সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল নাগরিক সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা : বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ

| November 27, 2017

এম নিজামউদ্দিন : ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণকে ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা উপলে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে গত ১৯ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত ওই নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বিজ্ঞানী ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও প্রধান বিয়েট্রিস খলদুন। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ নাগরিক সমাবেশে অংশ নেন। নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ ছিল স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের নির্দেশ মেনেই বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের অনুপ্রেরণায় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল মুক্তিকামী মানুষ।
প্রায় ৪৬ বছর আগে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়েই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র জাতিকে বাঙালি জাতিসত্তার মূলমন্ত্রে আবদ্ধ করেছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি শুধু স্বীকৃতিই নয়, প্রতিশোধও বটে। ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়, ইতিহাসও সত্যকে তুলে ধরে। যতই তা মুছতে চেষ্টা করা হোক ইতিহাস তার সত্যিকারের অবস্থানটা অবশ্যই তুলে ধরবে। আজকে সেই স্বীকৃতিই বাংলাদেশ পেয়েছে। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে শুধু এই ভাষণ নয়, সমগ্র বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, সকল শহীদ, সকল মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপরে শক্তি সকলেই আজকে বিশ্বদরবারে সম্মানিত হয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যারা একদিন এই ভাষণ বাজাতে বাধা প্রদান করেছে, যারা জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে, আজকে যখন ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে তার ঐতিহাসিক দলিলে স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন তাদের কি একটুও লজ্জা হয় না। তাদের কি এখন এতটুকুও দ্বিধা হয় না।
ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর এই সম্মাননা প্রদান উপলে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ লাখো জনতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। গত ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইউনেস্কোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে নাগরিক কমিটির পে লেটার অব থ্যাঙ্কস পড়ে শোনান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নাগরিক সমাবেশ। গান, আবৃত্তি আর অতিথিদের বক্তব্যে প্রাণবন্ত এ সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ লাল ও সবুজ পোশাক পরিধান করে অংশ নেয়ায় গোটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছেয়ে গিয়েছিল লাল-সবুজে। বিশাল নৌকায় মঞ্চ এবং উদ্যানের বিভিন্ন অংশে ছোট বড় নৌকা ছাড়াও নানাভাবে সাজানো হয় ঐতিহাসিক এই উদ্যানকে।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো পাঠের পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত ধন্য মুজিব ধন্য, বাংলা মায়ের মুক্তি এলো এমন ছেলের জন্য, সাড়ে সাত কোটি মানুষের আরেকটি নাম মুজিবুর, শোন একটি মুজিবুরের থেকে ল মুজিবুরের, যত দিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরি, যমুনা বহমান ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমানÑ জনপ্রিয় এই গানগুলোর অংশবিশেষ পরিবেশন করা হয়।
এরপর ‘তুমি যে সুরের আগুন ছড়িয়ে দিলে সবখানে’ এই রবীন্দ্র সংগীতটি পরিবেশন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শিল্পী সাজেদ আকবর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘তোরা সব জয় ধ্বনি কর’ গানটি গেয়ে শোনান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদ। কবি নির্মলেন্দু গুণ স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো কবিতাটি পাঠ করেন। প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের লেখা আমার পরিচয় কবিতাটি আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। একটি ভাওয়াইয়া গান পরিবেশন করেন অনিমা মুক্তি গোমেজ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি গান পরিবেশন করেন সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা, ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আজকে বাংলাদেশ স্বাধীন। এই স্বাধীনতা ২৩ বছরের সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি। জাতির পিতাকে হত্যার পর একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মারা ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র করেছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু আজকে ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ কি দুর্ভাগ্য আমাদের ৭ই মার্চের ভাষণ একসময় নিষিদ্ধ ছিল এই বাংলাদেশে। ৭ই মার্চেও ভাষণ বাজাতে গিয়ে আমাদের বহু নেতাকর্মী জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন। আমি ধন্যবাদ জানাই কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সকল মুজিব সৈনিকদের, শত বাধা উপো করে দিনের পর দিন এই ভাষণ তারা বাজিয়ে গেছেন। যত নিষিদ্ধ করেছে তত বেশি মানুষ জাগ্রত হয়েছে এবং এই ভাষণ তারা বাজিয়েছে। পৃথিবীর কোনো ভাষণ এত দিন, এত ঘণ্টা বাজানো হয় আর মানুষ শোনে এটা আর কোনোদিন হয়নি। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা যতই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম মুছতে চেয়েছে, যতই তারা এই ভাষণ বন্ধ করতে চেয়েছে ততই মানুষের ভেতরে যে উদ্দীপনা, স্বাধীনতার চেতনা যা ছিল তা কখনও মুছে ফেলতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য এই বাংলাদেশে যারা দেশের নাগরিক তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করলো। তারাই এই ঐতিহাসিক ভাষণকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলো। এই ভাষণকে নিষিদ্ধ করলো। যারা অবৈধভাবে মতা দখলের পালা শুরু করেছিল, যারা এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করেনি, যাদের এই দেশের মাটির প্রতি কোনো টানই কোনোদিন ছিল না তারাই জাতির পিতার নাম মুছতে চেষ্টা করেছে, তাঁর ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি না এদের লজ্জা-শরম আছে কি না। কারণ এরাতো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রেতাত্মা। স্বাধীন বাংলাদেশে থাকলেও তারা ওই পাকিস্তানিদের লেজুড়বৃত্তি, তোষামোদী, চাটুকারিতা করেছে বলেই তারা ইতিহাস বিকৃতি করতে চেয়েছে।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন অনেক নেতাই বাড়িতে এসেছিলেন, অনেক লম্বা লম্বা পয়েন্ট লিখে বাবার হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে গেছেন, এই কথা বলতেই হবে, ওটা না বললে নয়। আজকে সেই দিন, বিষয়টি এমন যে, আজকে না বললে আর কখনও বলা যাবে না। এরকম নানা পরামর্শ দিয়ে ব্যতিব্যস্ত, আমাদের বাসাতো সবার জন্য খোলামেলা, সকলে আসছেন আর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, নোট ধরিয়ে দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি ভাষণ বা সভার আগে মা, বাবাকে একটু চিন্তার ক্ষেত্র প্রস্তুতের লক্ষ্যে ঘুমাবার সুযোগ করে দিতেন। সেদিনও তিনি বঙ্গবন্ধুকে ডেকে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিতে বললেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাবার মাথার কাছে তিনি বসেছেন আর মা বেগম মুজিব খাটের পাশে একটা মোড়া নিয়ে বসেছেন। বেগম মুজিব বললেন, ‘অনেকে অনেক কথাই বলবে, এই মানুষদের জন্য তুমি সারাজীবন কষ্ট করেছো, তুমি জান কি বলতে হবে। তোমার মানুষদের যে কথাটা বলতে ইচ্ছা করবে সেই কথাটাই তুমি বলবে। কারো কথা শোনার দরকার নাই। সামনে বাঁশের লাঠি পেছনে অস্ত্র, ওই পাকিস্তানিরা অস্ত্র উঁচিয়ে আছে। বাংলার মানুষের ভাগ্য তোমার হাতে।’
বেগম মুজিব কখনো প্রকাশ্য রাজনীতি না করলেও তাঁর যে রাজনৈতিক চেতনা ছিল তা বাবার কাছ থেকেই অর্জিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু ৭ই মার্চের ভাষণের সময় তিনি যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, আমি মনে করি এর থেকে শ্রেষ্ঠ পরামর্শ আর কিছুই হতে পারে না।
৭ই মার্চের ভাষণকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর একটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রনায়ক-রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে ভাষণ দিয়েছেন। প্রত্যেকটি ভাষণ ছিল লিখিত। কিন্তু ৭ই মার্চের ভাষণই একমাত্র ভাষণ যার কোনো লিখিত কপি ছিল না। হাতে কোনো নোট-নির্দেশিকা কিছুই ছিল না। এটা ছিল সম্পূর্ণই একটা উপস্থিত বক্তৃতা।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, সারাটা জীবন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যে সংগ্রাম বঙ্গবন্ধু করেছেন, সেই ভাষা আন্দোলন থেকে ধাপে ধাপে স্বাধিকার আন্দোলন, নির্বাচনে জয়ী হওয়া, এরপর মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে কী করতে হবেÑ প্রতিটি কথা তিনি এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বলে দিয়েছিলেন। প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়তে বলেছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন, এমনকি এভাবেও বলেছিলেন ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি রাস্তা-ঘাট সব বন্ধ করে দিবে।’ কারণ তিনি জানতেন কী ঘটতে পারে।
জাতির পিতার এই ভাষণে বাংলার ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কি দুর্ভাগ্য এদেশের যে, এই দেশের নাগরিক ২১টি বছর দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারেনি। যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এসব জানতে পারেনি তাদের মতো দুর্ভাগ্য আর কারো হতে পারে না। আমি আশা করবো এই স্বীকৃতি শুধু স্বীকৃতিই নয়, ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়, ইতিহাসও সত্যকে তুলে ধরে। যতই তা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হোক ইতিহাস তার সত্য অবস্থানটা অবশ্যই তুলে ধরবে। আজকে সেই স্বীকৃতিই বাংলাদেশ পেয়েছে। শুধু এই ভাষণ নয়, সমগ্র বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, সকল শহীদ, সকল মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপরে শক্তি সকলেই আজকে সম্মানিত হয়েছে বিশ্বদরবারে এই ভাষণের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে।
আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা সারাজীবন বাঙালিকে গোলাম করে রাখতে চেয়েছিল, সারাজীবন বাঙালিকে তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিল তারা পরাজিত শক্তি। জাতির পিতা চেয়েছিলেন এদেশের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে আসতে, সাংস্কৃতিক অধিকার অর্জন করতে। বাঙালি হিসেবে আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি- আমাদের যা কিছু আছে তা আমরা সমগ্র বিশ্বের বুকে সমুন্নত করতে পেরেছি। রাষ্ট্রভাষার জন্য জীবন দিয়েছে বাঙালি, ইউনেস্কো তাই আমাদের ২১শে ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই সারাবিশ্বে আমরা গর্বিত জাতি। কিন্তু এই গর্বিত উন্নত শির যেন আর কখনো পদানত না হয় সেভাবেই সমগ্র জাতিকে গড়ে তুলতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।

Tags:

Category: প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

About admin: View author profile.

Comments are closed.