কলাম

উন্মুক্ত মতামত

বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফরিয়াদ শুনুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা অবসরের সময় এককালীন শতভাগ পেনশন গ্রহণ করেছেন, এপ্রিল ২০১৭ থেকে আকস্মিকভাবে তাদের চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কোনো নির্দেশনাও নেই। এমন এক সময় এই ভাতা বন্ধ করে দেয়া হলো যখন বয়সের কারণে চিকিৎসার জন্য ঘন ঘন অর্থের প্রয়োজন পড়ে।
আমি ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখা থেকে যুগ্ম-পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করি। এরপর ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা পেয়েছি। এপ্রিল মাসে ভাতা নিতে গেলে আমাদের বলা হয়, আপনারা আর ভাতা পাবেন না। কেন পাব না, কী কারণে পাব না তার ব্যাখ্যা ব্যাংকের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা দিতে পারেননি। তারা কেবল বলছেন উপরের নির্দেশ। অথচ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা আমাদের মতো এককালীন শতভাগ পেনশন গ্রহণ করেছেন তারা যথারীতি চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। এই দ্বৈত নীতি কতটা যৌক্তিক তা কেবল নির্দেশদাতা কর্মকর্তারাই জানেন।
বর্তমান সরকার যখন প্রবীণ নাগরিক ও অবসরপ্রাপ্তদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে ঠিক তখন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত চরম অমানবিক ও বৈষম্যমূলক বলে মনে হয়। পরিশেষে, অবিলম্বে আমাদের চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
খোন্দকার আসাদুজ্জামান
৩নং এমটি ক্রস রোড, খুলনা

রবিবার নাকি রোববার!

আমরা ছোটবেলা থেকে জেনে আসছি ও পড়ে আসছি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনটি হচ্ছে রবিবার। কিন্তু ইদানীং বেশ কিছু পত্র-পত্রিকা, প্রচার ও গণমাধ্যম, পাঠ্যপুস্তকে রবিবারের স্থলে লেখা হচ্ছে ও বলা হচ্ছে রোববার। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোনটি সঠিক, রবিবার নাকি রোববার? নাকি দুটিই সঠিক! আমার জানা মতে, এটি বাংলা সাধু বা চলিত ভাষারীতির কোনো বিষয় নয়। তাহলে বানানে বা উচ্চারণে কেন দ্বৈতনীতি?
আমাদের পাশের দেশ ভারতে কিন্তু এখনো রবিবার বলা হয় বা লেখা হয়। তাহলে আমাদের দেশে কেন বানানে ভিন্ন রীতি অনুসরণ করা হয়। এমন কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি আছেন কি যিনি এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারবেন! এ বিষয়টির স্বচ্ছ ধারণা পেলে আমার মতো অনেকেই উপকৃত হবেন এবং সঠিক বিষয়টি জানতে পারবেন। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোমলমতি শিশুরা সঠিক বিষয়টি জানতে ও বুঝতে পারবে। আশা করি, বিষয়টি স্বদেশ খবর-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং এর সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে।
মো. মোশতাক মেহেদী
সহকারী শিক্ষক
হাউজিং এস্টেট, কুষ্টিয়া।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মানের উন্নয়ন চাই

বর্তমান সরকার রেলওয়ের সেবাকে জনবান্ধব করার জন্য সর্বরকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে মাওয়া, পদ্মাসেতু, ভাঙ্গা, ভাটিয়াপাড়া হয়ে যশোর পর্যন্ত নতুন লাইন স্থাপন, ভাটিয়াপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া হয়ে মংলাবন্দর পর্যন্ত নতুন লাইন স্থাপন, ঢাকা ইপিজেড থেকে মানিকগঞ্জ হয়ে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত নতুন লাইন স্থাপন, সেখান থেকে পদ্মা নদী পার হয়ে গোয়ালন্দ ঘাটের পুরনো লাইন দিয়ে ভাটিয়াপাড়া হয়ে মংলাবন্দর পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত নতুন লাইন স্থাপন। ঢাকা-চট্টগ্রাম সিঙ্গেল লাইনকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার নতুন লাইন স্থাপন। নারায়ণগঞ্জ থেকে লাকসাম পর্যন্ত নতুন লাইন, খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত নতুন লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক লাইনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এছাড়া অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব লাইন চালুসহ দেশের সব জেলাকে রেল সংযোগের আওতায় আনারও পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান চালু লাইনসমূহের সেবাকে আধুনিক ও গতিশীল করার জন্য নতুন ক্যারেজ ও লোকোমটিভ আমদানিসহ বিভিন্ন রুটে আরামদায়ক ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গত এক-দেড় বছরের মধ্যে বিভিন্ন রুটে এক ডজনেরও বেশি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। এতকিছুর পরও রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তার উদাসীনতার কারণে মানুষ কাক্সিত সেবা থেকে বঞ্চিত। উদাহরণস্বরূপ বলতে হয় ঢাকা-কলকাতা রুটের ট্রেনের টিকেটে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজারের ফোন নম্বর দেয়া থাকলেও সেটি সবসময়ই বন্ধ থাকে। কমলাপুর স্টেশনের ল্যান্ড ফোনও কেউ রিসিভ করেন না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
শেখ ফরিদ আহমেদ
পরিচালক, এলিট ফোর্স, বাড়ি ৩
সড়ক ৬/এ, ব্লক জে
বারিধারা, ঢাকা ১২১২

গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি রোধে ব্যবস্থা নিন

ঢাকায় গণপরিবহনে যাত্রীদের হয়রানি বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের হয়রানির শেষ নেই। যাত্রীবাহী বাসের হেলপার ও কন্ডাক্টর মহিলা যাত্রীদের ওঠানামায় চরমভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অধিক ভাড়া আদায় করা হলেও যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পথে পথে নতুন যাত্রী উঠিয়ে আবার একই রকম ভাড়া আদায় করা হয়। যাত্রীদের মধ্যে কেউ এর প্রতিবাদ করলেই ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং গাড়িভর্তি যাত্রী রেখে পথের মধ্যে নেমে যায়!
কর্মজীবী মহিলা যাত্রীই বেশিরভাগ কষ্ট ভোগ করছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কারো দৃষ্টি নেই। বাসে যাত্রীসেবা বলতে যাত্রীরা বাস হেলপার ও ড্রাইভারের কাছে জিম্মি! এতে কোনো তদারকি হচ্ছে না। গণপরিবহনে যাত্রীদের এ সমস্ত ভোগান্তির চিত্র গণমাধ্যম তথা টিভি চ্যানেলসমূহে যদি সরাসরি তুলে ধরা হয় এবং সরকারের তদারকি বাড়ানো যায় তবে জনগণের যাতায়াত নির্বিঘœ হবে। বিশেষ করে মহিলা যাত্রীগণ যাতে বিনা কষ্টে গণপরিবহনে চলাচল করতে পারেনÑ সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ড. মো. আনিসুর রহমান ফরাজী
অধ্য
ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ
গাজীপুর