প্রতিবেদন

বিচারকদের চাকরির বিধিমালা সংক্রান্ত মতবিরোধ দূর

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার অসঙ্গতি নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে মতবিরোধ ছিল তার অবসান হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে আগামী ৩ ডিসেম্বরের আগেই শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ৩ ডিসেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য আছে।
গত ১৬ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান আইনমন্ত্রী। সুপ্রিমকোর্টের জাজেস কমপ্লেক্সে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব মিঞার বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইনমন্ত্রী ছাড়াও আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য ছিল। আমি খুব আনন্দের সাথে বলছি, যেসব মতপার্থক্য ছিল সেসব দূর হয়েছে। শৃঙ্খলাবিধির ব্যাপারে আমরা ঐকমত্যে এসেছি।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ বৈঠকে আমরা ঐকমত্যে এসেছি বিধিমালার খসড়া মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি এটার গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত দেবেন। এেেত্র রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পরপরই এই গেজেট প্রকাশ করা হবে। আশা করছি, রাষ্ট্রপতি যদি ৩ ডিসেম্বর যে তারিখ আছে তার আগেই অনুমোদন দেন তাহলে তার আগেই গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’
নিম্ন আদালতের কর্তৃত্ব রাষ্ট্রপতি না সুপ্রিমকোর্টের কাছে থাকছে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের বিষয়। গেজেটের বিষয়টি অনুমোদন হওয়ার আগে কিছু বললে রাষ্ট্রপতির প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানো হবে।
বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওই বিধিমালার খসড়া সুপ্রিমকোর্টে জমা দিলেও পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সিনহা গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ােভ প্রকাশ করেন। মতপার্থক্য নিরসনে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ডেকেছিলেন তিনি। আইনমন্ত্রী সে সময় সুপ্রিমকোর্টে না যাওয়ায় গত ২০ আগস্ট ােভ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি সিনহা।
এরই মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে মতাসীনদের সমালোচনার মুখে ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর সম্প্রতি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সিনহা। বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর বিচারকদের চাকরিবিধির এ বিষয়টি গত ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগে উঠলে সে সময় ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। ৫ নভেম্বর বিষয়টি আদালতে এলে অ্যাটর্নি জেনারেল আবারও সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারকের বেঞ্চ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন।
বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট জারি করতে সরকারকে ২২ বারের মতো সময় দেয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যেও গেজেট জারি করতে পারেনি সরকার।