প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষাখাতে সরকারের অর্জন ম্লান করছে : এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি

| November 27, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাথমিক শিা সমাপনী (পিইসি) থেকে শুরু করে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষাÑ সব পরীক্ষারই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে পরীক্ষার আগের রাতে। এতদিন ৫০০ থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পাওয়া যেত। তবে এবারের পিইসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে বিনে পয়সায়। ফেসবুকে বিনে পয়সার প্রশ্ন পেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটটিতে। ফেসবুক থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের তুলনায় অভিভাবকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় সারাদেশের পিইসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পড়াশুনা বাদ দিয়ে প্রায় সব শিক্ষার্থীই তার অভিভাবকের ফোন সেটটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যেসব অভিভাবক নিজের ফোন সেটটিতে ফেসবুক অ্যাক্টিভেট করতে পারছিলেন না, তারা নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনতে মার্কেটের দিকে ছুটতে থাকেন। পিইসি পরীক্ষায় বিনে পয়সার প্রশ্ন বিলিয়ে ফেসবুক এ যাত্রায় বাংলাদেশ থেকে লাখ পনেরোর মতো নতুন সদস্য সংগ্রহ করে নেয়। অনেকেই তার জীবনের প্রথম ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি খোলেন ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের আশায়। শুধু পিইসিই নয়, জেএসসি থেকে শুরু করে মাস্টার্স, ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, ব্যাংকের চাকরির পরীক্ষা, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষাÑ এমনকি বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে দেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি প্রশ্নবোধক চিহ্নের ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। গত ১০ বছরে দেশের শিক্ষাখাতে সরকারের অর্জন কম নয়। কিন্তু সব অর্জনই ম্লান হয়ে যাচ্ছে মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত; নইলে এটি মহামারী আকার ধারণ করবে।
সদ্য শেষ হওয়া জেএসসির প্রায় সব কটি পরীার প্রশ্ন মিলেছে কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে। একই গ্রুপ ও পেজ থেকে এখন পিইসির প্রশ্নও পাওয়া যাচ্ছে। এসব গ্রুপ পেজের কোনো কোনোটির সদস্য সংখ্যা অর্ধলাধিক। ‘চঝঈ ঔঝঈ ঝঝঈ ঐঝঈ ছঁবংঃরড়হ ঝঁমমবংঃরড়হ. অষষ ইড়ধৎফ ঊীধসরহব ২০১৮+২০১৯+২০+২১ ইউ’ নামের একটি পাবলিক গ্রুপে ‘গফ জধংবষ’ নামের একজন বিজ্ঞান বিষয়ে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রশ্নের ছবি পোস্ট করেন। পরীা শেষে দেখা যায়, ফাঁস হওয়া এ প্রশ্নের সঙ্গে ঢাকা অঞ্চলের প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। এই ফেসবুক গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৫৪ হাজার। জেএসসি পরীার প্রশ্ন-উত্তর আসার পর থেকে গ্রুপটিতে সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। পিইসি পরীা শুরুর পর ফের সদস্য বাড়তে দেখা গেছে। প্রশ্ন ফাঁসকারীদের মতো প্রশ্ন অনুসন্ধানে পোস্ট ও মন্তব্যকারীদের সংখ্যাও কম নয় এ গ্রুপে। এ গ্রুপের আরেক সদস্য ‘ঋড়পঁং ইড়ু জড়হু’ রাত ২টার পরে কয়েক সেট প্রশ্ন ও উত্তর পোস্ট করেন। প্রাথমিক বিজ্ঞান প্রশ্নের রচনামূলক অংশের ১০টি প্রশ্নের মধ্যে চারটি প্রশ্নই তাঁর দেয়া প্রশ্নপত্রে রয়েছে।’
‘চঝঈ ঔঝঈ ঝঝঈ ঐঝঈ ঊীধস ঐবষঢ়রহম ঈবহঃবৎ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘ঞড়ষব কযধহ’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে রাত ১০টা ১ মিনিটে দুটি প্রশ্নপত্র পোস্ট করা হয়। তার একটি হুবহু মিলে যায় ঢাকা অঞ্চলের প্রশ্নের সঙ্গে। এ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। দুটি ফেসবুক গ্রুপেই বিনা টাকায় প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে।’
বিনে পয়সার মতো টাকার বিনিময়েও ফেসবুকে প্রশ্নপত্র মিলেছে। দরাদরি করে চলেছে বেচাকেনা। শিশুদের পরীার প্রশ্নপত্র বিক্রির নামে অরাজকতা যারা চালাচ্ছে দৃশ্যত তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও প্রশাসন কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। নেই এসব কর্তৃপরে তরফেও প্রতিরোধের কোনো উদ্যোগ। পিইসির প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেই কোনো মনিটরিং কমিটিও। ফলে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে কি না এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে না কেউ। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ও গোয়েন্দা ইউনিটও জানে না কিছুই!
২৩ নভেম্বর পিইসিতে অনুষ্ঠিত হয় ইসলাম ও নৈতিক শিা বিষয়ের পরীা। পরীা শুরুর আগের রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে এই ‘প্রশ্ন’ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় পরীা শেষে পাওয়া মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মিল রয়েছে। নৈর্ব্যক্তিক অংশের চেয়ে রচনামূলক অংশেই মিল বেশি। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ঘোষণা দিয়ে বলা হচ্ছে আগে ইনবক্সে কথা চূড়ান্ত করতে হবে। ঢাকার একজন শিার্থী জানায়, ইসলাম ও নৈতিক শিা পরীার সময় হলে অনেকেই বলেছে, তারা ফেসবুকে প্রশ্ন দেখে এসেছে এবং এর সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম এ বিষয়ে স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘আমিও শুনেছি, পিইসি পরীায় প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। আবার বলা হচ্ছে এসব নাকি ভুয়া। প্রশ্ন মিলে না। তদন্ত করার পর বের হবে আসল বিষয়।’ প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, তাঁদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংঘবদ্ধ অপরাধ দলের প্রধান, বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সূত্র পেলে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখব।’
‘পিএসসি জেএসসি এসএসসি এইচএসসি অল ঢাকা বোর্ড কোয়েশ্চেনস ২০১৭’ পেজে এম ডি মোশাররফ আইডি থেকে টাকার বিনিময়ে ফলাফল পরিবর্তনেরও বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। ০১৭৩৮৩৪১৮৯৩ বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। একই পেজে শামিম ইসলাম নামে একটি আইডি থেকে যাদের গণিত প্রশ্ন লাগবে তাদের যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেখানে দেয়া হয়েছে আরেকটি বিকাশ ০১৭৫০৭১৩৯০৯ নম্বর।
সাদা অ্যাপ্রন, মেঘ বালক, এনকে নাহিদ হাসান, অরিন খান, খন্দকার রিজভি আলম, হিমু আহমেদ, এমডি রবিন সরকার, আনুয়ারুল হকসহ বেশ কয়েকটি আইডি থেকে গণিত প্রশ্নপত্র বিক্রির ঘোষণা দিতে দেখা যায়। সেখানে যারা লাইক বা কমেন্ট করছে তাদের মধ্যে বিষয়টি যে অপরাধÑ এমন কোনো ভাবলেশ দেখা যায়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ জাতীয় অনেক গ্র“প থেকেই প্রাথমিকের প্রশ্নপত্র বিক্রির অফার দেয়া হচ্ছে। ‘পিএসসি জেএসসি এসএসসি এইচএসসি ডিগ্রি অনার্স মাস্টার্স অ্যাডমিশন টেস্ট বিসিএস জব কোয়েশ্চেনস আউট’ পেজে বেশি পাওয়া যাচ্ছে প্রশ্ন। অলি জামিল নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রশ্ন শিরোনামের গ্র“পে সতর্কও করা হয়েছে, ‘আগে টাকা দিয়ে প্রশ্ন নেবেন না কেউ, লাস্ট টাইম ওয়ার্নিং। টাকা মাইর গেলে আমরা দায়ী না। কেউ আগে টাকা দিয়ে বাঁশ খাইলে অ্যাডমিন দায়ী না।’ ওই পেজে ‘আফিফ স্বাদ’ নামের একটি আইডি থেকে প্রশ্নপত্র দিয়ে বলা হয়, ‘গণিত প্রশ্ন, টাকা লাগবে না। হেল্প করতে পারলেই খুশি।’
প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এ বিষয়ে বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে কোনো কোনো েেত্র পরীা শুরুর আধাঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন আসছে বলে আমরা মিডিয়ায় দেখেছি। এখন ৭ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে একজন দুষ্টু লোক থাকতে পারে, যে পরীা শুরুর আগে মোবাইলে ছবি তুলে তা ছড়াতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক আছি। তবে অনেক সময় শিকরা সাজেশন দিলেও অনেকাংশে মিল থাকে। সেটাও কেউ কেউ ছড়িয়ে দেয়। কয়েকটা প্রশ্ন মিললে সেটাকে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস বলা চলে না।’
ডিবির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘আমাদের জেএসসি পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে মনিটরিং আছে। গত এক বছরে আমরা ৯টি মামলায় অনেককে গ্রেপ্তার করেছি। এসএসসি প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সাভারের এক স্কুল শিকসহ ১১ জনকে ধরা হয়েছে। কারণ শিা মন্ত্রণালয়ের এ ব্যাপারে একটি মনিটরিং কমিটি আছে, যেখানে আমিও সদস্য। আমাদের বলা হয়েছে, এসব চক্রের হোতাদের খুঁজে বের করে জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। তবে পিইসির েেত্র এমনটি নেই। এখানে প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।’
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে পরীা কেন্দ্রে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। সেইসঙ্গে পরীা কেন্দ্রের প্রবেশ পথগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী আর্চওয়ে বা হ্যান্ড মেটালডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। শুধু পরীার্থী নয়, পরীার হলে দায়িত্ব পালনকারী ও কেন্দ্রে যাতায়াতকারী সবাইকে এমন পরামর্শ মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিা মন্ত্রণালয় ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপরে সঙ্গে সিআইডি ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে।
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত শতাধিক বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে অন্তত ৭০ বারই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) মাধ্যমে। এরমধ্যে ২০১০ সালের ৮ জুলাই রংপুরে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক নিয়োগ পরীার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভুয়া পরীার কেলেঙ্কারির ঘটনায় পরীা স্থগিত করার ঘটনা রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল।
ভিন্ন জগৎ নামে একটি বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রের ৩টি ক ভাড়া নিয়ে সেখানে সহকারী শিক নিয়োগ পরীার পরীার্থীদের আগাম পরীা নেয়ার সময় ৫ দালালসহ ১৬৭ জন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গোপনীয় শাখাসহ পুরো বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ত্র“টির তথ্য ওঠে আসে। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পিএসসির বিতর্কিত সদস্য ড. মাহফুজুর রহমান ও তার দুই ভাগ্নেসহ কয়েকজন পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তার নাম প্রকাশ পায়।
এমন ঘটনার পর বিজি প্রেসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬২ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে দুই ইউনিটে দুইটি বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠন করা হয়। পাশাপাশি শিা মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বয় করে প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে কাজ করতে থাকে। বিজি প্রেসের প্রশ্নপত্র শাখাকে অন্য মুদ্রণ শাখা থেকে আলাদা করা হয়। প্রশ্নপত্র শাখায় বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর, পেপার ডিটেক্টর, ভোল্ড ডোর, ক্যামকোর্ডার ও সিসি ক্যামেরা। গোপনীয় শাখা পুরোপুরি মূল প্রেস ভবন থেকে আলাদা করে প্রবেশপথ ও বিজি প্রেসের সাধারণ শাখার আলাদা আলাদা প্রবেশ গেট তৈরি করা হয়। প্রতিটি গেটে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়। গোপনীয় শাখার মুদ্রিত প্রশ্নপত্র সিলগালা করে রাখতে নতুন স্ট্রং রুম তৈরি করা হয়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনিটরিং করা হয় পুরো বিজি প্রেস। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎসব চলছেই।
কিছু অভিভাবক ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পেছনে ছুটলেও আতঙ্কে রয়েছেন অধিকাংশ অভিভাবক। আর এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় শিশুমনেও এর প্রভাব পড়ছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের উচ্চপদস্থ কাউকে কটূক্তি করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু দিনের পর দিন ফেসবুকে মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রশ্নপত্র দেয়ার পরও সরকার এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তি দেয়া তো দূরের কথা বিষয়টি স্বীকার পর্যন্ত করেনি।
জানা যায়, প্রায় প্রতি বছরই পিইসি পরীার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। তবে শুধু ২০১৪ সালে একবারই প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তখন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আশরাফুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিকের বাংলায় ৫৩ এবং ইংরেজি বিষয়ে ৮০ শতাংশ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে ‘আমূল’ পরিবর্তনের সুপারিশ করে বিজি প্রেসের কাগজ শনাক্ত করার জন্য সফটওয়্যার ব্যবহার করতে বলা হয়। এছাড়া প্রশ্নপত্র তৈরি ও বিতরণে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। তবে গত বছর থেকে সারাদেশে আট সেট প্রশ্নপত্র দেয়া হচ্ছে। এক জেলার সঙ্গে পাশাপাশি জেলার প্রশ্ন ভিন্ন রাখা হয়।
জানা যায়, এসএসসি ও সমমানের পরীায় অংশ নেয় প্রায় ১৭ লাখ পরীার্থী। এজন্য বোর্ড রয়েছে ১০টি। সে হিসাবে প্রতি বোর্ডের অধীনে গড়ে ১ লাখ ৭০ হাজার শিার্থী ভাগে পড়ে, যা নিতেই অনেক কষ্ট করতে হয় বোর্ডগুলোকে। কিন্তু পিইসি ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীায় অংশ নেয় প্রায় ৩০-৩১ লাখ পরীার্থী। কিন্তু এর জন্য কোনো বোর্ড নেই। প্রাথমিক শিা অধিদপ্তর ও ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্রাইমারি এডুকেশন (নেপ) তাদের অতিরিক্ত কাজের অংশ হিসেবে যৌথভাবে এই পরীা পরিচালনা করে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে নেপ। আর পরীা গ্রহণের দায়িত্ব প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরের। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক শিার্থীর পরীা নেয়ার সমতা নেই এই পরীার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা দুটির। ২০০৯ সাল থেকে এই পরীা চালু হলেও গত ৮ বছরেও গঠিত হয়নি প্রাথমিক শিা বোর্ড। তাই অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠন করা এখন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাবোর্ড গঠন না করে ৩০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে আয়োজিত পিইসি পরীক্ষা নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

Category: প্রতিবেদন

About admin: View author profile.

Comments are closed.