সাভার সেনানিবাসে মিলিটারি পুলিশ কোর-সিএমপি’র বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : গণতন্ত্র অব্যাহত রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে অবদান রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

| November 27, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৩ নভেম্বর সাভার সেনানিবাসের সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের প্যারেড গ্রাউন্ডে সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলকে জাতীয় পতাকা প্রদান শীর্ষক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন। পরে তিনি সাভার সেনানিবাসে নবনির্মিত সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুল কমপ্লেক্সের শুভ উদ্বোধন করেন।
জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান প্যারেড শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিএমপি সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিতি, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠন ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ ও অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে তিনি মিলিটারি পুলিশ কোরের ১৭ জন বীর শহীদের আত্মত্যাগ এবং এ কোরের সকল সদস্যের অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সেবা ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে সেনাসদস্যরা ইতোমধ্যে জনগণের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সমগ্র জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত আমাদের সেনাবাহিনী দেশের আস্থা ও গর্বের প্রতীক। তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক ও পেশাদার এই বাহিনী দেশের ভূখ- ও সার্বভৌমত্ব সুরার পাশাপাশি রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে সর্বদাই সর্বোচ্চ আস্থা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিজেদের নিবেদিত করে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের আধুনিকায়নেও তার সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসবের ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিণ ও প্রশাসনিক সুবিধা সংবলিত আধুনিক এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন দুটি এমপি ইউনিট প্রতিষ্ঠা, সকল এমপি ইউনিটের অধিনায়কের র‌্যাংক মেজর হতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ উন্নয়ন এবং আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন দ্বারা এমপি ইউনিটসমূহকে সুসজ্জিত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নবনির্মিত এই সিএমপি কমপ্লেক্স ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান প্রশিণ প্রদানের েেত্র আরও সফলতা অর্জন করবে, এমনকি বহির্বিশ্বেও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সম হবে।
মিলিটারি পুলিশ কোর সেনাবাহিনীতে সামরিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করার ব্রত নিয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সেইসাথে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী ও বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সদস্যদের উন্নত প্রশিণ প্রদান করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠান বন্ধুপ্রতিম দেশের অফিসারসহ বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিজিবি, আনসার ও কারা অধিদপ্তরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যদের সফলভাবে প্রশিণ প্রদান করেছে। তাছাড়া জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরায় বাংলাদেশ এখন একটি ব্র্যান্ড নেম; যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে আমাদের সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের ল্েয জাতির পিতা প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরা নীতির আলোকে আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। বিশ্বমানের অত্যাধুনিক সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার ল্েয সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো বিন্যাস ও পরিবর্তনের পাশাপাশি আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট এবং কক্সবাজার জেলার রামুতে পদাতিক ডিভিশন গঠন করা হয়েছে। বরিশাল জেলার লেবুখালিতে আরও ১টি পদাতিক ডিভিশন গঠনের কাজ শিগগিরই শেষ হবে। তাঁর সরকারের নেতৃত্বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধনে আমরা সফল হয়েছি। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের সার্বজনীন মডেল।
এর আগে প্যারেড উপলে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসে এসে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ, সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
মনোজ্ঞ ও আড়ম্বরপূর্ণ জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান প্যারেডের পর প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথি, কোর অব মিলিটারি পুলিশের চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত সকল সদস্যের সাথে প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন। প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে সেনাবাহিনী প্রধান আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.), নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা।

Category: প্রতিবেদন

About admin: View author profile.

Comments are closed.