সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

| November 27, 2017

মেজবাহউদ্দিন সাকিল : সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের কর্মে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি জাতির অহংকার হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত
যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলে সকালে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরামন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করে। এরই ফলশ্রুতিতে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের জয়লাভ ত্বরান্বিত হয়েছে। এরপর থেকে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সকাল ৮টায় শিখা অনির্বাণের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল অভিবাদন প্রদান করে। পরে তিনি শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বার করেন। রাষ্ট্রপতির পর শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। এরপর শেখ হাসিনা পরিদর্শন বইয়ে স্বার করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে পৌঁছলে তাঁদের স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার নিজ নিজ বাহিনীর প থেকে শিখা অনির্বাণে ফুল দেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো বাহিনীর উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, পেশাগত দতা এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের প্রত্যাশার কথা বলেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলে ২১ নভেম্বর সারাদেশে সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা, বিমান ঘাঁটিসহ তিন বাহিনীর অধীন বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়। ফজরের নামাজের পর বাহিনীর মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। সকালে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পরে তিন বাহিনীর প্রধানরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করেন। দিবসটি উপলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঢাকা ছাড়াও সাভার, বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা ও রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসেও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন করা হয়। ঢাকায় সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা, চাঁদপুর ও বরিশালে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বেলা ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। সশস্ত্র বাহিনীর তাৎপর্য তুলে ধরে ওই দিন ২১ নভেম্বর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়।
সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে মতা গ্রহণের পর দেশের প্রতিরা ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ এবং সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন পদাতিক ডিভিশন ও বেশ কিছু ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিণ, অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও জনবলের েেত্র অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। পদ্মাসেতুর আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং নিরাপত্তার জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে একটি রিভারাইন ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা ও বরিশাল সেনানিবাসের কাজ শুরু হয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ল্েয ব্রিগেড পর্যায়ে স্পেশাল ফোর্স গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের পদেেপর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত এবং সক্রিয় ভূমিকায় আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বিশাল সমুদ্র এলাকায় আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ব্লু ইকোনমির কনসেপ্ট ব্যবহার করে সমুদ্রের এই সম্পদ আমাদের জাতির ভাগ্যোন্নয়নে অপরিসীম অবদান রাখতে সম। যে কারণেই আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে নৌবাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, মেরিটাইম হেলিকপ্টার এবং মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট সংযুক্ত হয়েছে। এর ফলে এ বাহিনী একটি কার্যকরী ত্রি-মাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। নৌবাহিনীর জন্য চীন থেকে কেনা সাবমেরিনের কমিশনিং হয়েছে।
বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার বিমান বাহিনীকে একটি যুগোপযোগী ও দ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানসহ কার্গো বিমান এবং উচ্চ মতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরা রাডার সংযোজন করে। সাম্প্রতিককালে আমাদের সরকার বিমান বাহিনীতে যুক্ত করেছে এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরা পেণাস্ত্র। ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় ইতোমধ্যেই বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে নতুন নতুন ইউনিট, বৃদ্ধি পেয়েছে জনবল। অনুমোদিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার এবং পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধু ও কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি। বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নততর এবং যুগোপযোগী প্রশিণ সুনিশ্চিত করার জন্য সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রশিণ বিমান ও হেলিকপ্টার। এর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নও চলমান রয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মাত্র তিনটি বিমান নিয়ে যে বাহিনীর জন্ম, সে বাহিনী আজ অত্যাধুনিক বিমান, আকাশ প্রতিরা রাডার ও পেণাস্ত্র এমনকি বিমান ওভারহোলিং প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ।
জনগণের কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীকে
মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে
ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেশবাসীর সঙ্গে একত্রে মিলে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা হবে। তাই জনগণের কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
এদেশ আমাদের, এদেশের যত উন্নতি হবে, মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ততই উত্তরণ ঘটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমানের শিা, জ্ঞান, বিজ্ঞান শিা, খেলাধুলা এবং অন্যান্য ত্রে গড়ে তুলে বাংলাদেশকে মর্যাদাবান জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলেও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিা-দীা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতির অহংকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। আপনারা যেন চেইন অব কমান্ড মেনে শৃঙ্খলা ও পেশাগত দতায় সর্বত্র প্রশংসিত হতে পারেন সেটাই আমার কাম্য। সশস্ত্র বাহিনী আজ তাদের সততা, নিষ্ঠা, কর্মদতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকা-ের জন্য সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলে আর্তমানবতার সেবা ও জান-মাল রায় সশস্ত্র বাহিনী যে আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বিপর্যস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ায় তা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে চিরকাল স্মরণ রাখবে। সম্প্রতি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সহায়তায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা দেশে-বিদেশে বহুল প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একটি ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ছিল স্বাধীনতার মূল চেতনা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে এবং বিজয়ী জাতির মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে। এই সম্মানকে ধরে রাখতে হলে সকলকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তাঁর সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতের কোনো সরকারই তার সরকারের ন্যায় এ ধরনের বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার একইসঙ্গে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ শুরু করলেও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে না পারায় সব উন্নয়ন কর্মকা- থেমে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে পুনরায় উন্নয়নের নব দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং জাতির স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন কর্মকা-ও সেই থেকে অব্যাহত রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রণীত প্রতিরা নীতিমালার আলোকেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়। এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে মতা গ্রহণের পর দেশের প্রতিরা ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ এবং সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বেশ কিছু ব্রিগেড ও ইউনিট প্রতিষ্ঠা করে। আমরা সিলেটে এবং রামুতে পূর্ণাঙ্গ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়া দণিাঞ্চলের পটুয়াখালীতেও শিগগিরই একটি নতুন পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিণ, অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও জনবলের েেত্র অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ল্য ছিল একটি দ ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা। স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি নিয়ে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র বাহিনীর যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করে গেছেন, তারই ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদতার পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে স্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর সাথে তাঁর সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্সটস থেকে নিয়মিত প্রশিণ শেষে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর ফার্স্ট বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও সেকেন্ড বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে লেফটেন্যান্ট শেখ জামালকে সম্মাননা প্রদান করায় আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। ছোট ভাই রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। সে সেনাবাহিনীর সুশৃঙ্খল কার্যক্রম দেখে অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তার ছোট্ট বুক মাত্র দশ বছর বয়সেই বিদীর্ণ করে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বলেন, আপনারা যেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে পারেন সেই প্রার্থনা করি। হেমন্তের এই বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে আপনাদের সাথে সাাতের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনাদের উপস্থিতি আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও মহিমান্বিত করেছে। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প থেকে আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

Tags:

Category: প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

About admin: View author profile.

Comments are closed.