প্রতিবেদন

বিশ্বের তৃতীয় সৎ ও চতুর্থ কর্মঠ সরকারপ্রধানের স্বীকৃতি পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের তৃতীয় সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে অভিমত দিয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের ৪র্থ কর্মঠ সরকারপ্রধান বলে আখ্যা দিয়েছে। ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকা- বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস এই অভিমত দেয়।
সবচেয়ে সৎ সরকারপ্রধানের তালিকার শীর্ষ ৩ জন হলেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে কর্মঠ সরকারপ্রধানের তালিকায় শেখ হাসিনা রয়েছেন ৪র্থ অবস্থানে। এর আগের ৩ জন হলেন চীন ও ইরানের সরকারপ্রধান এবং তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান।
পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণা প্রতিবেদনে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেতৃত্বের সততার মান বিচার করা হয়েছে। প্রথম প্রশ্ন ছিল সরকার/রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে তিনি কি তার রাষ্ট্রের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন? দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল মতায় আসীন হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সম্পদ কতটুকু বেড়েছে। তৃতীয় প্রশ্ন ছিল গোপন সম্পদ গড়েছেন কি না। চতুর্থ প্রশ্ন ছিল সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না। আর পঞ্চম প্রশ্ন ছিল দেশের জনগণ তার সম্পর্কে কী ভাবেন?
এই পাঁচটি উত্তর নিয়ে পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস ১৭৩ দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকা- বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণায় সংস্থাটি এ রকম মাত্র ১৭ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা শতকরা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৭৩ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল। পাঁচটি প্রশ্নে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯০। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং ৮৮ পেয়ে সৎ সরকারপ্রধানদের তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন। আর ৮৭ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫ নম্বর পেয়ে বিশ্বে চতুর্থ সৎ সরকারপ্রধান বিবেচিত হয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ। আর ৮১ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণায় দেখা গেছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। সংস্থাটি গবেষণায় দেখেছে বেতন ছাড়া শেখ হাসিনার সম্পদের স্থিতিতে কোনো সংযুক্তি নেই। শেখ হাসিনার কোনো গোপন সম্পদ নেই বলে নিশ্চিত হয়েছে পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস। বাংলাদেশের ৭৮ ভাগ মানুষ মনে করেন শেখ হাসিনা সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে।
সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে সারাবিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করায় জাতীয় সংসদে এক প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বলেন, এটুকু বলতে পারি মাথায় পচন নেই, যদি গায়ে কিছু ঘা হয় তা আমরা সারিয়ে ফেলতে পারব। সরকারে ওই রকম দুর্নীতি হলে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে হতো না। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬২০ ডলারে উন্নীত হতো না। আমরা দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ধন-সম্পদ চিরদিন থাকে না। মানুষকে মরতে হয়। সব রেখে চলে যেতে হয়। তবু মানুষ অবুঝ হয়ে সম্পদের লোভে অস্থির হয়ে পড়ে। এটা মানুষের একটা প্রবৃত্তি, এই প্রবৃত্তিটা যিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তিনিই দেশ ও জনগণকে কিছু দিতে পারেন। আমরা জনগণকে কিছু দিতে এসেছি। এত রাস্তাঘাট, এত বড় বড় প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করছি, দুর্নীতি হলে এত অল্প সময়ের মধ্যে সেটা আমরা করতে পারতাম না। তাই রিপোর্টটা যাই দিক, আমার নিজের মর্যাদার থেকে বাংলাদেশের মর্যাদাটা তো উন্নত হয়েছে, সেটাই আমার কাছে বড় পাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী পেলাম, কী পেলাম না সেই হিসাব মেলাতে আমি আসিনি। কেউ আমাকে রিকগনাইজ করল কি করল না সেই হিসাব আমার নাই। আমার একটাই হিসাব এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কতটুকু কাজ করতে পারলাম, সেটাই আমার কাছে বড়। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই যাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাদের দেশে জনসংখ্যা কত? আর আমার দেশের জনসংখ্যা কত? এইটা যদি তারা একটু তুলনা করতেন তাহলে হয়ত অন্য হিসাব আসত।
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের ভূখ- ৫৫ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে ১৬ কোটির ওপর মানুষ বসবাস করে। তার ওপর আবার এখানে অন্য যারা আছেন তাদের কিন্তু জীবনে বাবা-মা, ভাই-বোন আপনজনকে হারাতে হয়নি বা অত্যাচারিত-নির্যাতিতও হতে হয়নি। জেলের ভাতও খেতে হয়নি, মিথ্যা মামলায়ও জর্জরিত হতে হয়নি আর আমাদের দেশের পরিবেশটা একটু আলাদা। আমরা যত ভালো কাজই করি না কেন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা, মিথ্যা অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয়। জেল-জুলুম অত্যাচার সহ্য করা এমনকি আমাকে বার বার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশ্বের প্রথম দিকের স্থানে আছেন এমন সরকারপ্রধানের মধ্যে একজনকেও কিন্তু ২১ আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলার শিকার হতে হয়নি। ৭৬ কেজি বোমা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়নি। বার বার আমার জীবনের ওপর যে আঘাত এসেছে এ রকম যদি বিশ্বের অন্যান্য সরকারপ্রধানের ওপর হতো তাহলে অনেকেই ঘরে বসে যেতেন।
বিশ্বের ৪র্থ কর্মঠ সরকারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কাজের েেত্র আমার ১৮ ঘণ্টা, ১৪ বা ১২ ঘণ্টার হিসাব নাই। অনেক সময় এমনও দিন যায়, রাতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারি কি না সন্দেহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই কাজ আসে সেটা করে যাই, তার কারণ আমি কাজ করি মনের টানে। আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে গেছেন। তাঁর একটা স্বপ্ন ছিল ুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন। তিনি তাঁর স্বপ্ন সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে জীবন দিতে হয়েছে আমার পরিবারকে। তাই আমার একটাই চ্যালেঞ্জ, যে কাজটা আমার বাবা করে যেতে পারেননি, সেই অধরা কাজটা আমি সম্পন্ন করে যেতে চাই। বাংলাদেশকে ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।