কলাম

উন্মুক্ত মতামত

সচেতন হোন ভালো থাকুন

সেদিন এক বাড়িতে গিয়ে দেখলাম একটি শিশু ছবি আঁকার চেষ্টা করছে। একটি পৃষ্ঠার ছোট্ট অংশে কিছু আঁকছে আর পুরোটা সাদা অংশ রেখেই তা ফেলে দিচ্ছে। এরকম পাঁচ থেকে ছয়টি পৃষ্ঠা সে ফেলে দিল। বিষয়টা ল্য করে আমি তাকে বললাম, বাবা এই পৃষ্ঠা ফেলে দিচ্ছ কেন? সে আমাকে বলল, এটা আঁকা শেষ। আমি তাকে বোঝালাম একটি পাতার উভয় পৃষ্ঠা পরিপূর্ণ করে শেষ করা উচিত, যদি সেটা তুমি বাড়ির কাজের জন্য ব্যবহার করো। আমি তাকে এঁকেও দেখালাম। সে উৎসাহিত হলো। এই একটি অভ্যাস শিশুকে মিতব্যয়ী করে গড়ে তুলতে পারে। যদি শিশু মিতব্যয়ী হয় তবে সে সৃজনশীলও হবে। আরেকটি ব্যাপার সচেতন হওয়া জরুরিÑ সংবাদপত্র বা লিখিত কাগজে করে খাবার খাওয়া! এতে করে শরীরে প্রবেশ করতে পারে ভারী কেমিক্যাল। কারণ লেখার কালি কেমিক্যাল দিয়েই তৈরি হয়। খাওয়ার সময় কালি থেকে নিঃসৃত কেমিক্যাল দেহে মিশে যায়। বিশেষ করে তেল জাতীয় পদার্থ কালি উঠিয়ে নিতে পারে তাড়াতাড়ি আর কাগজে যে খাবারগুলো খাওয়া হয় তার বেশিরভাগই তেল জাতীয় খাবারের আওতায় পড়ে।
সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর

চাতলপাড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার চাই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়ন ১৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। চাতলপাড়বাসী নানা সমস্যায় জর্জরিত। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই একবিংশ শতাব্দীতেও এলাকার বাসিন্দারা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মৌলিক চাহিদার অন্যতম একটি হলো স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় প্রায় ৫০ হাজার নাগরিক অধ্যুষিত এ ইউনিয়নে একটি মাত্র সরকারি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। অথচ প্রায় দুই বছর হলো এখানে কোনো ডাক্তার নেই। জরুরি রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করার পর মেলে এমবিবিএস ডাক্তারের দেখা। সরকারি বিধি মোতাবেক প্রতি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু দুই বছর ধরে ডাক্তার না থাকায় প্রতিদিন শত শত লোক সরকারি চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ অবস্থায়, দ্রুত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এমবিবিএস ডাক্তারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শেখ আবুল খায়ের আনছারী
চাতলপাড়, নাসিরনগর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক গঠনে শিশুদের হৃষ্টপুষ্ট করতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। কিন্তু যে টাইট শিডিউল লেখাপড়ার তাতে সময় কোথায় খেলাধুলার! তাছাড়া মাঠের সংকট তো আছেই। ইদানীং নামি-দামি অনেক বেসরকারি বিদ্যালয়ও গড়ে উঠছে ভবন কেন্দ্রিক, নেই কোনো মাঠের ব্যবস্থা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাঠ থাকলেও তা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় খেলাধুলার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এই বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে হবে শিার্থীদের। প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেখানে মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠে শিশুরা, সেখানে অনেকটা খোঁয়াড়ে বেড়ে ওঠে আমাদের দেশের শিশুরা। উদ্ভাবনী ও গবেষণা কাজে যেখানে এগিয়ে অন্য দেশের শিশুরা, সেখানে মোটা চশমা নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে কাসে যাচ্ছে আমাদের শিশুরা। তাই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে কাসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। সকাল আটটা থেকে বেলা দুটোর মধ্যে সকল একাডেমিক কাস শেষ করতে হবে। বিকেলটা শুধু শিশুদের খেলার মাঠে ব্যস্ত রাখতে হবে। তবেই নেশামুক্ত, সুঠাম, মেধাবী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রত্যাশা করা যাবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই পরিবর্তন করলে শিশুরা বেড়ে উঠবে মুক্ত পরিবেশে, জ্ঞান-গবেষণায় দেশ এগিয়ে যাবে।
সাব্বির হোসেন
পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম

যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ব্যবস্থা নিন

যানবাহনের ড্রাইভার ও সহকারীরা মিলে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। যেখানে ভাড়া ১০-১৫ টাকা সেখানে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এর চেয়ে কম হলে তারা যাত্রীদের বাসে ওঠায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসস্ট্যান্ড বা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার দেখা যায় যে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার পরও মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী ওঠায়। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এ অবস্থায়, যারা এভাবে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলছে তাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়াসহ মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা হোক।
মকবুল হামিদ
চাঁদপুর সরকারি কলেজ

ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করুন

চিকিৎসাসেবা খাতে বর্তমান সরকারের অভাবনীয় সাফল্য রয়েছে। তারপরও বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের পে ক্যান্সারের মতো রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করার সামর্থ্য না থাকায় বিনা চিকিৎসায় প্রতি বছর বহু রোগী মৃত্যুবরণ করে। ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরীা-নিরীা করা প্রয়োজন হয়। যেমন এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিটিস্ক্যান, এমআরআই, এফএনএসি, বায়োপ্সি ইত্যাদি। ক্যান্সারের রোগীকে যথাযথ পরীা-নিরীার মাধ্যমে সম্পূর্ণ চিকিৎসা যাতে কম সময়ে কম খরচে দেয়া সম্ভব হয়, সেজন্য প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিক সকল সুবিধাসহ ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর বিষয়টি সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার আবেদন জানাচ্ছি। এই ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে সার্জারি রেডিওথেরাপি কেমোথেরাপিসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা একই ছাদের নিচে দেয়ার জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা অপরিহার্য। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য যে ওয়ার্ড রয়েছে সেখানে রেডিওথেরাপি দেয়ার ব্যবস্থা আছে। সরকারি হাসপাতালের এই ক্যান্সারের ওয়ার্ড সম্পূর্ণ ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা যায় কি না তা প্রথমে বিবেচনা করতে হবে। এই ওয়ানস্টপ চিকিৎসা দেশের সকল বিভাগে চালু করা সম্ভব হলে ক্যান্সার চিকিৎসায় অগ্রগতি চোখে পড়বে।
আব্বাস উদ্দিন আহমদ, ধোপাদিঘীর দণি পাড়, সিলেট