প্রতিবেদন

সুইডেনে পড়াশুনা সম্পর্কে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

স্বদেশ খবর ডেস্ক : সুইডেন উত্তর ইউরোপের আধুনিক একটি দেশ। শান্ত পরিবেশ, বিশ্বস্বীকৃত গবেষণা কর্ম, আধুনিক শিা ব্যবস্থা, প্রচুর স্কলারশিপ, গ্র“প ওয়ার্ক, স্বাধীন চিন্তার সুযোগÑ এসবের জন্য উচ্চশিার েেত্র সুইডেন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৮০টি দেশের শিার্থীরা পিএইচডি গবেষণারত। গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৫-২০১৬ সালে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী সুইডেনে বাংলাদেশি শিার্থীরাও নিতে পারেন বিশ্বমানের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ।
সুইডেনে যেসব বিষয়ে পড়াশুনা করবেন পরিবেশবিজ্ঞান, ভাষা শিা, কৃষি গবেষণা ও ইঞ্জিনিয়ারিংÑ এসব বিষয়ে উচ্চশিার জন্য সুইডেনকে আদর্শ বলা হয়। তবে এর পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় উল্লেখযোগ্য। বিষয়গুলো হলো এমবিএ, টেলিকমিউনিকেশন, আইন, ম্যাথমেটিক্স, জনস্বাস্থ্য, আর্টস অ্যান্ড ডিজাইন, মেডিকেল, অর্থনীতি, ভূগোল, হিউম্যান রিসোর্স, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট, ফিল্ম ও মিডিয়া, লাইফ সায়েন্স ইত্যাদি।
ভাষা ও শিা ব্যবস্থা : সুইডেনের অফিসিয়াল ভাষা সুইডিশ হলেও প্রায় ৮৯ শতাংশ মানুষ ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারে। তাই সেখানে ইংরেজিকে সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ বলা হয়। এখানে সুইডিশ ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই পড়াশুনা করা যায়। অনার্স পর্যায়ে সুইডিশ ভাষা জানলে ভালো। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের শিার্থীদের সুবিধা হলো প্রায় ছয় শ’র বেশি বিষয় ইংরেজি ভাষায় পড়া যায়। সুইডেনে অনার্স কোর্স ৪ বছরের, মাস্টার্স বিষয়ভেদে ১ থেকে ২ বছর আবার কোনো কোনো বিষয়ে ৩ বছরও লেগে যায়। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন মেয়াদি ডিগ্রি প্রোগ্রাম, ডিপ্লোমা, পিএইচডি, পোস্ট-ডক্টরাল ও কিছু প্রশিণ প্রোগ্রাম।
ভাষা যোগ্যতা : সুইডেনে ভর্তির শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে বিভিন্নভাবে শিার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা হয়। কোনো শিা প্রতিষ্ঠান একাডেমিক ফলাফল দেখে আবার কখনো বা ভাষাগত যোগ্যতা দেখে। সুতরাং ভাষা ও বিগত পরীাগুলোর ফলাফল উভয়ই ভালো হওয়া দরকার। সুইডিশ ভাষার জন্য আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (কলাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে কোর্স করতে পারেন। অপরদিকে ইংরেজি ভাষার দতাস্বরূপ ঞঙঊঋখ বা ওঊখঞঝ-এর প্রাপ্ত নাম্বার দেখা হয়। ঞঙঊঋখ পরীার মোট ১২০ নাম্বারে ন্যূনতম ৮৫ নাম্বার এবং ওঊখঞঝ পরীার ৯.০ পয়েন্টের মধ্যে ন্যূনতম ৬.৫ পেতে হবে।
আবেদনের সময় : সুইডেনে বছরে দুটি সেমিস্টার। একটির মেয়াদ আগস্টের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। অপরটি মধ্য জানুয়ারি থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত। বিদেশে ভর্তির েেত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা নিয়ে প্রায় ৬ মাস এমনকি এক বছরও সময় লেগে যায়। তাই যে সেমিস্টারে ভর্তি হতে আগ্রহী সেই সময়ের দিকে খেয়াল রেখে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
পড়াশুনা ও থাকার খরচ : শুরুতেই অনলাইনে আবেদনপত্রের জন্য প্রায় ৯০০ ঝঊক (১০ হাজার ৫৫৭ টাকা) ব্যয় করতে হয়। তাছাড়া বিষয়ভেদে অনার্স, মাস্টার্সে বছরে ন্যূনতম ৮০ হাজার ঝঊক থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার ঝঊক (৯ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকা)-এর মধ্যে খরচ পড়ে। এছাড়া থাকা, খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ বছরে প্রায় ৭ হাজার ৩৯৯ ঝঊক (৮৫ হাজার ৬২৯ টাকা) খরচ হয়।
পার্টটাইম জব : যদিও অধিকাংশ শিার্থী যারা উচ্চশিার জন্য বিদেশে যান তারা শুরুতেই পার্ট টাইম জবের খোঁজ করতে থাকেন। তবে পড়াশুনার তি করে পার্ট টাইম জব করা ঠিক নয়। তাছাড়া সুইডেন সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বছরে প্রায় পাঁচ শ’র বেশি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে, যেগুলোর অনেকেই পড়াশুনাসহ থাকার খরচও বহন করে। তাই সুইডেনে পার্টটাইম জবের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তবে ইচ্ছুক শিার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার পার্টটাইম জব করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের জবের মধ্যে রয়েছেÑ
১. বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে কাজ করা। এতে মাসে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার ঝঊক (৮২ হাজার ১১০ টাকা থেকে ৯৩ হাজার ৮৪০ টাকা) আয় হয়।
২. সপ্তাহের কয়েকদিন, খোলা বাজারে কাপড় বিক্রি করলে মাসে ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার ঝঊক (৮২ হাজার ১১০ টাকা থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৭০ টাকা) আয় হয়।
স্কলারশিপ : সুইডেনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রচুর স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ
১. ঞযব ঝবিফরংয ওহংঃরঃঁঃব ঝঃঁফু ঝপযড়ষধৎংযরঢ় : এই স্কলারশিপ মূলত অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেয়া হয়। এটি প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ খরচ বহন করে। এর কার্যক্রম মার্চ মাস থেকে শুরু হয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যায়।
২. ঝবিফরংয ওহংঃরঃঁঃব এঁবংঃ ঝপযড়ষধৎংযরঢ় : এটি মূলত পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল শিার্থীদের দেয়া হয়। এটি পিএইচডি শিার্থীর জন্য মাসে ১২ হাজার ঝঊক বা ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬০ টাকা এবং পোস্ট-ডক্টরালের জন্য মাসে ১৫ হাজার ঝঊক বা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫০ টাকা বহন করে।
আবহাওয়া : যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে সে দেশের আবহওয়া জেনে নেয়া ভালো। তা না হলে সেই আবহাওয়ার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলা কঠিন। পৃথিবীর উত্তর মেরুর দিকে হওয়ায় সুইডেনের আবহাওয়া মৃদু প্রকৃতির। জুলাই মাসের তাপমাত্রা প্রায় ১৩-১৭ ডিগ্রি সে. এর মধ্যে থাকে। ফেব্র“য়ারির দিকে প্রচ- শীত। তাপমাত্রা অনেক সময় মাইনাস পর্যায়ে অর্থাৎ -৩ থেকে -২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। গ্রীষ্মকালে এমনও দেখা যায় যে, দিনের ২৪ ঘণ্টার ১৯ ঘণ্টাই সূর্যের আলো থাকে। অর্থাৎ রাতের অংশ কম।
ভর্তি ও ভিসা প্রসেসিং : অনলাইনে বা ডাকযোগে জরুরি কাগজপত্র জমা দেয়ার পর স্কলারশিপ পাওয়া সত্ত্বেও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেশের ব্যাংকে জমা আছে কি না সেই ব্যাপারে একটা নিশ্চয়তাপত্র দেখাতে হয়। কেননা পড়াশুনার বাইরে যেকোনো আপদকালীন সময়ে টাকার প্রয়োজন পড়তে পারে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে সুইডিশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করুন। ভর্তি নিশ্চিত হলে ইন্টারভিউ নিয়ে হাইকমিশন থেকেই ভিসা প্রদান করা হয়।
যোগাযোগ : এমব্যাসি অব সুইডেন
হাউজ নং ১, রোড নং ৫১
গুলশান-২, ঢাকা-১২১২