দারিদ্র্য বিমোচনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প

| November 25, 2017

বিশেষ প্রতিবেদক : খামার মানে একটি পরিসীমার মধ্যে কৃষি সংক্রান্ত সব পণ্যের সুষ্ঠু সমন্বয়। একটি বাড়িকে শুধু বসবাসের স্থান হিসেবে না দেখে সে বাড়ি থেকে যখন জীবনধারণের প্রায় সব উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে, তখনই তা হয়ে উঠবে একটি পরিপূর্ণ বাড়ি, একটি খামার। দেশের প্রতিটি বাড়ি যখন খামারে রূপান্তরিত হবে অর্থাৎ প্রতিটি বাড়িতেই যখন সব ধরনের কৃষিপণ্যের সমাহার ঘটবে তখন প্রতিটি মানুষের মধ্যে বহুমুখী অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দখিনা দুয়ার খুলে যাবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের থিম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কৃষির নিরন্তর সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু আমাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও কার্যকরী বাস্তবায়ন এবং সার্বিক সমন্বয়হীনতার কারণে এখনো কাক্সিত সীমানা স্পর্শ করা যায়নি। দেশে কৃষি পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৯ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ পরিবারগুলো নিজ উদ্যোগে তাদের নিজেদের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার সাথে সাথে বাড়তি জোগান দেয় অকৃষি খাতে জীবন নির্বাহ করা ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার পরিবারের; যা আমাদের মোট জনসংখ্যার ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মোট কথা এদেশের আপামর মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির নীরব জোগনদাতা এদেশের কৃষক। সে কারণে বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বাড়ি একটি খামার ইস্যু ঘোষণা করেছিলেন।
বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় ৪৮৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৫২৭টি ওয়ার্ডে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান। ২৫ লাখ দরিদ্র পরিবার এ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রতিটি গ্রামে ৬০টি গরিব পরিবারের সমন্বয়ে একটি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। গ্রাম উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তহবিল গঠনের প্রক্রিয়ায় সদস্যরা এ পর্যন্ত ৭০৫ কোটি টাকা সঞ্চয় হিসেবে জমা করেছে। সরকার এই সঞ্চয়ের বিপরীতে উৎসাহ বোনাস প্রদান করেছে ৬৩৫ কোটি টাকা এবং আবর্তক তহবিল প্রদান করেছে ৮২২ কোটি টাকা। এতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্যদের মোট তহবিল দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এ তহবিল ব্যবহার করে প্রকল্পের সদস্যরা কৃষি ও অকৃষি খাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্প গ্রহণ করে আয়বর্ধক কর্মকা-ে নিয়োজিত রয়েছে। সদস্যদের গৃহীত আয়বর্ধক প্রকল্পের সংখ্যা ১০ লক্ষেরও বেশি; যাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বিস্তৃত। গ্রাম নির্বাচন কৌশলে একটি ওয়ার্ডকে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক সীমারেখা বিবেচনায় দুই ভাগ করে এক ভাগের গ্রামসমূহ হতে উপকারভোগী নির্বাচন করে গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে গঠিত গ্রাম নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পের গ্রাম নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এরপর নির্বাচন করা হয় প্রকল্পের উপকারভোগী। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন বা শনাক্তকরণে ৪টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সুস্পষ্ট মানদ- বজায় রাখা হয়। অগ্রাধিকার-১ : গরিব পরিবার (মহিলা পরিবার প্রধান, ০-৫০ শতক জমির মালিক)। অগ্রাধিকার-২ : গরিব পরিবার ( পুরুষ পরিবার প্রধান, ০-৩০ শতক জমির মালিক)। অগ্রাধিকার-৩ : গরিব পরিবার ( পুরুষ পরিবার প্রধান, ৩১-৫০ শতক জমির মালিক)। অগ্রাধিকার-৪ : চরাঞ্চল বা পাহাড়ি এলাকার গরিব পরিবার (সর্বোচ্চ ১ একর জমির মালিক)। ৪টি ক্ষেত্রেই শহীদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান রয়েছে। কোনোক্রমেই যাতে গ্রামের সচ্ছল, ব্যবসায়ী বা তাদের পোষ্য উপকারভোগী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ না পায় সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়। এরপর মানদ- অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬০ জন উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়, যার মধ্যে ৪০ জন থাকেন মহিলা এবং ২০ জন থাকেন পুরুষ।
উপকারভোগী নির্বাচনের পর সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গ্রামে প্রকাশ্য সভায় নির্বাচিত উপকারভোগীদের নিয়ে গ্রামভিত্তিক ‘গ্রাম উন্নয়ন সমিতি’ নামে গ্রাম সংগঠন অর্থাৎ মানব সাংগঠনিক অবকাঠামো গঠন করা হয়, যার সদস্য সংখ্যা অনূর্ধ্ব ৬০ জন। এই ৬০ জনের মধ্যে ৪০ জন মহিলা ও ২০ জন পুরুষ সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ সমিতিতে নারী ও পুরুষের অনুপাত ২:১। সামাজিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সহযোগিতা, অবাধ মিথস্ক্রিয়া অর্থাৎ সামাজিক পুঁজিকে আরো বেশি সুসংহত করে উন্নয়নের প্রকৃত আধার সৃষ্টি করাই এই গ্রাম সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মকা-ের সৃষ্টি করে প্রকল্পের কর্মযজ্ঞ পরিচালনাকে বেগবান করার লক্ষ্যে গ্রাম সংগঠনকে ব্যবহারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। গ্রাম উন্নয়ন সমিতি পরিচালনার জন্য সকল নির্বাচিত উপকারভোগী সদস্যকে নিয়ে একটি সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় উপস্থিত উপকারভোগীদের মধ্য হতে সকলের সম্মতিক্রমে সৎ, যোগ্য ও কর্মোদ্যোগী ব্যক্তি নিয়ে গ্রাম উন্নয়ন সমিতির একজন সভাপতি ও একজন ম্যানেজার নিয়োগ করা হয়। সমিতির জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, মহিলা সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি কিংবা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না এমন অনিবাসী ভূমির মালিকগণকে সমিতির উপদেষ্টা নিয়োগ করার বিধান রয়েছে। প্রকল্পদলিলে সদস্য, ম্যানেজার, সভাপতি, উপদেষ্টার দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে; যাতে কোনো প্রকার বিভেদ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।
প্রকল্পের উপকারভোগীরা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ৫০ টাকা হারে মাসে ২০০ টাকা সমিতিতে সঞ্চয় করেন। এতে প্রতি গ্রাম সংগঠনে ৬০ জন সদস্যের মাসিক সঞ্চয় ১২ হাজার টাকা এবং বছরে তা ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। দু’বছরে সমিতিতে সদস্যদের নিজস্ব সঞ্চয়ের পরিমাণ হয় ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, সুদ ও সার্ভিসচার্জসহ যা ৩ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। এ অর্থ সদস্যদের নিজস্ব অর্থ হিসেবে সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। প্রতি সদস্যকে একটি পাসবই প্রদান করা হয়। ওই পাসবইয়ে সদস্যদের বর্ণিত সঞ্চয় লিপিবদ্ধ করা হয়। সমিতির সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত ম্যানেজার সমিতির পক্ষে সদস্যদের সঞ্চয়ের অর্থ গ্রহণ, পাসবইয়ে লিপিবদ্ধ করে স্বাক্ষর প্রদান ও ব্যাংকে জমা প্রদান করার দায়িত্ব পালন করেন। এ কাজে এখন সহায়তা করছেন প্রকল্পের কর্মচারী ইউনিয়ন মাঠ সহকারী। ইউনিয়ন মাঠ সহকারী আয়বর্ধক প্রকল্পের বিপরীতে সদস্যের চাহিত ঋণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মঞ্জুরির সুপারিশ করেন। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্যরা ‘আয় থেকে দায় শোধ’ পদ্ধতিতে সমিতি হতে ঋণ গ্রহণ ও সাভিস চার্জসহ ঋণের অর্থ আবার সমিতিতে ফেরত প্রদান করেন। ঋণ পরিশোধ শেষে পুনরায় ঋণ গ্রহণ করেন। প্রকল্পের আয় হতে ঋণ পরিশোধ করা হয় বিধায় কিস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের আয় আসার সময় বিবেচনায় নেয়া হয়। অর্থাৎ দৈনন্দিন আয়ের ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক কিস্তি এবং মাসিক আয়ের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হয়।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপকারভোগীরা তাদের সমিতিতে প্রতি মাসে ২০০ টাকা সঞ্চয় হিসেবে জমা করেন। সরকার এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মাসিক ২০০ টাকা সঞ্চয়ের বিপরীতে মাসিক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা উৎসাহ বোনাস প্রদান করে। প্রতি উপকারভোগী বার্ষিক ২ হাজার ৪০০ টাকা সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রকল্প হতে সমপরিমাণ ২ হাজার ৪০০ টাকা উৎসাহ বোনাস পান। ফলে বছরে একজন সদস্যের নিজস্ব পুঁজির পরিমাণ দাঁড়ায় (২,৪০০ + ২,৪০০) = ৪,৮০০ টাকা। প্রকল্প হতে ৩ মাস অন্তর উৎসাহ বোনাসের টাকা সমিতির ব্যাংক হিসাবে প্রেরণ করা হয়। সমিতির ম্যানেজার সরকার প্রদত্ত উৎসাহ বোনাস সদস্যের পাসবইয়ে লিপিবদ্ধ করেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পুঁজি সৃষ্টিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হয়। এতে সদস্যদের মধ্যে সঞ্চয় জমাদানে উৎসাহ সৃষ্টি, স্থানীয় সম্পদ আহরণে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ, পল্লী অঞ্চলে তহবিল সঞ্চালন এবং দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। বর্তমান সরকারের প্রধান ল্য হচ্ছে দেশকে দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে মুক্ত করা। এ ল্েয জনগণের সঞ্চয় বাড়ানোর বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। জনগণকে ঋণগ্রস্ত না রেখে তারা যাতে সঞ্চয় বাড়াতে পারে সে ল্েয একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূর না হওয়া পর্যন্ত চলবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থাকবে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। প্রধান প্রধান ঝুঁকিগুলো হচ্ছে ঋণখেলাপি বৃদ্ধি, ঋণের সঠিক ব্যবহার না হওয়া, ঋণের সীমাবদ্ধতা, ঋণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তন, ঋণ ফেরত না পাওয়া, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বেশ কিছু সমস্যাও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ও ঋণ পাওয়ার সময়ই প্রধান সমস্যা। সদস্যদের এ ঋণ পেতে দীর্ঘ সময় অপো করতে হয়। বাজেট ঘাটতি এেেত্র উল্লেখযোগ্য কারণ। এছাড়া ঋণ গ্রহণ, ঋণের কিস্তি, সঞ্চয় জমার মেসেজ সময়মতো মোবাইল ফোনে না পাওয়াও একটি কারণ। ঋণ আবেদন করা হলে তা যাচাই-বাছাই করতে অনেক সময় লেগে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় ঋণ অনুমোদনে স্বার সঠিক সময়ে করতে পারেন না। এছাড়া সেবা প্রদানে সদিচ্ছার অভাবও দেখা যায়। অন্য সমস্যাগুলো হচ্ছে অপর্যাপ্ত জনবল, ইউনিয়ন পর্যায়ে অফিসের অভাব, অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা না থাকা, ঋণের অতিরিক্ত চাহিদা না মেটাতে পারলে সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য, ঋণখেলাপিদের খারাপ ব্যবহার, কিছু সদস্যের সমিতি ভেঙে চলে যাওয়ার মনোভাব, অনুন্নত প্রশিণ, প্রকল্পের লেনদেনে সরকারি ব্যাংকের ধীরগতি ইত্যাদি।
প্রকল্পটি গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তৃণমূলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সংগঠিতকরণ, তাদের সঞ্চয়ে উৎসাহ দেয়া, সদস্য সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ বোনাস দেয়া, সদস্যদের প্রশিণ, অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনায় পুঁজি গঠনে সহায়তা এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করাসহ বহুমুখী কর্মকা- পরিচালনা।
প্রথম পর্যায়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ধরা হলেও পরে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। প্রকল্পের শুরু থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ২১৬ কোটি ৪৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় সরকার ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
একটি বাড়ি একটি খামার থিমটিকে বাংলাদেশের প্রোপটে ৪টি মডেলে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথমটি ভূমিহীন এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য, দ্বিতীয়টি ুদ্র বা ছোট কৃষকদের জন্য, তৃতীয়টি মাঝারি কৃষকদের জন্য এবং চতুর্থটি বড় কৃষকদের জন্য। এভাবে ক্যাটাগরি করে পরিকল্পনা মডেল তৈরি করায় সুষ্ঠু বাস্তবায়নের সুবিধা হচ্ছে এবং সফলতাও বেশি আসছে। মোট কথা ক্যাটাগরিক্যালি কৃষক নিজেদের অবস্থা, পরিসর, সম্পদ, পুঁজি, মতা, সুযোগ এবং বাস্তবায়নের কারিশমা দিয়ে এই প্রকল্পকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে। এেেত্র উদহারণ দিয়ে বলা যায় প্রান্তিক ুদ্র কৃষক যেখানে ঘরের চালে লাউ-কুমড়ার চাষ করছে সেখানে বড় কৃষক তেপান্তরের কাছে মাঠজুড়ে লাউ-কুমড়ার আবাদ করছে। আবার ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষক যখন আঙিনায় কলমি পুঁইশাকের আবাদ করছে সেেেত্র মাঝারি বা বড় কৃষক অবারিত পরিসরে দেশি-বিদেশি ফসলের মিশ্র চাষ করছে। অর্থাৎ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রতিটি মডেলে যৌক্তিক পরিকল্পনা করে স্বপ্নিল ভুবন সাজানো হচ্ছে এবং অবশ্যই পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা শতভাগ নিশ্চিত করে অনুসরণীয় মডেলে রূপান্তর করা হচ্ছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পকে; যা দারিদ্র্য বিমোচনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে বাংলাদেশের সামনে।

Tags:

Category: প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

About admin: View author profile.

Comments are closed.