একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে দোটানায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব : তৃণমূলের চাপে বিএনপি

| November 27, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দোটানা মনোভাব এখনও কাটেনি। নভেম্বর পেরিয়ে গেলেও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি তার দলের নেতাদেরকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আবার দলের হাইকমান্ড বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার হতে হবে। অথচ দীর্ঘদিন পরও বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন বিএনপি বলছে, নির্বাচনকালীন বিকল্প পদ্ধতির সরকারের জন্য তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সমঝোতা করতে হবে। সংলাপ-আলোচনায় বসতে হবে। দলের সিনিয়র নেতারাও বলছেন, একেক সময় একেক কথা। কেউ কেউ বলছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচনে যাবেন। আবার অনেকে বলছেন, নির্বাচনের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হলে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কাছে এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো বার্তা নেই। আর স্পষ্ট কোনো বার্তা না দেয়ায় তৃণমূলের প্রচ- চাপে আছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
প্রকৃতপে আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপি কী করতে চায়Ñ সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে দলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করছেন খালেদা জিয়া। তার এই বৈঠকের কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো নেতাকর্মীদের সারাদেশে সক্রিয় করা এবং আগামী কর্মকৌশল নির্ধারণ। ইতোমধ্যে জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ২০ দলীয় জোট ও নির্বাহী কমিটির সর্বোচ্চ পদে থাকা ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। ২২ নভেম্বর খালেদা জিয়া বৈঠক করেছেন তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে। প্রতিটি বৈঠকে করণীয় সম্পর্কে খালেদা জিয়া নেতাদের কাছে শুনছেন বেশি, বলছেন কম।
বিগত বৈঠকগুলোতে দায়িত্বশীল নেতারা খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য। নির্বাচনকালীন নিরপে সহায়ক সরকার, নির্বাচনকালে সেনা মোতায়েন, ইসির নিরপেতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না হলে নির্বাচনে যাওয়া হবে তিকর। খালেদা জিয়াকে সারাদেশ সফর করার জন্যও পরামর্শ দেন তারা। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের বিপুল জনসমাগম ও কক্সবাজার সফর এবং সোহরাওয়ার্দীর জনসভায় অসংখ্য মানুষের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে নেতারা বলেছেন, এখন দেশের বিভাগগুলোতে সফর করলে পুরোপুরি চাঙা হয়ে উঠবে দল।
জানা গেছে, খালেদা জিয়া দলীয় নেতাদেরকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিলেও শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন করবে না তারা। ইভিএম বাতিল ও নির্বাচনকালে সেনা মোতায়েন না করলেও নির্বাচন বয়কট করবে বিএনপি।
দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যান স্বদেশ খবরকে জানান, ১৬ নভেম্বর দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রুত জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। যেসব জেলায় বিরোধ আছে তা চিহ্নিত করে শিগগিরই মীমাংসা করার জন্য বলেছেন। যারা দলে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বৈঠকে চেয়ারপারসনের কয়েকটি জেলা সফর নিয়েও আলোচনা হয়। ওই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ম্যাডাম। সংগঠন শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে, এটি খুব সাধারণ বিষয়। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনই চূড়ান্ত। কিন্তু নির্বাচনকালীন নিরপে সহায়ক সরকার, সেনা মোতায়েন, ইসির নিরপেতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না হলে কিভাবে নির্বাচনে যাবে?
নেতারা জানান, খালেদা জিয়া নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে যার যার নির্বাচনি এলাকায় যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রত্যেক ভাইস চেয়ারম্যানকেই তাদের নিজ নিজ জেলায় সভা ও সমাবেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সংগঠন গোছাতে বলেছেন। তবে তিনি বলেছেন, নিরপে সরকার না হলে নির্বাচন প্রহসনের হবে। নীলনকশার নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। প্রয়োজনে আন্দোলনে যাবে।
এর আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সেখানে বর্তমান সরকারের মেয়াদের তিন মাস আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবির পে জনমত গড়ে তোলা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। সরকার দাবি না মানলে রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান জোটনেত্রী খালেদা জিয়া।
দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য স্বদেশ খবরকে বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দলের মধ্যে নানা মতের লোক আছে। কে, কী ভাবছে, সেটা আমরা জানি না। সময় হলে আমরা দলীয়ভাবেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। তখনই সবকিছু পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মতার বাইরে থাকার ফলে নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখী হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে কর্মীরা তাগাদা দিয়ে বলছেন, মাঠের অবস্থা ভালো। ইতোমধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য সব প্রার্থীই তাদের নির্বাচনি এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নজর কাড়ার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে দলের কোনো কোনো নেতা বলছেন, এখনই দল নির্বাচনমুখী হয়ে গেলে আন্দোলন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তখন সহায়ক সরকার বা সমঝোতার অবকাশ থাকবে না। সরকারের ফর্মুলা অনুযায়ী নির্বাচনে যাওয়া অথবা বয়কট করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।
বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির বেশিরভাগ নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কিছুতেই নির্বাচনে যাওয়ার পপাতী নন। তাদের মতে, শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান থাকলে ভোট সুষ্ঠু হবে না। তিনি নির্বাচন প্রভাবিত করবেন। বিএনপিকে বিরোধী দলের আসনে বসানোর কূটকৌশল করছে সরকার। কিন্তু এ ফাঁদে পা দেয়া ঠিক হবে না। বিএনপির অপর অংশটির মতে, সরকারের সাথে দরকষাকষির মাধ্যমে কিছু দাবি আদায় করার পাশাপাশি শেখ হাসিনার মতা খর্ব করা গেলেই নির্বাচনে যাওয়া যাবে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। তবে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। যত প্রতিকূল অবস্থায়ই থাকুক না কেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে।
সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনা সভায় বলেছেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সরকার আলোচনা না চাইলে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।
কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস পর ১৮ অক্টোবর খালেদা জিয়া দেশে এলেও সহায়ক সরকারের প্রস্তাবিত রূপরেখা ঘোষণা করা বা এ বিষয়ে আন্দোলন তো দূরের কথা কোনো কথাবার্তাই নেই। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে এসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে বিএনপির তরফ থেকে নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকারের বিষয় নিয়ে কথা তোলা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি সুষমা স্বরাজ। বরং তিনি ইঙ্গিতে বলে যান, তার নিজের দেশে নির্বাচনের সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা দায়িত্বে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সুষমা স্বরাজ আরো স্পষ্ট করে বলে যান, তার নিজের দেশে যে ব্যবস্থা নেই, সে ব্যবস্থায় বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা তিনি বলেন কী করে।
সুষমা স্বরাজের এমন ইঙ্গিতের পরে দলের একটি অংশ যেকোনো প্রকারের নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করার প;ে আর অন্য অংশটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিপ।ে নির্বাচনে অংশ নেয়া পরে দল ভারী হলেও অংশ না নেয়া পকেই বেশি সক্রিয় মনে হচ্ছে। মূলত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে গ্র“পটির প্ররোচনায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, সে গ্র“পটিই ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। এই গ্র“পটি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়াকে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ভুল বলে মনে করে। এই গ্র“পের দাবি হলো বিএনপি আর যেন ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে। অন্যদিকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের যে গ্র“পটি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিরোধিতা করেছিল তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। মূলত এই গ্র“পের ইন্ধনেই বিএনপি শেষ মুহূর্তে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে। প্রভাবশালী এই গ্র“পটির কথা হলো বিএনপি ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশ নিলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই ২৫ থেকে ৩০টি আসন পাবে; যা দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কিছুই করা যাবে না। তাছাড়া ২০১৪ সালের মতো ২০১৯ সালেও যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে না। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচন হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। বিএনপি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে। মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়া এবং নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে বিএনপি দৃশ্যতই দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। সামনাসামনি দুই পকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নির্বাচনে অংশ নেয়া পরে সঙ্গে সুর মিলিয়ে খালেদা জিয়া বলছেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া উচিত। আবার নির্বাচনে অংশ না নেয়া পরে সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি বলছেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া মোটেও উচিত নয়। আসলে খালেদা জিয়া আছেন চরম সিদ্ধান্তহীনতায়। তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন কি না! কারণ তার সামনে ঝুলছে বেশ কয়েকটি মামলা এবং ২-১টি মামলায় দ্রুতই খালেদা জিয়ার সাজা হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই খালেদা জিয়ার মামলা আর মামলার সাজা আতঙ্কের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া প্রশ্নে এখনও চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে বিএনপি। আর এ নিয়ে তৃণমূলের প্রবল চাপেও আছে বিএনপি।
বিএনপি দলীয় আইনজীবীরা জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আড়াই শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধেই ৫ হাজারের বেশি মামলার কার্যক্রম চলছে। সারাদেশে বিএনপির প্রায় ৫ লাখ নেতাকর্মী এসব মামলার আসামি। প্রায় সব মামলাই নিশ্চিত সাজা হতে পারে এমন কিছু ধারায়। হত্যা, বিস্ফোরণ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনের পাশাপাশি মামলা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে। রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলাও। আদালতে চার্জ গঠন হচ্ছে একের পর এক মামলার।
নেতাদের মামলা পরিচালনাকারী বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বলছেন, শুধু খালেদা জিয়া নয়, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র অনেক নেতার মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের দিকে। আগামী নির্বাচনের আগে অনেকের মামলার রায় দেয়া হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সে েেত্র উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আপিল দ্রুত শেষ করে সাজা বহাল থাকলে যে কেউ নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন। তাই বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে মামলা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে আপিল চলাকালে নিম্ন আদালতের সাজা স্থগিত থাকে। আপিলের রায়ের আগেই যদি নির্বাচন হয় তবে এতে অংশ নিতে কারও কোনো বাধা থাকবে না। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ দলের নেতারা অভিযোগ করছেন, সাজা দেয়ার জন্যই তড়িঘড়ি করে মামলা শেষ করতে চাচ্ছে সরকার। তাদের ধারণা বিএনপি নেতাদের সাজা প্রদানের রায় ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনে অযোগ্য করে সরকার আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চাচ্ছে।
আইনজীবীরা জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুটি মামলার বিচার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। খালেদা জিয়ার ঘন ঘন আদালতের হাজিরার দিন ধার্য হওয়ায় চিন্তিত দলের নেতাকর্মীরা। প্রতি সপ্তাহেই তাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৩৫টি মামলা। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। স্যাগ্রহণ শেষেই যুক্তিতর্ক। এরপর যেকোনো দিন রায়। নাইকো, গ্যাটকোসহ আরও কয়েকটি মামলার বিচার কার্যক্রমও চলছে পুরোদমে। জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা হলে আইনি লড়াইয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন খালেদা জিয়া। এতে নির্দোষ রায় পাওয়ার আশা করছেন তার আইনজীবীরা। সাজা হলে নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে গিয়ে জামিন চাইতে হবে।
ইতোমধ্যে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সাজা হওয়ায় আগামী নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ আপিলের ওপর নির্ভর করছে। এক মামলায় ৭ বছরের সাজা হওয়ায় তারেক রহমানকে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হলে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। তারপর জামিন চাইতে হবে।
তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে মুখে যাই বলুক না কেন বাস্তব অবস্থা কিন্তু বিএনপি নেতাদের জন্য বেশ প্রতিকূলে রয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা রয়েছেন মামলার সাজা আতঙ্কে। এমনকি মামলার ওপর ভিত্তি করে আদালতের সাজার কারণে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে নাÑ এ ধরনের আতঙ্কে সারাদেশে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও বিরাজ করছে চরম হতাশা।

Category: রাজনীতি

About admin: View author profile.

Comments are closed.