো ডকুমেন্ট রাখে না এনসিটিবি কর্তৃপ। টিআইবির মতে, এনসিটিবির স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু এনসিটিবি অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর কোনো বিধিমালা নেই। নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা বিদ্যমান। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যবহার করা হয় এনসিটিবিকে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, লেখক দল বই রচনা, পরিমার্জন বা পরিবর্ধন করার পর এনসিটিবির সম্পাদনা বিভাগে জমা দিয়ে থাকেন। একাধিক তথ্যদাতার তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পাদক নিজের মতো করে সম্পাদনা করেন। সম্পাদনার সময় লেখক ও সম্পাদক একসাথে বসে লেখার উদ্দেশ্য ও বিষয় সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদনা করার নিয়ম থাকলেও এই কাজটি না করার অভিযোগ রয়েছে। এনসিটিবি এ কাজটি সময়স্বল্পতার অজুহাতে করে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিটিবির অন্যতম কাজ হচ্ছে কারিকুলাম তৈরি হওয়ার পর এক বছর পর রচিত পাঠ্যবইয়ের ওপর মাঠ পর্যায় থেকে মতামত নেয়া। অভিযোগ রয়েছে পাঠ্যক্রম বিভাগ এই পদ্ধতিতে প্রাপ্ত মতামত যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে না। মাঠ পর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয় না। এছাড়া কারিকুলাম অনুসরণ না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেখা পরিবর্তন করা হয়। লেখকদের অজ্ঞাতে পাঠ্যবইয়ে লেখা সংযোজন ও বিয়োজন এবং কোনো কোনো েেত্র লেখা পরিবর্তনে সম্পাদকদের বাধ্য করা হয়। এছাড়াও ২০১৩ শিাবর্ষে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে শিা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার কবিতা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই বিসিএস শিা ক্যাডারের কর্মকর্তা। তাদের প্রেষণে এখানে পদায়ন করা হয়। তারা একই কাজ করলেও নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বছরে ৬টি বোনাস পান। এরপরও বিভিন্ন কাজে সম্মানী নেন।
পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের মুদ্রণ আইন অনুযায়ী যারা কাজ পাবেন তাদেরই তা করার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ েেত্রই মুদ্রণ, বাঁধাই ও লেমিনেশনের েেত্র সাবকন্ট্রাক্ট দেয়া হয়। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো বিএসটিআইয়ের সনদবিহীন মিলগুলোর কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাগজ কেনে। একাধিক কাগজ মিল মানসম্মত কাগজ সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হলেও পরবর্তী বছরেও তাদের কাছ থেকে কাগজ কেনা হয়। পর্যাপ্ত কাগজ উৎপাদনের সমতার ঘাটতি, সময়মতো কাগজ সরবরাহ করতে না পারা, চুক্তিবদ্ধ মাপ অনুযায়ী কাগজ সরবরাহ না করলেও তাদের কাগজে বই ছাপা হচ্ছে। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের একাংশের আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি প্রতিষ্ঠান সার্বণিক উপস্থিত না থেকেও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দেয়। কোনো কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান তদারকির ভয়ে দিনে ভালো কাগজে বই ছাপে, রাতে খারাপ কাগজ ব্যবহার করে। এ বইগুলো বেশিরভাগ েেত্র উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। আর সময়মতো বই সরবরাহ করা না হলেও নিয়োগকৃত পরিদর্শন ও তদারকি প্রতিষ্ঠান পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের প্রতিবেদনে সঠিক সময়ে বই পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদন দেয়।
পা-ুলিপি প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিসিসি, টেকনিক্যাল কমিটি, ভেটিং কমিটি, শিাক্রম উন্নয়ন কমিটি, লেখক কমিটি গঠনের সময় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা বা কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়। এক বিষয়ের বিশেষজ্ঞকে অন্য বিষয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পদায়ন দেয়া হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঠ্যবইয়ে মতাসীন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শিক ধারার ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা এবং ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারের প্রভাব ল্য করা যায়। বর্তমান সরকার মতায় আসার আগের সময়ে প্রণীত পাঠ্যবইয়ে (সমাজপাঠ) ‘বাঙ্গালী’ শব্দ ব্যবহার করা হতো না, বরং ‘এদেশের মানুষ’ লেখা হতো। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান বইগুলোতে ‘বাঙ্গালী’ শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে বলা হয়, সম্প্রতি একটি সাম্প্রদায়িক মতাদর্শী গোষ্ঠীর দাবি ছিল মাদ্রাসার পাঠ্যবইয়ে ‘হিন্দু, খ্রিস্টান বা বিদেশি বলে মনে হয় এমন নামের পরিবর্তে ‘সুন্দর ইসলামি নাম’ ব্যবহার করা হোক। ইতোমধ্যে পাঠ্যবই থেকে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে যেকোনো ধরনের সংলাপও প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের চারটি পাঠ্যবই থেকে ১১টি ‘অনৈসলামিক কবিতা, বিভিন্ন হিন্দু নাম ও কাহিনি এবং মেয়েদের শারীরিক উন্নতির অধ্যায় থেকে ‘মাসিক’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫টি পাঠ্যবই থেকে ১৬টি লেখা বাদ দেয়া হয়, যার মধ্যে উল্লিখিত গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী ১১টি কবিতাই বাদ দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসার ইংরেজি পাঠ্যবই থেকে হিন্দু, খ্রিস্টান বা বিদেশি বলে মনে হওয়া সব ধরনের নাম বাদ দিয়ে সেখানে ‘ইসলামি’ নাম দেয়া হয়েছে। এমনকি সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় এনসিটিবির চেয়ারম্যানের নাম মাদ্রাসার বইগুলোতে উহ্য রাখা হয়েছে।
সম্পাদনার বিষয়ে বলা হয়, সম্পাদনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দল দায়িত্ব পালন না করে অফিস সময়ে ইন্টারনেটে শেয়ার ব্যবসা, বক্তিগত আলাপ, ব্যক্তিগত এনজিও ব্যবসা ও মুদ্রণ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ২০১৬ শিাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিা বইয়ে ৫৮টি ভুল শোধরানো হলেও ২০১৭ শিাবর্ষে আবার ২০টি ভুল দেখা যায়। স্বজনপ্রীতি ও তদবিরের মাধ্যমে দতাসম্পন্ন নয়, এমন সদস্যকে প্র“ফ রিডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। মাঠপর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও করা হয় না। কারিকুলাম অনুসরণ না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেখা পরিবর্তন করা হয়। লেখকদের অজ্ঞাতে পাঠ্যবইয়ে লেখা সংযোজন-বিয়োজন এবং কোনো কোনো েেত্র লেখা পরিবর্তনে সম্পাদকদের বাধ্য করা হয়।
টিআইবি তাদের গবেষণায় ১৬টি সুপারিশ করে। আইন ও নীতি সংস্কার বিষয়ক সুপারিশে বলা হয়, এনসিটিবিকে স্বাধীন কমিশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা পাঠ্যবই রচনা, সংকলন, সম্পাদনা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে নীতি প্রণয়নে কাজ করবে। কমিশন গঠনের ল্েয জাতীয় পর্যায়ে খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যারা ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এই কমিশন গঠনের বিষয়ে সুপারিশ করবে। এই কমিশন গঠনের আগ পর্যন্ত এনসিটিবির কার্যক্রমে শিা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব হ্রাস করতে হবে, সিলেবাস ও টেক্সট বুক কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা ও মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সমতা সংক্রান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান পাঠ্যক্রম প্রকাশ উন্মুক্ত করতে হবে ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। শিা বিষয়ক ও শিাক্রমের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এনসিটিবির বোর্ডে (বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য) সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। সব তদন্ত প্রতিবেদন (প্রণয়ন ও প্রকাশনাসহ) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। পা-ুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনার প্রত্যেক ধাপ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে পা-ুলিপি সংরণ করতে হবে। পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ই-টেন্ডারিং প্রচলন করতে হবে। মুদ্রণ তদারকির সঙ্গে জড়িত এনসিটিবির কর্মকর্তাদের কারিগরি দতা বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নকারী সংস্থা এনসিটিবি কর্তৃক সম্প্রতি একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাহিদার পরিপ্রেেিত পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হয়েছে; যার অনেক কিছুই মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মৌলিক চেতনার পরিপন্থি। এতে মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে বিচ্যুতি ঘটছে। আমরা দেখতে পাই সরকার পরিবর্তন হলে পাঠ্যপুস্তকেও কিছু পরিবর্তন হয়, তাদের ভাবধারা প্রকাশ পায় পাঠ্যপুস্তকে। এনসিটিবি সরকারি আদেশের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান। আমরা সরকারের প্রভাবমুক্ত এনসিটিবি দেখতে চাই। আর এজন্য প্রয়োজন জাতীয় শিাক্রম কমিশন গঠন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কমিশন গঠন করলেই যে সরকারি প্রভাবমুক্ত পুরোপুরি হবে সেটা বলছি না। তবে কমিশন গঠন করলে এনসিটিবির কর্মকা- সুনির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবে। দীর্ঘদিনেও এনসিটিবি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি জারি না হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের দ্বারা আদিষ্ট হয়ে এনসিটিবিকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুখ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে এনসিটিবিকে একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে পুনর্গঠনের দাবি জানান।