টিপস ফর স্টুডেন্ট ভিসা ও বিজনেস ইমিগ্রেশন টু কানাডা

| November 27, 2017

মাহমুদা নাসরিন : অভিবাসীদের দেশ কানাডা বুড়োদের দেশে পরিণত হওয়ায় অনেক অভিবাসী নিচ্ছে কানাডা। ২০১৫-১৬ সালে ৩ লাখ ২০ হাজার ৯৩২ জন অভিবাসী এসেছে কানাডায়। কানাডার ইমিগ্রেশন ও সিটিজেনশিপ সূত্র বলছে, কানাডা ২০১৮ সালে কম করে হলেও ২০১৭ সালের টার্গেট ৩ লাখের সমপরিমাণ অভিবাসী নেবে।
কানাডা বিশ্বের অন্যতম ধনী, উন্নত ও নিরাপদ দেশ। এমন একটি দেশ প্রতি বছর কমপে তিন লাখ অভিবাসীকে স্বাগত জানাচ্ছে, যখন অন্যান্য উন্নত দেশে অভিবাসন প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ বললেই চলে। কানাডার মতো উন্নত, জবাবদিহিতামূলক এবং কল্যাণব্রতী রাষ্ট্র যতই অভিবাসী আনুক না কেন দেশটি তার সিটিজেন এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্টরা যেন জব না হারায় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রেখেই কাজ করছে। আর সেজন্যই প্রতিটি ফরেনার নেয়ার সময় পজিটিভ খগওঅ বা লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট দরকার হয়।
যাই হোক, এখন আসুন কানাডাতে এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে ঢুকে পড়ার কিছু টিপস জেনে নিই। আজকের টিপস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং বিজনেস ইমিগ্র্যান্টদের জন্য। ২০১৭ সালে চালু হওয়া আটলান্টিক ইমিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় আটলান্টিক তীরের ৪টি প্রভিন্স নোভাস্কোশিয়া, নিউব্র্যান্সউইক, নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর এবং প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডের যেকোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটি বা কলেজে কমপে দুই বছরের ডিপ্লোমা করলে তিন বছর পর্যন্ত পোস্টগ্র্যাজুয়েট ওপেন ওয়ার্কপারমিট পাওয়া যায়। পড়ার সময় ২০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ তো আছেই। এই সময় ওই সব প্রভিন্সে যদি আপনার এক বছরের ফুলটাইম জব অফার থাকে তাহলেই আপনি পিআর-এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। এটি আপনাদের জন্য খুব সহজেই কানাডায় পিআর হওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। এবার আসুন দেখি বিজনেস ইমিগ্রেশন কিভাবে আপনাকে কানাডায় এক্সপ্রেস এন্ট্রি পেতে সাহায্য করতে পারে।
২০ জুলাই ২০১৭ তে কানাডা ওনার অপারেটেড ওয়ার্কপারমিট নামে একটি নতুন ধরনের ওয়ার্কপারমিটের ব্যবস্থা করেছে, যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব থেকে মিড লেভেলের বিজনেস ওনাররা সহজেই পরিবার নিয়ে কানাডায় চলে আসতে পারেন। সর্বনিম্ন ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করে জেনুইন বিজনেস দাঁড় করানোর জন্য ফ্যামিলিসহ এক বছরের ওয়ার্কপারমিট নিয়ে আপনি কানাডা চলে আসতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, এটি গ্রোসারি স্টোর দেয়া বা লন্ড্রি, গ্যাসস্টেশন বা মম অ্যান্ড পপ শপ-এর মতো ব্যবসা হলে হবে না। আপনার ওনারশিপ কমপে ৩৩.৫% হতে হবে এবং বিজনেসটির রেভিনিউ বছরে কমপে এক মিলিয়ন ডলার হতে হবে।
আপনি এ ধরনের একটি বিজনেস কিনতেও পারেন অথবা নতুনও শুরু করতে পারেন। তবে এক্সিস্টিং বিজনেস কেনাই রিস্ক ফ্রি। বেবিবুমার ব্যবসায়ীরা অবসর নিচ্ছেন এবং তাদের ফ্যামিলি মেম্বাররা নিজেদের পেশা নিয়ে ব্যস্ত, তারা তাদের ফ্যামিলি বিজনেসে সময় দিতে পারছেন না। তাই এক্সিস্টিং এবং ট্রাস্টেড বিজনেস কেনাও সম্ভব। কানাডিয়ান সরকার দেখতে চায় ব্যবসাটি করার মাধ্যমে আপনি কমপে একটি ফুলটাইম জব তৈরি করতে পেরেছেন এবং আপনার ইউনিক বিজনেস নলেজ এবং আইডিয়া কানাডিয়ানদের মধ্যে ট্রান্সফার হচ্ছে। এ ধরনের ওয়ার্কপারমিটের জন্যও আটলান্টিক প্রভিন্সগুলো অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। অন্টারিও, ব্রিটিশ কলম্বিয়া এবং কুইবেকে অনেক বেশি পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট করতে হয় এবং প্রভিন্সিয়াল নমিনেশন পাওয়া বেশ কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক। এই ধরনের বিজনেস পারচেজ বা ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে ১২ থেকে ২০ মাসের মধ্যে আপনি ফ্যামিলিসহ কানাডায় পিআর অর্থাৎ পারম্যানেন্ট রেসিডেন্ট হতে পারবেন। ২০১৫ সালে চালু হওয়া ফেডারেল গভর্নমেন্টের ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা আইআইভিসি চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত মাত্র ১২ জনের কম এই প্রকল্পের আওতায় কানাডা আসতে পেরেছে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া স্টার্ট আপ ভিসা ফেইল করার পর কানাডার সাবেক ইমিগ্রেশন মিনিস্টার এবং বর্তমানে চীনে কানাডার অ্যাম্বাসেডর ঔড়যহ গপঈধষষঁস এটিকে ‘নন-এক্সিস্টেন্ট এবং নট ভেরি প্রাকটিক্যাল’ আখ্যা দিয়েছিলেন। কানাডার একমাত্র প্যাসিভ ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম যেটি একমাত্র কুইবেকে চালু আছে এবং যা অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এটিতে আছে মাত্র ১ হাজার ৯০০ কোটা যার মধ্যে ১ হাজার ৩৩০টি কোটা চীনের জন্য বরাদ্দ এবং বাকি মাত্র ৫৭০টি সারা বিশ্বের জন্য বরাদ্দ। এই প্রোগ্রামে ১.৬ মিলিয়ন নেট সম্পদ থাকতে হয়, ৮ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করতে হয়।
প্রিয় পাঠক, আপনি চাইলে কানাডা যাওয়ার চেষ্টা করতেই পারেন। তবে আপনাদেরকে সবিনয়ে জানাতে চাইÑ পৃথিবীর এক মেরু থেকে আর এক মেরুতে মায়ের এবং দেশের উষ্ণ কোল এবং প্রতিষ্ঠিত আইডেন্টিটি ছেড়ে বরফের দেশে সম্পূর্ণ শূন্য থেকে শুরু করে নতুন আইডেন্টিটি তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয় আসলে বাস্তবে তা ততোটা সহজ নয়। সবাই তা পারে না, পারার দরকারও নেই এবং এটি নির্ভর করে প্রত্যেক মানুষের ইউনিক অবস্থার ওপরে। অভিবাসীরাও দেশের জন্য ভাবে, কাঁদে। তারা দেশকে মিস করে বলেই বিদেশেও বাংলাদেশের স্বাদ নেয়ার চেষ্টা করে, সন্তানদের বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখায়, তাদেরকে বাংলাদেশে বেড়াতে নিয়ে আসে। আমার খুব প্রিয় কবিতার একটা লাইন দিয়ে শেষ করি আজÑ ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে; এই বাংলায়, হয়ত মানুষ নয়- হয়ত বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে’।
লেখক : মাহমুদা নাসরিন
রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন
কনসালটেন্ট অ্যান্ড কমিশনার অফ অথস
ক্যানবাংলা ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস
৩০৯৮ ডানফোর্থ এভিনিউ, স্যুট ২০৫

Tags:

Category: ফিচার

About admin: View author profile.

Comments are closed.