প্রতিবেদন

বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা : সুস্থ থাকার উপায় নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক : শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমানতালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আগে উচ্চবিত্তের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও এখন মধ্য ও নিম্নবিত্তের মধ্যেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কয়েক বছর আগেও শুধু বয়স্ক ও মধ্যবয়সী মানুষকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে দেখা যেত। এখন শিশুরাও এই নীরব ঘাতকের শিকার। মূলত মায়ের পেটে থাকা অবস্থায়ই এসব শিশু মায়ের সঙ্গে একত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। তারপর সারা জীবন শরীরে বয়ে বেড়ায় ডায়াবেটিস। এই শিশুই একদিন মা বা বাবা হয়। ওই মা-বাবার সন্তানও জন্মগতভাবেই আক্রান্ত হয় ডায়াবেটিসে। এভাবেই ডায়াবেটিসের বৃত্তে ঘুরছে দেশের বেশিরভাগ পরিবার।
বাংলাদেশে কত সংখ্যক মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। তবে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) জানিয়েছে, বাংলাদেশে ৭১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাডাস থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে স্বল্প পরিসরে কয়েকটি জরিপ করে দেখা গেছে শহরাঞ্চলে ১০ ও গ্রামাঞ্চলে ৮ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কিন্তু বর্তমানে বাডাস ও এর অধিভুক্ত সমিতিতে নিবন্ধিত ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ১৫ শতাংশ ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি সমিতিতে নিবন্ধিত হচ্ছে। এ চিত্র বিশ্লেষণ করে বলা যায় দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
এ অবস্থায় ১৪ নভেম্বর পালিত হয়েছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘সকল গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত’। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘নারী ও ডায়াবেটিস : স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ আমাদের অধিকার’। এই প্রতিপাদ্য থেকে স্পষ্ট যে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ছে। এসব নারীকে সেবা দিতে বাডাস ‘গর্ভধারণ-পূর্ব সেবা প্রকল্প’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর আজিমপুর, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে ২০১১-১২ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ওপর দুটি পৃথক জরিপ পরিচালনা করে। এতে দেখা যায়, প্রথমবার অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মধ্যে ১৯ শতাংশ এবং সব অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মধ্যে ২২ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এসব মায়ের মধ্যে ১৫ শতাংশ এক বছরের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ৩২ শতাংশ প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থায় রয়েছেন।
বাডাসের পরামর্শক ডা. বিশ্বজিৎ ভৌমিক এ প্রকল্পের সমন্বয়ক। তিনি স্বদেশ খবরকে জানান, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্ধেকের বেশি নারী পরে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। এমনকি অপরিকল্পিত গর্ভধারণের কারণে শিশু অপুষ্টির শিকার হলে এবং ওই শিশু পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর অতিরিক্ত ওজন হলে তার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক গুণ বেশি থাকে।
দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী অপরিকল্পিত গর্ভধারণ করেন- স্বদেশ খবরকে এমন তথ্য জানিয়ে ডা. ভৌমিক আরও বলেন, গর্ভধারণের ৮ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর গঠন-প্রকৃতি নির্ধারণ হয়। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা মা ১২ সপ্তাহ বা তারও পরে পরীা-নিরীার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ওই সময় সাধারণত কিছু করার থাকে না। গর্ভধারণের আগে এসব পরীা-নিরীা করে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে মা ও শিশু উভয়েই সুরতি থাকবে। তবে এ পরিস্থিতিতেও বাডাসের বাইরে দেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসার খুব বেশি প্রসার ঘটেনি। এ ব্যাপারে সরকারেরও সঠিক মনোযোগ নেই।
গ্রামাঞ্চলে ডায়াবেটিস ছড়িয়ে পড়ার কারণ সম্পর্কে বারডেম জানায়, গ্রামাঞ্চল দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রামের মানুষ হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম কম করছে। খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে তারা মুটিয়ে যাচ্ছে, শরীরে চর্বি জমছে। মানুষ অধিক পরিমাণে ধূমপানে জড়িয়ে পড়ছে। এতে করে গ্রামেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
গ্রামের মানুষের মধ্যেও যে ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা বাড়ছে, তা ‘চন্দ্রা রুরাল স্টাডি’ নামে ডায়াবেটিক সমিতি ও নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ সমীায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। ১৯৯৯ সালে এ সমীার কাজ শুরু হয়। এ সমীায় গাজীপুর জেলার চন্দ্রা এলাকার ২০টি গ্রামে ১৯৯৯ সালে ৪ হাজার ৭৫৭ জন, ২০০৪ সালে ৩ হাজার ৯৮১ এবং ২০০৯ সালে ৩ হাজার মানুষের ওপর বৈজ্ঞানিক সমীা চালানো হয়। ওই সমীায় দেখা গেছে তিনটি পৃথক বছরে (১৯৯৯, ২০০৪ ও ২০০৯) ওই এলাকায় পর্যায়ক্রমে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ শতাংশ, ৬ দশমিক ৮ ও ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
আশার কথা হলো শহরের মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। তবে গ্রামের মানুষ এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাদের সচেতন করে তুলতে একটি জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য সরকার, সুশীলসমাজ, গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এখনই এ নীরব ঘাতক প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণের হারও হ্রাস পাচ্ছে। ২০০৭ সালে ডিআইএবি ও কেয়ার এশিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র ২১ দশমিক ৮ শতাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সম। ওই গবেষণায় আক্রান্তদের শিাগত যোগ্যতা, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, ডায়াবেটিসের মেয়াদকাল, ডায়াবেটিসের সঙ্গে অন্য রোগের উপস্থিতি, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের প্রবণতা, আক্রান্তের মানসিকতা ও ডায়াবেটিস সংক্রান্ত শিা গ্রহণে অনীহাকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বারডেমের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ে এখনও অনেক মানুষ সচেতন নন। বিশেষ করে গ্রামে বসবাসকারী অনেক মানুষ আছেন, যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পরও বুঝতে পারেন না। বড় ধরনের কোনো জটিলতা তৈরি হলেই শুধু ডায়াবেটিসে আক্রান্তের কথা জানতে পারেন। অনেকে বছরের পর বছর ডায়াবেটিস নিয়ে জীবনযাপন করছেন। সচেতনতার অভাবে একপর্যায়ে এসব মানুষ হৃদরোগ, কিডনি, লিভারের বড় সমস্যা, অন্ধত্বের শিকার পর্যন্ত হচ্ছে। তাদের মতে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা যেমন কমবে, একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের মাত্রাও অনেক বাড়বে।
বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস : দ্রুত নগরায়ণের ফলে পরিবর্তিত জীবনযাপনের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। আইডিএফের ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪৩ কোটি। ১৯৮৫ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ কোটি। গত আড়াই দশকে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৩ গুণ বেড়েছে। সংস্থাটি দুই বছর পরপর আক্রান্ত মানুষের তথ্য প্রকাশ করে। তাদের ধারণা, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪ কোটিতে উন্নীত হবে। এদিকে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান দশম স্থানে। বৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে পৌঁছাবে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ডায়াবেটিসের কারণে প্রতি বছর ৫ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ডায়াবেটিসের কারণে অর্থনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়াবেটিসের ওষুধ, ইনসুলিন সবকিছুরই দাম দিন দিন বাড়ছে। এক হিসাবে দেখা গেছে কেবল ডায়াবেটিসের হার কমাতে পারলে স্বাস্থ্য খাতেই ১১ শতাংশ ব্যয় কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৬ সালে প্রকাশিত হেলথ বুলেটিনে ডায়াবেটিসের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়েছে, গত এক বছরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিংবা প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থায় রয়েছেন। ডায়াবেটিসজনিত কারণে মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ বলে ওই বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির আওতায় বারডেম, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন), হেলথকেয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এইচসিডিপি) ও অধিভুক্ত সমিতিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ নিবন্ধিত ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে ২০১১-১২ অর্থবছরে ২১ লাখ ১০ হাজার ১৪৬ জন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ১১১, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২৬ লাখ ১২ হাজার ১০২, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৭১০ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ১০ হাজার ৯০৬ জন ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। চলতি অর্থবছরের নিবন্ধনের সংখ্যা এখনও হিসাব করা হয়নি। তবে সমিতির সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছাবে।
বারডেম এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, আরও প্রায় সমপরিমাণ বা তারও বেশি মানুষ এখনও সেবার আওতায় আসেনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চল ও সচেতন নন এমন অসংখ্য মানুষ জানেন না যে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কি না। চিকিৎসার বাইরে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তির দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যদতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। ডায়াবেটিসের কারণে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি বিকল, অন্ধত্ববরণ ও পায়ে পচন ধরতে পারে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে প্রায় ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করে বারডেম। একই সঙ্গে বৈশ্বিক এ স্বাস্থ্য সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করতে ব্যাপকভিত্তিক জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে মনে করে বারডেম।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। মানবদেহে ইনসুলিন নামের হরমোনের ঘাটতি হলে কিংবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে শরীরে ব্যবহৃত না হলে অথবা শরীরের ইনসুলিন নিষ্ক্রিয় থাকলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এ গ্লুকোজ পরে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থার নামই ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস দুই প্রকার। টাইপ-১ বা ইনসুলিননির্ভর ডায়াবেটিস এবং টাইপ-২ বা ইনসুলিন অনির্ভর ডায়াবেটিস। জন্মগত কিংবা পরিবেশগত কিছু কারণে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দেয়। বছরে প্রায় ৩ শতাংশ হারে এ ডায়াবেটিস বাড়ছে এবং ৩০ বছরের কম বয়সীরা এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ইনসুলিন নিয়েই এসব রোগীকে বেঁচে থাকতে হয়। অতিরিক্ত ওজন, মেদবাহুল্য, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, উচ্চ শর্করা ও কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, জন্মের সময় ওজন কম থাকা এবং প্রবীণদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস দেখা যায়। ডায়াবেটিস রোগীরা হৃদযন্ত্র ও রক্তনালি, কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র, অন্ধত্বসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায় : ডায়াবেটিস সম্পর্কে অনেকেরই একটা ধারণা যে, এটি বয়স্কদের রোগ। এমন ধারণা যদি আপনারও থেকে থাকে তাহলে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। এটা ঠিক যে, ডায়াবেটিস বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কিন্তু কম বয়সীদেরও যে এ রোগ হয় না তা নয়। আর তাই সবারই উচিত এ রোগটির ব্যাপারে সতর্ক থাকা। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ শুরুর আগে ডায়াবেটিস কী, সে সম্পর্কে জেনে নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। একবার এ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা এসে গেলে প্রতিরোধের বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে।
সাধারণত প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার একজন খেয়ে থাকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কাজের শুরুতে খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে। প্রতিদিন এক কাপ পরিমাণ ফল খাওয়া ব্যক্তিকে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে। অথবা খাবারের শুরুতে এক গ্লাস পানি পান করতে হবে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে ুধার পরিমাণ কম হবে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। যদি আপনার ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকে তাহলে বিভিন্নভাবে আপনি উপকৃত হচ্ছেন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার ওজন ঠিক রাখতে সহায়তা করে, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিটের ব্যায়াম বা হাঁটা রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিয়মিত সকালের নাশতা করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমাতে সকালের নাশতার গুরুত্ব অপরিসীম। সকালের খাবার শুধু যে ুধা নিবারণ করে তা নয়, সারা দিনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণে সহায়তা করে। এতে অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। মাংস জাতীয় খাবার প্রতিদিন খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এটা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে খাবারের তালিকায় মাংস কমিয়ে সবজির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। এতে একদিকে যেমন আপনার শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণ হবে তেমনি ডায়াবেটিস থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ডায়াবেটিসের বেশিরভাগই লণই নীরব ঘাতক। সে কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীা করানো উচিত। স্বাস্থ্য পরীায় আগেভাগে লণ ধরা পড়লে তা মারাত্মক আকার ধারণ করার আগেই চিকিৎসা করে ব্যবস্থা নেয়া যায়।