বিপিএল থেকেই তরুণ ক্রিকেটার খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি

| November 27, 2017

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) অনেক তরুণ ক্রিকেটার খুঁজে পায়। এসব তরুণ ক্রিকেটার পরবর্তীতে ভারতের জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে রীতিমতো তারকা বনে যায়। বিপিএল তরুণ ক্রিকেটার পাওয়ার উর্বর ক্ষেত্র হওয়ায় পরবর্তীতে আইপিএলের আদলে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দণি আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানও এ ধরনের আসর আয়োজন করে। এতে করে সব দেশই এ ধরনের প্রিমিয়ার লিগ থেকে তরুণ ক্রিকেটার খুঁজে পেতে থাকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবার নিয়ে চলছে পঞ্চমবারের মতো। তবে আগের চারটি আসর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দল সেভাবে কোনো তারকা খেলোয়াড় না পেলেও বিপিএল চিনিয়ে দিয়েছিল সাব্বির রহমানের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান, আবু হায়দার রনির মতো পেসারকে। যদিও সাব্বির টিকে থাকলেও রনি টিকতে পারেননি। এবার বিপিএল নিয়ে কিছুদিন আগেই জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেছেন, তিনি নতুন মেধার অন্বেষণ করছেন। সেটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি জাতীয় দল আছে নতুন ক্রিকেটারের সংকটে। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, সাব্বির, সৌম্য, মোস্তাফিজ, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদসহ অন্যান্যদের পরে আর তেমন কোনো নতুন ক্রিকেটার উঠে আসেনি। যে কারণে উপরোল্লিখিত ক্রিকেটাররা ব্যর্থ হলেও সেভাবে কাউকে যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলমান বিপিএল থেকে তারা ৫০ জনেরও বেশি নতুন ক্রিকেটার খুঁজে বের করবে।
এবার বিপিএল থেকে জাতীয় দলের পাইপ লাইনে আসার মতো ক্রিকেটার খোঁজার কাজ চলছে পুরোদমে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু অবশ্য সন্ধানে আছেন ভালো কয়েকজন পারফর্মার পাওয়ার আশায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সব দলের ফ্রন্টলাইনে বিদেশি ক্রিকেটাররা খেলায় আধিপত্য করছে। এই জিনিসটা কমতো যদি আরেকটা দল থাকতো। দল কম থাকায় চাপটা চলে আসছে। কিন্তু সুযোগ পেলে ভালো খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু সব দলেরই ফ্রন্টলাইনে বিদেশি ক্রিকেটাররা খেলছেন, সেহেতু দেশি খেলোয়াড়দের জন্য পারফর্ম করা কষ্টকর। তাদের খুব পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবুও আশাহত হতে নারাজ সাবেক এ ক্রিকেটার। কারণ বিপিএল শেষ হতে এখনও অনেক দেরি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরা যদি এই টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত ৫ জন ভালো পারফর্মারও পাই, সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া হবে। একেকটা দল ১২টা করে ম্যাচ পাবে। এখন পর্যন্ত (২৬ নভেম্বর) ৩টি করে খেলা হয়ে গেছে। আমার মনে হয় যে, অন্তত ৭০ ভাগ ম্যাচ শেষ না হলে পারফর্ম মূল্যায়ন করা যাবে না।
চলতি বিপিএলে বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার ইতোমধ্যেই নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। এরই মধ্যে পুনরায় আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহীর মতো দুই পেসার এবং ব্যাটিংয়ে সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উইকেটরক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে চলেছেন। এছাড়া তরুণ পেসার হোসেন আলী এবং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান নজর কেড়েছেন। গত বিপিএলে ওপেনিং ব্যাটসম্যান মেহেদী মারুফ মারদাঙ্গা মনোভাবের ব্যাটিং করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। শীর্ষ রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় তিন নম্বরে থেকে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্পেও সুযোগ করে নিয়েছেন, এমনকি নিউজিল্যান্ড সফরে জাতীয় দলের সঙ্গেও ছিলেন। সেই মারুফ এবার একেবারেই ম্লান। চলতি আসরে যে কয়জনকে জ্বলে উঠতে দেখা যাচ্ছে সেটাও খুব বেশি নয়। বিষয়টি উপলব্ধি করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। বিশেষ করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ৫ বিদেশি ক্রিকেটারকে দিয়ে খেলানোর নীতি গড়ে এখন বিতর্কের মুখে পড়ে ভিন্ন পথে এগোনোর পরিকল্পনা করছে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখনও নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এজন্য ভবিষ্যৎ প্রতিভা তৈরি ও টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তৈরির জন্য আরও বেশি এ ফরম্যাটে খেলা জরুরি। তাই আরেকটি টুর্নামেন্ট অচিরেই চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যেখানে শুধুই প্রতিনিধিত্ব থাকবে দেশি ক্রিকেটারদের।
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এ বিষয়ে বলেন, অন্য টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোতেও এমন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে। ভারতেও অঞ্চলভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসর হয়ে থাকে যেখানে শুধুই দেশের ক্রিকেটাররা অংশগ্রহণ করেন। অনেক রাজ্যে আলাদা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও আয়োজন হয়। ইংল্যান্ডেও আছে এমন টি-টোয়েন্টি আসর। পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজেও আছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা শুধু বিপিএল ছাড়া আর কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলেন না। এ কারণেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আসরে বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। তাই অঞ্চলভিত্তিক টি-টোয়েন্টিআসর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
এ বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, একটা ব্যাপার আমরা চিন্তা করছিলাম, স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স বাড়ানো নিয়ে। আমরা ভেবেছি, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের অধীনেই আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করব শুধু স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে। হয়ত ৪-৫টি দল থাকবে। এই টুর্নামেন্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক হবে না, বিপিএলের মতো বিভিন্ন আঞ্চলিক নাম দিয়ে হবে। আমরা চাই, বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে খেলার জন্য আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা লড়িয়ে মনোভাবটা যেন গড়তে পারে। অবশ্য কবে থেকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজিত হবে সেটা এখনও ঠিক হয়নি। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অংশ নিতে পারবেন এমন একটি সময় নির্ধারণ করেই আয়োজন করা হবে টুর্নামেন্টটি। ইসমাইল হায়দার মল্লিক আরো বলেন, শুধু প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বোর্ড সভাপতি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। ৫-৭ দিনের টুর্নামেন্ট হবে। টুর্নামেন্টটি করতে হবে আইপিএলের আগে এবং আমাদের জাতীয় দলের সময়সূচি দেখে, যখন ওদের পাওয়া যাবে।
মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর মতে, এবারের বিপিএল থেকে বিসিবি প্রথমে ৫০ জন উদীয়মান ক্রিকেটার সংগ্রহ করবে। সেই ৫০ জনের তালিকা ক্রমান্বয়ে সংক্ষিপ্ত করে বিসিবি চেষ্টা করবে জাতীয় দলে খেলার মতো অন্তত ৫ জন ক্রিকেটার সংগ্রহ করতে। তবে নান্নু এটাও বলেন, এবারের বিপিএল থেকে ৫০ জন উদীয়মান ক্রিকেটার সংগ্রহ করাটা কঠিন হয়ে যাবে। কারণ প্রতিটি দলে খেলছে ৫ বিদেশি খেলোয়াড়। এত বিদেশি খেলোয়াড়ের ভিড়ে দেশি ক্রিকেটারদের পারফর্ম করাটা কঠিন। তবুও আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিসিবি কিছু ভালো ক্রিকেটার পেয়ে যাবে।

Category: খেলা

About admin: View author profile.

Comments are closed.