সবার জন্য আবাসন নিশ্চিতে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

| November 25, 2017


বিশেষ প্রতিবেদক : ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য সুপরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও পরিকলল্পিত বাসযোগ্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম ল্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন ‘সকলের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে; বাংলাদেশে কেউ আর গৃহহীন থাকবে না’। শেখ হাসিনা সরকারের এ ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান দেশের আপামর জনগণের সুপরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার কী কী নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আবাসন বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কীÑ এ বিষয়ে সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর-এর বিশেষ প্রতিবেদক মেজবাহউদ্দিন সাকিলের সাথে আলাপকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা বা এসডিজির যে ১৭টি ল্য রয়েছে তার ১১তমটি হলো আবাসন সংক্রান্ত। এসডিজির এই লক্ষ্যটিতে বলা হয়েছে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, অভিঘাত, সহনশীল এবং টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলা। অন্যান্য লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি এসডিজির আবাসন সংক্রান্ত ল্য পূরণে বাংলাদেশ সরকার তার সকল উন্নয়ন পরিকল্পনায় গৃহায়ন ও আবাসন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইতোমধ্যে জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। নগরীতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বহুতল বিশিষ্ট ফ্যাট, বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসিক ফ্যাট এবং গ্রামাঞ্চলে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার বিগত সাড়ে ৮ বছরে সকল নাগরিকের জন্য আবাসন সহজলভ্য করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন কর্তৃপ পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান নির্ধারণ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে নাগরিক সুবিধা সংবলিত পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণের ল্েয কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য পরিকল্পিত আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সুপরিকল্পিত গৃহায়ন ও নগরায়ণের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ল্েয আবাসন খাতে সরকারের গৃহীত পদপেসমূহের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করে চলেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।
স্বল্প, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী, শহরের বস্তিবাসী ও দুস্থ জনগণকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের টার্গেট পিপল উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসৃত নীতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করে চলেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, জাগৃকের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো স্বল্প ব্যয় ও আত্মসহায়তামূলক নগর ও গ্রামীণ গৃহায়ন প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন; দুর্দশাগ্রস্ত মহিলা, অসহায় ও দুস্থ নাগরিকদের জন্য গৃহায়ন কার্যক্রম গ্রহণ; সরকার কর্তৃক কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্তকৃত বা কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওই জমিতে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্যাট এবং ইমারত নির্মাণ এবং গৃহায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্টকরণ।
২০০১ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ-জাগৃক সৃষ্টি হয়। ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অর্জিত সাফল্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে সেবাধর্মী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান স্বদেশ খবরকে বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তার নিজস্ব অর্থায়নে গত ১৬ বছরে ১৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ২ থেকে ৫ কাঠা আয়তনের ৪ হাজার ৪৬৫টি আবাসিক প্লট সৃজন করে টার্গেট পিপলদের কাছে সরবরাহ করেছে। এর পাশাপাশি ৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ৮০০ থেকে ১৫০০ বর্গফুটের ২ হাজার ১৬৯টি ফ্যাট নির্মাণ করে স্বল্প, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী, শহরের বস্তিবাসী ও দুস্থ জনগণের মধ্যে সরবরাহ করেছে। ফ্যাট নির্মাণের ৮টি প্রকল্পের কাজও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তার নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন করেছে। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, গোপালগঞ্জ, যশোর, বগুড়া, মৌলভীবাজার, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের রাউজান ও মাদারীপুরের শিবচরে মোট ২৬টি প্লট ও ফ্যাট প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৪৬৫টি প্লট ও ২ হাজার ১৬৯টি ফ্যাট তার উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
নিজস্ব অর্থায়নে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চলমান প্রকল্পসমূহের কথা বলতে গিয়ে জাগৃকের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, বর্তমানে স্ব-অর্থায়নে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চলমান মোট প্রকল্পের সংখ্যা ৩৪টি। এর মধ্যে প্লট প্রকল্প ১৭টি এবং ফ্যাট প্রকল্প ১৭টি। ১৭টি প্লট প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৭৮০টি প্লট সৃজন এবং ১৭টি ফ্যাট প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৫৯২টি ফ্যাট নির্মাণ করে টার্গেট গ্রুপের হাতে তুলে দেয়া হবে। ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে ২৬টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে ১৭টি জেলায় এবং বাকি ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে ৭টি উপজেলায়।
নিজস্ব অর্থায়নে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আরো ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানান চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান। তিনি জানান, এই ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে প্লট প্রকল্প ১১টি এবং ফ্যাট প্রকল্প ৮টি।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিশেষায়িত প্রকল্পসমূহের কথা বলতে গিয়ে জাগৃকের চেয়ারম্যান জানান, লো ইনকাম কমিউনিটি হাউজিং সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলআইসিএইচএসপি)-এর আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নগর বস্তিবাসীদের জন্য ৫ হাজার ৭০০টি বাড়ি উন্নয়ন করার লক্ষ্যে ২৫৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়সংবলিত ডিপিপি ২০১৬ সালের ১০ মে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। ইনডিভিজ্যুয়াল কনসালট্যান্ট নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। কনসালটিং ফার্ম নিয়োগের জন্য বিশ্বব্যাংকের এনওসি চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ভূমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান আছে। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এলআইসিএইচএসপি প্রকল্পের পাশাপাশি জিওবি রিভলবিং ফান্ডের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্যাট নির্মাণের একটি বিশেষায়িত প্রকল্প গ্রহণ করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজধানী ঢাকায় ১০টি এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় ১টি করে মোট ১২টি ভবনে (প্রতিটি ভবন ১৪ তলাবিশিষ্ট) ১ হাজার ২৪৮টি ফ্যাট নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি ডিপিপি অনুমোদনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। ফ্যাট বরাদ্দ ও ঘূর্ণায়মান তহবিল (৬০০ কোটি টাকা) ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের নির্মিতব্য ফ্যাটের সাইজ হবে ১৫৪৫ বর্গফুট, ১৩৩৮ বর্গফুট ও ৮৭৮ বর্গফুট আয়তনের। এসবের পাশাপাশি ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় মিরপুর ১১নং সেকশনে এইচবিআরআই ইনোভেটিভ টেকনোলজি ব্যবহার করে পাইলট বেসিস-এ ৬ তলাবিশিষ্ট ১৮টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এইচবিআরআই বরাবর মঞ্জুরিপত্র জারি এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ বা পিপিপির আওতায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সেগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে জাগৃকের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান জানান, মিরপুর ইনটিগ্রেটেড টাউনশিপ ডেভেলপমেন্ট (এমআইটিডি) প্রকল্পের অধীনে ৫ একর ভূমিতে একটি স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ করা হবে। ওই স্যাটেলাইট শহরটি হবে ১৪ লাখ বর্গফুট আয়তনের। এর মধ্যে ১২ লাখ বর্গফুটে বিভিন্ন আয়তনের ১ হাজারটি ফ্যাট নির্মাণ করা হবে। বাকি ২ লাখ বর্গফুটে বাণিজ্যিক (ব্যাংক-বীমা, বাজার) এবং সামাজিক (স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টার) স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের প্রাইভেট পার্টনার নির্ধারণ চূড়ান্ত হয়েছে; শিগগিরই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
পিপিপি পদ্ধতিতে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ জিইসি মোড়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সাড়ে ৮ একর জমিতে বহুতল বাণিজ্যিক, আবাসিক ও অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজর মাঠ পর্যায়ে ডিটেইলড ফ্যাসিবিলিটি স্টাডি (ডিএফএস) সম্পন্ন করেছে। এখানে নির্মিত অফিস ভবন হবে ১০ তলাবিশিষ্ট, আবাসিক ভবনগুলো হবে ৫ ও ১০ তলাবিশিষ্ট। এখানে ৬ তলাবিশিষ্ট একটি মসজিদও নির্মিত হবে। তাছাড়া পিপিপির আওতায় মিরপুর ১১নং সেকশনে ৮৫ একর জমিতে ১০৭টি ১৪ তলাবিশিষ্ট ভবনে ৯ হাজার ৩৩৮টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের বিষয়ে জাগৃকের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, আনসলিসিটেড (অপ্রার্থিত) প্রস্তাবটি সিসিইএ অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রকল্পের আওতায় স্কুল-কলেজ, মসজিদ কমিউনিটি হল, হেলথ সেন্টার, মার্কেট খেলার মাঠ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত আছে। কোরিয়ান প্রাইভেট ডেভেলপারের পক্ষ থেকে আনসলিসিটেড প্রস্তাবটি পাওয়া গেছে; যা পিপিপি অথরিটিতে প্রক্রিয়াধীন আছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সেগুলো টার্গেট পিপলদের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জাগৃকের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, প্লট প্রকল্পের ক্ষেত্রে ২ বছরে ৪টি কিস্তির মাধ্যমে উপকারভোগীর কাছ থেকে প্লটের মূল্যবাবদ অর্থ নেয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে প্লটের মোট মূল্যের ৪০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়। বাকি ৬০ শতাংশ ৩ কিস্তিতে সমান ভাগ করে ৬ মাস পরপর প্রদান করতে হয়। আর ফ্যাট প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রথম ৪ বছরে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ফ্যাটের মোট মূল্যের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক পরিশোধ করতে হয়। বাকি ৫০ শতাংশ পরবর্তী ১৬ বছরে ৯ শতাংশ সুদে মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান এক কথায় জানান, নিজস্ব অর্থায়নে এ পর্যন্ত জাগৃকের নির্মিত ফ্যাটের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫০টি ও প্লটের সংখ্যা ৩ হাজার ৩২৮টি। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন ফ্যাটের সংখ্যা ৪ হাজার ৫১১টি ও প্লটের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৯৪টি। নিজস্ব অর্থায়নে পরিকল্পনাধীন ফ্যাটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৯৬টি ও প্লটের সংখ্যা ১ হাজার ৫০২টি। জিওবি অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ফ্যাটের সংখ্যা ১ হাজার ২৪৮টি। পিপিপি পদ্ধতিতে প্রস্তাবিত ফ্যাটের সংখ্যা ১০ হাজারটি।
স্বদেশ খবর-এর এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ সরকার গৃহায়নকে মানব বসতি, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ১৯৭৬ সালে কানাডার ভ্যাংকুভারে অনুষ্ঠিত প্রথম মানব বসতি মহাসম্মেলন ও ১৯৯৬ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় মানব বসতি মহাসম্মেলনের সুপারিশমালা ও দিকনির্দেশনার প্রেক্ষাপটে এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সাল থেকে জাতিসংঘ প্রবর্তিত বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারসমূহের সুপারিশমালার ভিত্তিতে জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মাথাপিছু জমির ক্রমহ্রাস, পরিবেশ অবক্ষয় এবং আন্তর্জাতিক বিরাজমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সংশোধিত ‘জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা-১৯৯৩’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন ও সমন্বয় সাধনপূর্বক একে আরো বেশি কার্যকর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই ‘জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা-২০১৬’ অনুমোদন করে।
জাগৃক চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান জানান, জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালায় দেশের সার্বিক গৃহায়ন সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। গৃহহীন পরিবারের সংখ্যাধিক্য, মালিকানাধীন ও জবরদখলকৃত অননুমোদিত বস্তির সংখ্যা বৃদ্ধি, জমি ও গৃহ নির্মাণসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়ার হার বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসম্মত নাগরিক সুবিধার অপর্যাপ্ততা এবং মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়সীমার মধ্যে আবাসনের দুষ্প্রাপ্যতা গৃহায়ন ও আবাসন সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশ সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০), হাউজিং ফাইন্যান্সের প্রাপ্যতা ও সীমাবদ্ধতা গুরুত্বের সাথে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্ব বসতি দিবস ২০১৭-এর প্রতিপাদ্য ‘গৃহায়ন নীতিমালা : সাধ্যের আবাস’ অনুযায়ী সাধ্যের আবাস-এর প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের হাউজিং ফাইন্যান্স মার্কেটে প্রবেশাধিকারকে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জমির স্বল্পতা, অত্যধিক নির্মাণ খরচ, বৃহৎ আকারের গৃহ নির্মাণসাশ্রয়ী আবাসনের জন্য বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান জানান, সরকারের প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় (২০১০-২০২১) প্রত্যাশা করা হয় যে, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল জনগণের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মৌলিক পরিষেবা প্রদানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে এ প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়।
জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ২০১৬-এর লক্ষ্য হলো সর্বস্তরের মানুষের জন্য উপযুক্ত গৃহায়ন ব্যবস্থা সহজলভ্য করা ও বসতিসমূহের উন্নতি সাধন করা, যাতে টেকসই উন্নয়ন ও সমতার ভিত্তিতে আবাসন ও কর্মস্থলের পরিবেশ উন্নত হয় এবং সকলেই স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও সাশ্রয়ীমূল্যে ন্যূনতম সেবা ও সুযোগসমূহ পায় এবং সকলের সমান অধিকার সংরক্ষিত হয়।
জাগৃক চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর প্রতি লক্ষ্য রেখে যথাযথ গৃহায়নের জন্য সরকারের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভূমি ব্যবহার নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নগর এলাকার সন্নিকটে গ্রামীণ ভূমিকে চিহ্নিত করে আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অন্যতম কাজ। এর পাশাপাশি জমির মূল্য, গৃহনির্মাণ ব্যয়, বাড়ি ভাড়া ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা করাও প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কাজ। বিভিন্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভূমি ব্যবহার নীতিমালার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী পদ্ধতির মাধ্যমে ভৌত অবকাঠামো ও নাগরিক সেবাসংবলিত জমির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করাও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বেসরকারি উদ্যোক্তাগণকে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের লোকদের গৃহায়নের জন্য ভূমি উন্নয়ন, পরিবেশগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাড়ি নির্মাণে উৎসাহিত করে থাকে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কিস্তিতে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। গৃহায়ন কার্যক্রমে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার পরিধি প্রসারিত করা এবং গৃহায়নে অর্থায়ন পদ্ধতিসমূহ সহজীকরণের কাজ ও পিপিপি পদ্ধতিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কাজও করে থাকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।
জাগৃক চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসৃত নীতি অনুযায়ী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর গৃহায়নের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য দায়বদ্ধ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে জাগৃক সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গৃহায়ন চাহিদা ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। আবাসন উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক অবস্থার পাশাপাশি বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলিয়ে টেকসই আবাসন উন্নয়নে জাগৃক নতুন নতুন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এ সকল কার্যক্রম গ্রহণে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে জাগৃক চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, বাড়তি জনসংখ্যার চাপ তথা চাহিদা মেটাতে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। আর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জাগৃক চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি লোক এখন শহরে বাস করে, আর এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ৩৫ বছরে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে। তাই এ বাড়তি মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদা মেটাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সুষম উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা জরুরি এবং উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুবা বড় বড় অনেক শহর বসবাসের যোগ্যতা হারাবে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
খন্দকার আখতারুজ্জামান আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্প আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়ার জোর কার্যক্রম চালাচ্ছে। উন্নয়নের এ প্রেক্ষাপট ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘সকলের জন্য আবাসন/কেউ গৃহহীন থাকবে না’Ñ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সাশ্রয়ী মূল্যের টেকসই আবাসন নির্মাণে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আবাসন নির্মাণে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং শহরগুলোকে আরো টেকসই করবে।
স্বল্প, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী, শহরের বস্তিবাসী ও দুস্থ জনগণের আবাসন নির্মাণ করতে গিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন কি নাÑ এমন এক প্রশ্নের জবাবে জাগৃক চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সাল নাগাদ সবার জন্য আবাসন নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। কেউ গৃহহীন থাকবে নাÑ এটাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। সে জন্য তিনি সর্বদাই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের দিকে সুদৃষ্টি রাখেন, সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সদিচ্ছার পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধান, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলায় আবাসন প্রকল্প স্থাপনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় না। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সহযোগিতার কারণে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জ সবসময়ই থেকে যায়। সেটি হলো প্রকৃতই স্বল্প, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী, শহরের বস্তিবাসী ও দুস্থ জনগণ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত আবাসন প্লট ও ফ্যাট পায় কি না তা নিশ্চিত করা। তবে এক্ষেত্রে সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি আমার মেয়াদে জাগৃকের প্লট বা ফ্যাট প্রদানের ক্ষেত্রে টার্গেট পিপল বিবেচনায় সর্বাধিক সতর্কতা বজায় রাখা হয়। প্রকৃত স্বল্প, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী যাতে প্লট বা ফ্যাট পায়Ñ সে বিষয়টি মনিটরিং করা হয় যথাযথভাবে। এসব বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সর্বাধিক নীতি-নৈতিকতা প্রদর্শন করেন। ফলে প্লট বা ফ্যাট প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে অনেকটাই সুনামের সাথে কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ-জাগৃক।

Tags:

Category: প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

About admin: View author profile.

Comments are closed.