পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট কারোরই কাম্য নয়

| November 27, 2017

পিইসি ও জেএসসি পরীার বৈধতা নিয়ে একজন আইনজীবী রিট করলে এই পরীা পদ্ধতিকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে নাÑ এই মর্মে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সম্প্রতি এ রিটের কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার বৈধতা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, লাখ লাখ মামলা পড়ে আছে, আদালতে তার কোনো খবর নেই। আর শিশুরা পরীা দেবে কি দেবে না সেটা নিয়েও মামলা করে বসে থাকে। সেটা নিয়েও রিট। সেটা নিয়ে কোর্ট সময় কাটায়। অথচ অনেক জরুরি মামলা আছে সেগুলোর ব্যাপারে কোর্টের সময় নেই। এই সমস্ত খুচরা জিনিস নিয়ে কোর্ট সময় কাটায় কেন? আমি জানি না কোর্ট কি রায় দেবে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ করার যদি রায় দেয় এর থেকে দুঃখের আর কিছু থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের কল্যাণের জন্য এটা করছি। আমরা উচ্চশিা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। হয়ত দেখা যাবে কোনো একদিন কেউ রিট করে বসে থাকবে যে, কেন আমরা শিার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিইসি ও জেএসসি পরীা পদ্ধতি আমিই চালু করেছি। দায় যদি কিছু হয় সেটা আমার। এতে সমস্যাটা কী হয়েছে? আগে ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীার জন্য হাতেগোনা কয়েকটি ছেলেমেয়েকে বাছাই করে তাদের আলাদাভাবে শিকরা পড়াত। শিকরাই ঠিক করে দিত কোন ছেলেমেয়ে বৃত্তি পরীা দেবে। অন্য শিার্থীদের দিকে শিকরা নজর দেয় না। যাদের বাদ দেয়া হলো তাদের মধ্যে কি কেউ মেধাবী নেই? কেন তারা বঞ্চিত হবে? এসব দিক বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম হাতেগোনা কয়েকজন নয়, ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে সবাই পরীা দেবে। মেধাবী ও গরিব ছাত্রছাত্রীরা বৃত্তি পাবে। পরীা শেষে তারা একটি সার্টিফিকেট পাবে, এতে এসব ছাত্রছাত্রীর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আগে ছাত্রছাত্রীদের এসএসসি পরীা দেয়ার সময় তাদের ভয়-ভীতি থাকত। কিন্তু এই পিইসি ও জেএসসি পরীা ব্যবস্থা থাকায় এবং এ দুটি পরীা দিয়ে সার্টিফিকেট পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা শিার্থীদের আর এসএসসি পরীা দেয়ার সময় ভয়-ভীতি থাকে না। এতে করে পরীার ফলাফল প্রতি বছরই ভালো হচ্ছে আর শিার্থীদের স্কুলে ধরে রাখাও যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে, পিইসি ও জেসসি পরীক্ষার মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মনে পরীক্ষা নিয়ে যে ভয়-ভীতি থাকে তা কেটে যায়। এই দুটি পরীক্ষা নেয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে যে, এ বিষয়ে সমালোচনাকারীর অভাব নেই। তবে দেখা যাচ্ছে সরকারের ভালো কাজ যারা সহ্য করতে পারেন না, সমালোচনাকারীদের মধ্যে তাদের সংখ্যাটাই বেশি। এবার আবার এই পরীক্ষা কেন বন্ধ করা হবে না, তা নিয়ে রিটও হয়ে গেছে। এই রিটের বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীকে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা সরকার কেন নিচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতো আমরাও মনে করি, অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের চেয়ে সব শিক্ষার্থীর নিয়ে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা আয়োজন করাই শ্রেয়। এতে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য অধিক পরিমাণে যোগ্য হয়ে ওঠে এবং অন্য স্কুলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ভয়-ভীতি থাকে তা-ও কেটে যায়। তাই আমরা মনে করি, অন্তত পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা নেয়ার মতো বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া মোটেও কাম্য নয়।

Category: কলাম

About admin: View author profile.

Comments are closed.